ইমি-মামুনের মুক্তির দাবিতে ১৫৬ নাগরিকের বিবৃতি

সংগৃহীত ছবি
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোয় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি এবং আল মামুনের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন ১৫৬ জন বিশিষ্ট নাগরিক। সেই সঙ্গে সন্ত্রাসদমন আইনের সংস্কার দাবি করেছে তারা। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মঙ্গলবার তারা এই দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ‘বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সম্প্রচার মাধ্যম, প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবাদে আমরা জেনেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিকে গত ৭ মার্চ রাতে শাহবাগ থানার সামনে একদল মবসন্ত্রাসী প্রহারের পর পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। পুলিশ তাকে আটক রাখে এবং পরদিন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখায়। পরবর্তীতে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে। একই ভাবে ৮ মার্চ দিবাগত রাত তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলকেও একই মবসন্ত্রাসীরা পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেছে।’
বিবৃতিদাতাদের মতে, ‘নির্বাচিত সরকার যাত্রা শুরুর পরপরই জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা এবং মবসন্ত্রাস নির্মুলের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। কার্যত দেখা গেল, ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত ৭ মার্চের ভাষণ প্রচারের ঘটনাটিকে ফ্যাসিবাদের সাথে মিলিয়ে কতিপয় সন্ত্রাসী মব-হামলা করেছে পুলিশ বাহিনীর সামনেই। নির্বাচিত সরকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করার পরেও শাহবাগ থানার পুলিশের সামনেই মবসন্ত্রাসীরা তাসনীম আফরোজ ইমি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল মামুনকে মবসন্ত্রাস করে পিটিয়ে মারার প্রচেষ্টা করলেও পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা দান কিংবা মবসন্ত্রাসীদের নিবৃত্ত করতে দেখা যায়নি। উল্টো ইমি এবং মামুনকেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করা সন্ত্রাসী কার্যক্রম কিনা এমন প্রশ্ন তুলে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সন্ত্রাস দমন আইন ২০০৯-এ সন্ত্রাসী কার্যক্রম, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যকলাপ প্রতিরোধ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ২০১২ ও ২০১৩ সালে সংশোধনী এনে সাইবার মাধ্যমে সন্ত্রাসী কার্যক্রম মোকাবিলার বিষয়টা যুক্ত করা হয়। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করা কি সন্ত্রাসী কার্যক্রম?’
‘আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, তাসনীম আফরোজ ইমি নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট তো ননই, বরং তিনি বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরিচিত মুখ। তিনি শিক্ষার্থীদের, নারীদের অধিকার রক্ষাসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তৎকালীন ছাত্রলীগ কর্তৃক বারবার শারীরিক এবং মানসিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এমনকি, হাসিনা সরকারের ডিবি পুলিশ তাকে হল থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। অন্যদিকে আল মামুন গণঅভ্যুত্থানের সময় ১৮ জুলাই তারিখে ফেসবুকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে ৩০ জুলাই তারিখ তার প্রোফাইল লাল করেছেন, যা তার ফেসবুকে এখনও দৃশ্যমান।’
অবিলম্বে তাসনীম আফরোজ ও আল মামুনের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মব সৃষ্টি করে যে সন্ত্রাসী কাণ্ড সংগঠিত হয়েছে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানাই। আমরা এও মনে করি, হাসিনার আমলের সন্ত্রাসদমন আইনটি সংস্কারের মাধ্যমে জবাবদিহিতামূলক করা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।’
বিবৃতিদাতারা হলেন-
১. লেখক ও অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ
২. লেখক ও অধ্যাপক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস
৩. লেখক ও অধ্যাপক আজফার হোসেন
৪. অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন
৫. কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল
৬. সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা
৭. লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফিরোজ আহমেদ
৮. অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট সাহেদ আলম
