রাষ্ট্রপতির শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

শপথ গ্রহণের পর সই করছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম। ছবি: ভিডিও থেকে
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার রাত ৭টা ৩৮ মিনিটে বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। ২৩তম রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গণি।
শপথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, আমি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদের কর্তব্য বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব। আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব। আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিব। আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন অনুযায়ী যথাবিহীত আচরণ করিব।’ শপথের পর মির্জা ফখরুল শপথনামায় স্বাক্ষর করেন এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার তা সত্যায়ন করেন।
আজ বিকালে প্রথমে বঙ্গভবনে আসেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন নতুন রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ৬টা ২৫ মিনিটে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীপ্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমানবাহিনীপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সবাই প্রবেশ করেন বঙ্গভবনের দরবার হলে। এখানেই অনুষ্ঠিত হয় শপথগ্রহণ। অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত ও কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। এরপর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতির শপথবাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার। এরপর মন্ত্রিসভার নতুন চার সদস্যের শপথ পড়ান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।
শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য প্রায় দেড় হাজার আমন্ত্রণপত্র বিলি করা হয় বলে বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে।
রাষ্ট্রপতির এই শপথ অনুষ্ঠানে দরবার হলের প্রথম সারিতে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার একদিকে সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম, আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শর্মিলা রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান।
উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সংসদে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং শেষ চেয়ারে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও তিন বাহিনীপ্রধান।
আরও ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ব্যবাসায়ী, পেশাজীবী, শিক্ষক, সম্পাদক, আইনজীবী, প্রকৌশলীসহ রাজনৈতিক দলের নেতারা।
এদিকে, আজ বিকাল থেকেই শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবনে আসতে শুরু করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। বঙ্গভবন ও আশপাশের এলাকায় ছিল বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা।
বঙ্গভবনের আচার–অনুষ্ঠানের রীতি অনুসারে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেওয়ার পর শপথ বইয়ে সই করতে বসেন। এ সময় দুই চেয়ারে পাশাপাশি বসেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। নতুন রাষ্ট্রপতি সইয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর মাঝখানের চেয়ারে বসেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এখান থেকেই রাষ্ট্রপতির চেয়ারে আসীন হয়েছেন তিনি।
এ সময় রাষ্ট্রপতির দুই পাশের দুই চেয়ারে বসেন মেজর হাফিজ উদ্দিন ও কায়সার কামাল। শপথ অনুষ্ঠান শেষে আরেক দফা জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আর স্পিকারের দায়িত্ব নেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।









