চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা ও বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি

ছবি: আগামীর সময়
দেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান অবিলম্বে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।
হুঁশিয়ারি দিয়ে নেতারা জানান, এই চুক্তিগুলোর মাধ্যমে বিদেশি আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা নির্বাচিত সরকারের জন্য একটি বড় অগ্নিপরীক্ষা।
রবিবার সকালে রাজধানীতে ‘দেশ বাঁচাও বন্দর বাঁচাও আন্দোলন’ আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় নেতারা এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে এবং মোমিনুল আমিনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর আমাদের সবচাইতে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল অত্যন্ত গতিশীল। এই বন্দরকে এই মুহূর্তে কারও কাছে ইজারা দেওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বিদেশিদের হাতে বন্দর তুলে দিলে সার্বভৌমত্ব ও স্পর্শকাতর স্থাপনার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে এবং বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে চলে যাবে।’ দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যাচাই করে তাদের মাধ্যমে বন্দর পরিচালনার জোর দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও আমরা চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করতে পারিনি—এটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। বর্তমানে ডিপি ওয়ার্ল্ড নামের যে কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির কথা শোনা যাচ্ছে, তার সঙ্গে আমেরিকার নৌবাহিনীর সম্পর্ক রয়েছে।’
তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিকে ‘দাসত্বের ও অধীনতামূলক চুক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে যোগ করেন, ‘গত ৫৫ বছরে এমন স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাংলাদেশে হয়নি। বর্তমান সরকারকে এই চুক্তি বাতিল করতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি সীমান্তে ভারতীয় আগ্রাসন এবং 'বনলতা এক্সপ্রেস' সিনেমা প্রচার করতে না দেওয়ার মতো সংস্কৃতির ওপর আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানান।
জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বললেন, ‘অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু এখন নির্বাচিত সরকার কেন সেই চুক্তি বহাল রাখবে? দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।’
সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স মন্তব্য করেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, তা মূলত বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারেরই ধারাবাহিকতা। বর্তমান সরকারের উচিত হবে ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং আমেরিকার সঙ্গে করা স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সংসদে খোলামেলা আলোচনা করে তা সর্বসম্মতিক্রমে বাতিল করা। তা না হলে ধরে নিতে হবে এই সরকারও মেইড ইন আমেরিকা।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ সীমান্তে ভারতের ‘পুশইন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার আহ্বান জানান এবং বন্দর লিজ না দেওয়ার দাবিতে একাত্মতা পোষণ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে দেশ বাঁচাও বন্দর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বাস করতে চাই দেশে এখন একটি নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে দেশ এগিয়ে যাবে, যেখানে সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেশের জাতীয় স্বার্থ প্রাধান্য পাবে।’
অনতিবিলম্বে চট্টগ্রাম বন্দরের অব্যবস্থাপনা দূর করে নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় এটিকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা।






