রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি নিয়ে রাশিয়ার বিমান ঢাকায়

সংগৃহীত ছবি
শুক্রবার মধ্যরাতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পারমাণবিক জ্বালানি নিয়ে রাশিয়া থেকে একটি বিমান পৌঁছেছে ঢাকায়। জ্বালানিবাহী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জ্বালানির চালান নেওয়া হবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ৭টি কার্গো এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি কার্গোসহ মোট ৯টি কার্গোতে এসেছে জ্বালানি। ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো জ্বালানি সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রসাটম)।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে এরই মধ্যে জ্বালানি লোড করা হয়েছে। তবে প্রায় দেড় বছর পর ওই জ্বালানির এক-চতুর্থাংশ পরিবর্তন করতে হবে। এ কারণেই প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি আগাম আনা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর দুই বছর পরপর নির্দিষ্ট হারে জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে এবং তখন বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর জ্বালানি নিয়ে বিমানটি ঢাকায় আসার কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বিমানটি আসতে পারেনি। পরে সময়সূচিতে কয়েক দফা পরিবর্তন করা হয়। প্রথমে ১ অক্টোবর, এরপর ২ অক্টোবর জ্বালানি আসার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল।
তবে পাকিস্তান ঠিক কী কারণে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক কিংবা অসৎ কোন উদ্দেশ্য নয় বরং বিমান চলাচল সংক্রান্ত কারিগরি ও পদ্ধতিগত বিষয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুই ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শেষ হলেও নানা জটিলতায় উৎপাদনে যাওয়ার সময় পিছিয়েছে। চলতি মাসে এখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সেফটি ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। ত্রুটি মেরামতে রাশিয়া থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল এসেছে। প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রাংশও আনা হয়েছে। এটি মেরামত শেষে রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও চলছে পুরোদমে।




