প্রধানমন্ত্রী
এখন গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার পরিবেশ নেই

বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: আগামীর সময়
বর্তমানে দেশে গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার পরিবেশ নেই বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন তিনি। সেখানেই সরকারপ্রধান এমন দাবি করেন।
তারেক রহমান বলছিলেন, ‘আজকের দিনটা বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনে দেশের সকল সংবাদপত্র একসময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। হাতেগোনা মাত্র চারটি সংবাদপত্র ছিল। সেখান থেকে আজ আমরা এতগুলো সাংবাদিকদের ভাইদের সঙ্গে কথা বলছি।’
‘তার মানে একটা জিনিস প্রমাণিত। সংবাদপত্রের যে টুঁটি চেপে ধরা হয়েছিল সেটি এখন নেই। আমরা দেখেছি দেশের সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে বাকশাল নামে একটা দল করা হয়েছিল। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন উনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করলেন। একই সঙ্গে সংবাদপত্রের ওপর যে রেস্ট্রিকশন ছিল সেটাও তুলে নিলেন। এরপর কি হয়েছে, কতটুকু হয়েছে এটা আপনাদের কথায় বেরিয়ে এসেছে’, যোগ করেন সরকারপ্রধান।
১৯৭৫ সালের ১৬ জুন তৎকালীন বাকশাল সরকার চারটি সরকারি প্রচারপত্র বাদে দেশের সব পত্রিকার প্রকাশনা ও ডিক্লারেশন বাতিল করে দেয়। এর প্রতিবাদে বহু বছর ধরে সংবাদমাধ্যমকর্মীরা দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকসহ গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের মতবিনিময় করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সচিবালয়ে বিভিন্ন টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী ও বার্তাপ্রধানদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। আজ মতবিনিময় করলেন বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে।
‘প্রতিশোধের মানসিকতা বদলাতে হবে’
প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, ‘আমি যখন বলেছিলাম, আসুন আমাদের নিজের চিন্তা কিছুটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। হ্যাঁ, আমার সঙ্গে হয়েছে, আপনি এখন প্রতিশোধ নিলে একদম আগের মত হয়ে যাবে? হবে না। আমরা সেই মাইন্ডসেট থেকে বেরিয়ে এসে ঠিক কি করতে পারি দেশের জন্য, সমাজের জন্য, মানুষের জন্য? পারি বা না পারি সেটা পরের ব্যাপার। চেষ্টা করতে পারি। অন্তত এই মাইন্ডসেট নিয়ে কেন সামনের দিকে এগুবো না?’
এ সময় মাদকাসক্তির বিষয়েও গুরুত্বরোপ করেন সরকারপ্রধান। ‘একটি ব্যাপারে সবাই কনসার্ন। পত্রিকায় প্রায় নিউজগুলো আসে। দেখি আমাদের ইয়াং জেনারেশনের মধ্যে ড্রাগের প্রবলেম দেখা দিয়েছে। হয়ত বিশ্বব্যাপী কম বেশি আছে। এখন আপনি কতজনকে ধরবেন, কতজনকে চিকিৎসা দেবেন, কতজনকে কাউন্সিল করবেন? রিসোর্সের লিমিট আছে, ক্যাপাবিলিটি আছে, ক্যাপাসিটি আছে।’
‘তাহলে বিষয়টি অন্য কীভাবে এড্রেস করা যায়? আরো কিছু উপায় আছে। আমাদের অবশ্যই এড্রেস করতে হবে এই সমস্যা থেকে কীভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বের করে নিয়ে আসব। তরুণদের যে এনার্জি তাকে বার্ন করার এভিনিউ দিতে হবে। একটা স্কোপ দিতে হবে।’
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমরা ঢাকা শহরসহ বাংলাদেশে যেখানেই তাকাই না কেন কয়টি খেলার মাঠ আছে? যারা এখন এসবের (ড্রাগ) মধ্যে ইনভলভ অথবা সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় আছে বুঝে হোক না বুঝে অংশ নিচ্ছে।’
তরুণ প্রজন্মের সামাজিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ঘাটতি আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্কুল পর্য়ায় থেকে এ বিষয়টি গুরুত্ব দেবার কথা তুলে ধরেন।
লন্ডনের সবুজ গাছ-গাছালির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, ‘এটা এখন খুব মিস করি। এখন তো সামার আসছে। আমাদের দেশে কোকিলের মত একটা পাখি ছিল। একটা ডাক দিলে আরেকটা ডাক দিত বিকালের দিকে। যেদিন কাজ থাকত না মাঝে মাঝে আমি ওই গান শোনার জন্যই হাঁটতাম। একটা ডাকে, আরেকটা ডাকে, আরেকটা ডাকে। মানে ইকো হচ্ছে পাখিগুলার ডাক। খুব সুন্দর লাগতো।’
‘গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাই’
‘আপনারা আমাকে অনেক সাহায্য করতে পারেন। সরকার একা পারবে না। আপনাদের সহযোগিতা না পেলে আমি বুঝতে পারব না কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ। সহযোগিতা পেলেই বুঝতে পারব। ভালো কাজের পথটা আপনাকেও দেখাতে হবে। অর্থাৎ আমাদের প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে। এই সহযোগিতাটা আমি আপনাদের কাছে চাইছি। যদি আপনারা হেল্প করেন, আমার জন্য কাজটা করতে অনেকটা ইজি হবে’, উপস্থিত সাংবাদিকদের বলছিলেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পরিবেশটা বাঁচাতে হবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাঁচাতে হবে, আমাদের সন্তানদের যেভাবে হোক রাইট ট্র্যাকে রাখতে হবে। সেটা শিক্ষার মাধ্যমে হোক, কালচারের মাধ্যমে হোক, স্পোর্টসের মাধ্যমে হোক।’
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু, সুজন মাহমুদ, শাহাদাত হোসেন স্বাধীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




