মাহদী আমিন
মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে চায় সরকার

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ফাইল ছবি
বর্তমান সরকার একটি মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
তিনি বলেছেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাব নির্বাচনী ইশতেহারে সে সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন- আমরা একটি মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে চাই। যেখানে আমরা নতুন নতুন বিষয় চালু করব। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সকল ছাত্রছাত্রীর জন্য কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার ‘গ্লোবাল পার্টানারশিপ ফর অ্যাডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপিলার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইউনেস্কো।
এই উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, আমরা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে একটি তৃতীয় ভাষা চালু করতে যাচ্ছি। সকল ছাত্রছাত্রীর জন্য এটি চালু হতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে সেই প্রক্রিয়াও চলমান। চতুর্থ শ্রেণি থেকে সকল ছাত্রছাত্রীর জন্য আরও দুটি বিষয় বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছি। একটি হলো সংস্কৃতি এবং অন্যটি খেলাধুলা। পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাটি এমন একটি আদর্শ নিয়ে এগিয়ে যাবে, যাকে আমরা বলি “লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস।
এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের শিখতে বাধ্য করা হবে না। তারা একটি সহযোগিতামূলক পরিবেশে কাজ করবে। যেখানে ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে সর্বোত্তম সম্পর্ক থাকবে এবং তারা তাদের নিজস্ব প্রতিভা দিয়ে চেষ্টা করব, যোগ করেন তিনি।
রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসার পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নতুন সরকারের জন্য ৪৮ মিলিয়ন বরাদ্দের ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সকলকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে ধন্যবাদ জানান মাহদী আমিন।
তিনি উল্লেখ করেন, এই অর্থকে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করতে পারব বলেই বিশ্বাস করি। যা দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রয়োজনীয়তা ছিল।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এই মুখপত্র বললেন, আজ আমরা যে অনুদানটি পাচ্ছি তা সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। আমরা চাই আমাদের সকল উন্নয়ন অংশীদার ও অংশীজন সামঞ্জস্যতা বজায় থাকুক। যেখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রণীত নীতি কাঠামো, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আগামী দিনগুলিতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের অনুদান এবং দক্ষতার সঙ্গে সরাসরি সঙ্গতিপূর্ণ হবে।
সকল আন্তর্জাতিক অংশীজন এবং সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অংশীদারদের ধন্যবাদ জানিয়ে মাহদী আমিন জানান, আমরা কিছু উল্লেখযোগ্য ও অর্থবহ পরিবর্তন আনতে পারব। শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমরা আরও বেশি কার্যকর ও ন্যায়সঙ্গত করে গড়ে তুলতে চাই। এটি এমন একটি ক্ষেত্র তৈরি করবে যেখানে শহর ও গ্রামের মধ্যে বৈষম্য হ্রাস পাবে, যার জন্য আমরা প্রযুক্তিগত বিষয়ের উপরও মনোযোগ দিচ্ছি।
উদাহরণস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব প্রোগ্রাম, 'মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম'র মতো বিষয়গুলোকে আমরা অগ্রাধিকার দিতে চাই। সেজন্যই আমরা সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একই ইউনিফর্ম, একই স্কুল ব্যাগ, একই জুতো চালু করছি। সেই সঙ্গে মিড ডে মিল প্রকল্পও চালু করছি। এটি এখন জাতীয় পর্যায়ে রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে কিছু মতামত পাচ্ছি। আমাদের কাজের পদ্ধতি নতুন করে সাজাতে হবে।
মাহদী আমিন বললেন, পাঠদানের জন্য শিক্ষকরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমাদের বৃহত্তর পরিমণ্ডলের দিকেও নজর দেওয়া উচিত। এই বৃহত্তর পরিমণ্ডল বলতে বোঝায় পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষণ পদ্ধতি, প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপ, বৈষম্য হ্রাস করা। সবকিছুকে আমরা একটি ৩৬০ ডিগ্রি এঙ্গেলে হিসেবে দেখি।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টার ভাষ্য, ৪৮ বিলিয়ন ডলারের একটা গ্রান্ট কনফার্ম হয়েছে। যেখানে ইন্টারন্যাশনাল স্টেকহোল্ডাররা সবাই এক হয়ে পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে নির্বাচনী ইশতেহার রয়েছে তার আলোকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে কীভাবে আমরা আরো বেশি অন্তর্ভূক্তিমূলক করতে পারি, অংশীদারিত্ব পূর্ণ করতে পারি। যার মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্ম, যারা শিশু কিশোর রয়েছেন স্কুলে ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু করে টুয়েলভ পর্যন্ত প্রত্যেকের মেধার বিকাশ ঘটাতে পারি। সুপ্ত প্রতিভাকে আরো কীভাবে আমরা জাগরিত করতে পারি, কীভাবে তাদের দক্ষতা এবং যোগ্যতা তৈরি হয় তার জন্য কারিকুলামের ডেভেলপমেন্টের কাজ করছি।
প্রধানমন্ত্রী এই উপদেষ্টা বললেন, প্রতিটা কার্যক্রম তখনই আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব যখন আমাদের শিক্ষার্থী আর শিক্ষককে দক্ষ, যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারব। তাদের তৈরি করবে আগামী সুশিক্ষিত এবং মেধাবী শিক্ষক।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউনেস্কো প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




