আগামীর সময়

সংসদে রাষ্ট্রপতি

ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে গণঅভ্যুত্থানে

ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে গণঅভ্যুত্থানে

গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ প্রদানকালে এ মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। এই বক্তব্যকে টেবিল চাপড়িয়ে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা।

রাষ্ট্রপতি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন। মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিষয়ে তথ্য জানান। কৃষি, অর্থনীতির ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপে নেবে বলে আশা করেন রাষ্ট্রপতি।

করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ নীতি নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হবে বলে উল্লেখ করেন— রাষ্ট্রপতি।

নারীর উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা সরকার করেছে বলেন রাষ্ট্রপতি। দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন সাহাবুদ্দিন।

ভাষণে খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। বলছিলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। আপসহীন থেকে লড়াই করেছেন। গণঅভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। সব শ্রেণির মানুষ গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল। হাজারও মানুষের রক্তে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে। আমি শহীদ ও ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন, নিপীড়নের শিকার মানুষদের কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।


এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর দিনই রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিয়ে হট্টগোলের সৃষ্টি হয় সংসদে। রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন বলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানালে এই উদ্ভূত পরিবেশের অবতারণা ঘটে।

এ সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তাদের হাতে প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্ল্যাকার্ডে জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না, জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যতা বন্ধ করসহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা রয়েছে। স্পিকার এ সময় সবাইকে শান্ত থাকতে আহ্বান জানান।

এর মধ্যে দিয়েই রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশনে ঢোকেন। তিনি স্পিকারের পাশে বসেন। তখন সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা ওঠে দাঁড়ান। আর বিরোধীরা বসে পড়েন। তখনও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংসদে হইচই করতে থাকেন।

এই পর্যায়ে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের আগে জাতীয় সংগীতের সুর বেজে ওঠে। এর একটু পর বিরোধীদের কেউ কেউ ওঠে দাঁড়ান। অন্যদেরও ওঠে দাঁড়াতে কাউকে হাত নাড়াতে দেখা যায়।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার বক্তব্য শুরু করলে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের পাশাপাশি স্লোগান দিতে থাকেন বিরোধীরা। রাষ্ট্রপ্রধানের ভাষণের দুয়েক মিনিটের মাথায় ওয়াক আউট করে তারা। এর মধ্য দিয়ে সংসদের প্রথম দিনেই ওয়াক আউটের ঘটনা ঘটলো।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দিয়ে তিনি যেন সংসদে ভাষণ না দেন সে দাবি আসছিল বিরোধী দল থেকে। পাশাপাশি ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল, তার ভাষণের সময় তার ওয়াক আউট করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত সেই পথেই হাঁটলো বিরোধীরা। পাশাপাশি স্লোগান দেয়, আর প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে।

প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যূত হন টানা ১৫ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা। এর তিনদিন পর ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পরে চলতি বছরের গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে বিএনপি।


    শেয়ার করুন: