মশা নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দাবি নাসিক প্রশাসকের

সাখাওয়াত হোসেন খান, প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন
মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে সমন্বিতভাবে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উদ্ভাবিত মশক নিধন পদ্ধতি ‘ওয়েলবল’ প্রয়োগে এরই মধ্যে আশাব্যঞ্জক সাফল্য পাওয়া গেছে।
অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের হার অত্যন্ত কম। ১০ আগস্ট সচিবালয়ে দেশের ১৩ জন সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে নিয়ে সভায় আমার কাছে জানতে চেয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উদ্ভাবিত মশা মারার ‘ওয়েলবল’ সম্পর্কে। এই ‘ওয়েলবল’ এর আগে আমরা ৫০ হাজার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রয়োগ করে ভালো সাফল্য পেয়েছি। প্রচলিত মশার ওষুধ প্রয়োগ করলে যেখানে চার-পাঁচ ঘণ্টা মশা থেকে রেহাই পাওয়া যায়, সেখানে এই ‘ওয়েলবল’ প্রয়োগ করলে এক সপ্তাহ সুফল মেলে। এর কার্যকারিতা অনেক ভালো।
বিশ্ব মশা দিবস উপলক্ষে নগরবাসীকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া থেকে সুরক্ষায় ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আমার নেতৃত্বে একটি মূল কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি থানায় পৃথক কমিটি, প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে কমিটি এবং তিনটি ওয়ার্ড নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি ও মশার হটস্পট চিহ্নিত করা হচ্ছে। সকাল-বিকাল ফগার মেশিনে মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি ঝোপঝাড়, পচা পুকুর ও খাল পরিষ্কার এবং বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নগরবাসীকে সচেতন করতে ৬০ হাজার লিফলেট বিতরণ, মাইকিং এবং ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে মশাবাহিত রোগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এজন্য নগরবাসীর সচেতনতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, টব, অফিসসহ যেখানে পানি জমে থাকে, তা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
জনস্বাস্থ্য রক্ষাই সিটি করপোরেশনের মূল লক্ষ্য। কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়, সচেতন করাই প্রথম উদ্দেশ্য। তবে সচেতন করার পরও একই কাজের পুনরাবৃত্তি করে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক কার্যক্রম চালানোর ব্যাপারে সরকার থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ উন্নয়ন করতে পারলেই আমরা মশাবাহিত রোগ থেকে রক্ষা পাব।






