তীব্র গরমে ফের বেড়েছে লোডশেডিং

ফাইল ছবি
দেশে তীব্র লোডশেডিং শুরু হয় চলতি বছরের আগস্ট থেকে। ওই মাসের ১০ আগস্ট রেকর্ড ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল।
তবে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি কিছুটা সহনীয় ছিল লোডশেডিং। কিন্তু গরম বৃদ্ধির পাশাপাশি বড় কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় সেপ্টেম্বরের শেষে দেশ জুড়ে ফের বেড়েছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা।
তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কারখানার উৎপাদন। সেচ মৌসুম শুরুর সময় এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৮৬০ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১৪ হাজার ২৪৩ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৬১৭ মেগাওয়াট।
এদিন দুপুর ১২টার ডে-পিকে ১৫ হাজার ৩২৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৯২১ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৪০৭ মেগাওয়াট।
এর আগের দিন রাত ৯টায় ইভিনিং পিকে চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৮৭ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয় ১৬ হাজার ৯ মেগাওয়াট, লোডশেডিং ৯৭৮ মেগাওয়াট। রাত ১টায় ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৩৮৭ মেগাওয়াটে।
বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুগছে ছোট শহর ও গ্রামের মানুষ। কোথাও দিনে-রাতে পালাক্রমে লোডশেডিং হচ্ছে, আবার কোথাও চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির অন্যতম কারণ বড় কয়েকটি কেন্দ্রের কম উৎপাদন। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিপরীতে গতকাল দুপুরে উৎপাদন হয়েছে ৭৫০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটিতে কয়লার সংকট রয়েছে।
একই কারণে ভারতের আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন নেমেছে ৫০০-৭০০ মেগাওয়াটে। অথচ কেন্দ্রটি স্বাভাবিক সময়ে প্রায় ১৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে বাংলাদেশে।
অন্যদিকে কারিগরি ত্রুটিতে পায়রা ও মাতারবাড়ী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও কমেছে। এর বাইরে কারিগরি ত্রুটিসহ অন্যান্য জ্বালানি সংকটে কয়েকটি বড় কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় না চলায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গ্যাসের সরবরাহ সীমাবদ্ধতাও গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।




