পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফরে প্রাধান্য পাচ্ছে কোন বিষয়

দূরত্ব কাটিয়ে আবারও কাছাকাছি ঢাকা-দিল্লি। তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবার কোনো মন্ত্রী দিল্লি সফরে যাচ্ছেন। কূটনৈতিক সম্পর্কে যুক্ত কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, আগামী ৭ এপ্রিল দুই দিনের সফরে যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আলোচনার শীর্ষে থাকবে গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন এবং জ্বালানি আমদানি।
চলতি বছর শেষ হচ্ছে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত তিন দশক মেয়াদি এই চুক্তি নবায়নের বিষয়টি এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ইরান সংকট ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে কিছুটা হলেও বিপাকে ঢাকা। সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় অতিরিক্ত জ্বালানি, বিশেষ করে দিল্লির কাছে ডিজেল চাওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ছাড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ১১০ মার্কিন ডলার। এ লক্ষ্যে ভারতের জ্বালানিমন্ত্রী হরদ্বীপ পুরির সঙ্গে ড. খলিলের বৈঠক হতে পারে। যদিও বাংলাদেশসহ প্রতিবেশীদের অতিরিক্ত জ্বালানি চাহিদা বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা। এ ক্ষেত্রে ভারতের নিজস্ব জ্বালানি চাহিদা, মজুত এবং উৎপাদন সক্ষমতার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভারতীয় সূত্রগুলো বলছে, আগামী ৮ এপ্রিল ড. খলিলের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল বৈঠকে বসবেন। সফর শেষে ড. খলিল মরিশাসে অনুষ্ঠিতব্য যোগ দেবেন ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই সফরটি সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া ২০২৬-২০২৭ মেয়াদে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে ভারতের সমর্থন চাইতে পারেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আগে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনে বিশেষ উপদেষ্টা ছিলেন।
হিন্দুস্তান টাইমস উল্লেখ করেছে, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের লক্ষ্যে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে পানিপ্রবাহ ও প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। অবশ্য এ ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সম্মতিও গুরুত্বপূর্ণ।

