২১ অক্টোবর থেকে দাম্মামগামী ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা

ছবি: ফোকাস বাংলা
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিকল্প ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দাম্মামগামী ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা সরকারের। রিয়াদ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরে যাত্রীদের উদ্দেশে সেটি জানিয়ে দেওয়া হবে বলে শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আগামী ২১ অক্টোবর থেকে দাম্মামগামী ফ্লাইট পুনরায় পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। তবে, এ ক্ষেত্রে দাম্মাম বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় অনুমতি প্রাপ্তিসাপেক্ষে এসব ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
বিমান বাংলাদেশের এয়ারলাইনসের জেদ্দা ও মদিনাগামী ফ্লাইট চালু আছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন। যাত্রীদের সুবিধার্থে এরই মধ্যে মদিনা রুটে অধিক যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ১৯ অক্টোবর থেকে এ রুটে আগের মতো বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া, যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় জেদ্দা রুটেও অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
উল্লিখিত রুটগুলো ফ্লাইট পরিচালনা ও সময়সূচিসংক্রান্ত পরবর্তী সময়ে হালনাগাদ তথ্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে জানানো হবে। টিকিট ক্রয়, বুকিং এবং ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা শুরুর পর এ পর্যন্ত ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামের ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৭ হাজার ৭০১ যাত্রী। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর থেকে ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যা পর্যন্ত বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৫০টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৬৪টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৮টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১২টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের ২২টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৬টি ও এয়ার ইন্ডিয়ার ৫টি বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এসব ফ্লাইটের বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রানজিট নিয়ে রিয়াদ ও দাম্মাম যাওয়ার কথা ছিল। তবে নিজ নিজ দেশ থেকে ফ্লাইট বাতিলের কারণে ঢাকা থেকে যাত্রী বহন করেনি তারা।
গত ১০ অক্টোবর রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ হয়। এতে দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত হন, আহত হন ৩০৮ জন। নিহত অন্যদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন এবং ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিশরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
এ ঘটনার রেশ না কাটতেই পরদিন অর্থাৎ ১১ অক্টোবর ফের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে নিশানা করে হুতিরা। তাতে এক প্রবাসী পাকিস্তানি নিহত হওয়ার পাশাপাশি ১১ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকা থেকে সৌদিগামী ফ্লাইট চলাচলেও।