৯. কবি-অনুবাদক-প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিন
১০. সংগীতশিল্পী ও অ্যাক্টিভিস্ট অরূপ রাহী
১১. লেখক ও অধ্যাপক রায়হান রাইন
১২.. কবি সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ
১৩. লেখক-অনুবাদক শিক্ষক জিএইচ হাবীব
১৪. কবি-প্রাবন্ধিক অধ্যাপক খালেদ হোসাইন
১৫. চলচ্চিত্রনির্মাতা নূরুল আলম আতিক
১৬. কথাসাহিত্যিক আফসানা বেগম
১৭. চলচ্চিত্র নির্মাতা খিজির হায়াত খান
১৮. কথাসাহিত্যিক ও সংগীতশিল্পী বর্ণালী সাহা
১৯. শিক্ষক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা
২০. লেখক-গবেষক টিনা নন্দী
২১. সঙ্গীতশিল্পী কারিশমা সানু সভ্যতা
২২. লেখক ও অনুবাদক গোলাম সারোয়ার
২৩. মানবাধিকার কর্মি রেজাউর রহমান লেনিন
২৪. কবি, প্রাবন্ধিক আহমেদ স্বপন মাহমুদ
২৫. কবি-প্রাবন্ধিক চঞ্চল আশরাফ
২৬. কথাসাহিত্যিক কাজী লাবণ্য
২৭. লেখক ও সংগঠক নাহিদ হাসান
২৮. চলচ্চিত্রকার খন্দকার সুমন
২৯. অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মুরশিদ সালীন
৩০. লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট রাহাত মুস্তাফিজ
৩১. কবি-প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস
৩২. লেখক ও শিক্ষক নাহিদা নাহিদ
৩৩. নির্মাতা ওয়াহিদ বিন সিরাজ
৩৪. লেখক ও শিক্ষক তাইয়্যেবুন মিমি
৩৫. অভিনয়শিল্পী নাঈমা তাসনিম
৩৬. চলচ্চিত্রকর্মী সুজন আহমেদ
৩৭. লেখক ও অধ্যাপক সিরাজ সালেকীন
৩৮. কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক অলাত এহ্সান,
৩৯. লেখক ও সম্পাদক ফরহাদ নাইয়া
৪০. লেখক ও অনুবাদক কামরুল আহসান
৪১. কবি ও গবেষক পলাশ করিম
৪২. শিল্প ইতিহাসবিদ ও পরিবেশ আন্দোলন সংগঠক আমিরুল রাজিব
৪৩. অর্থনীতিবিদ ও কিউরেটর নাঈম উল হাসান
৪৪. সাংবাদিক রাহাত আহমেদ
৪৫. কবি ও প্রাবন্ধিক আদনান আলী
৪৬. কবি ও প্রাবন্ধিক অব্যয় হাসান
৪৭. লেখক ও সাংবাদিক ধ্রুব সাদিক
৪৮. কবি রোমেল রহমান
৪৯. লেখক-শিক্ষক হাসিব উল ইসলাম
৫০. কবি হোসেন রওশন
৫১. কবি মিসবাহ জামিল
৫২. কবি-প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক সৌভিক রেজা
৫৩. কবি হাসান রনি
৫৪. কবি ও অনুবাদক লায়লা ফারজানা
৫৫. চলচ্চিত্র নির্মাতা মুহাম্মদ কাইউম
৫৬. কবি রুদ্র অহম
৫৭. কবি ও সাংবাদিক মোস্তাক আহমদ
৫৮. কবি সোহেল রানা
৫৯. গোলাম মোস্তফা, আহ্বায়ক, বাংলাদেশ যুব ফেডারেশন
৬০. লেখক ও প্রকৌশলী তানভীর সিরাজ অন্তু
৬১. কবি রণজিৎ দাশ
৬২. কবি শিমুল সালাহ্উদ্দিন
৬৩. আলিয়া বেগম, অ্যাক্টিভিস্ট
৬৪. সাংবাদিক রোকন-উজ-জামান
৬৫. সংগঠক অলীক মৃ
৬৬. সংগঠক নাইমুল ইসলাম নয়ন
৬৭. লেখক ইমাম গাজ্জালি
৬৮. লেখক ও সংগঠক সাদিক আলম
৬৯. কথাসাহিত্যিক পিওনা আফরোজ
৭০. সাংবাদিক মোছাব্বের হোসেন
৭১. পরিবেশ সংগঠক আলমগীর কবির
৭২. ভাস্কর সৈয়দ মামুন রশিদ
৭৩. ভাস্কর আয়েশা হান্নান ইরিন
৭৪. চিত্রশিল্পী কানিজ অদিতি
৭৫. ছাত্র আন্দোলন কর্মী ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলী
৭৬. কথাসাহিত্যিক জিয়া হাশান
৭৭. লেখক ও সাংবাদিক মো মুক্তাদির রশীদ
৭৮. চলচ্চিত্র নির্মাতা ধ্রুব হাসান
৭৯. কবি ও সাংবাদিক ইরাজ আহমেদ
৮০. শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠক সুব্রত শুভ্র
৮১. কবি ও সঙ্গীতশিল্পী ফারিয়া মতিন ইলা
৮২. চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজিব রাফি
৮৩. লেখক ও রাজনৈতিক কর্মী মারজিয়া প্রভা
৮৪. চিত্রশিল্পী অনিন্দ্য নাহার হাবীব
৮৫. লেখক ও রাজনৈতিক কর্মী ফেরদৌস আরা রুমী
৮৬. কবি অমৃতা ইশরাত
৮৭. কবি অনুরুদ্ধ গোস্বামী
৮৮. কবি কাজী দীন মুহম্মদ
৮৯. অভিনয়শিল্পী ইমতিয়াজ বর্ষণ
৯০. লেখক ও অনুবাদক আসিফ কিশোর
৯১. কবি ও সাংবাদিক হাসান জামিল
৯২. কবি ও অধ্যাপক রায়হান শরীফ
৯৩. ছাত্র রাজনীতিকর্মী সীমা আক্তার
৯৪. ছাত্র নেতা লামিয়া আক্তার
৯৫. কবি ও গীতিকার সোমেশ্বর অলি
৯৬. কবি রনক জামান
৯৭. সাংবাদিক নাসরিন আখতার
৯৮. কবি দিপংকর মারডুক
৯৯. কথাসাহিত্যিক নাহিদা আশরাফী
১০০. লেখক ও অনুবাদক গৌরাঙ্গ হালদার
১০১. চলচ্চিত্রনির্মাতা জায়েদ সিদ্দিকী
১০২. চলচ্চিত্রনির্মাতা শ্যামল শিশির
১০৩. নাট্যনির্দেশক তৌফিকুল ইমন
১০৪. কবি আহমেদ মওদুদ
১০৫. লেখক ও অনুবাদক ইরফানুর রহমান রাফিন
১০৬. কথাসাহিত্যিক পলি শাহীনা
১০৭. কবি ও প্রাবন্ধিক নজরুল হায়াৎ
১০৮. লেখক তুহিন চৌধুরী
১০৯. কবি উপল বরুয়া
১১০. কবি জেনিস মাহমুন
১১১. কথাসাহিত্যিক আনিফ রুবেদ
১১২. লেখক ও সাংবাদিক মাসুদ রানা
১১৩. কবি রোজেন হাসান
১১৪. কবি বায়েজিদ বোস্তামী
১১৫. কবি নাদিম মাহমুদ
১১৬. লেখক ও অনুবাদক শামসুদ্দোহা তৌহীদ
১১৭. লেখক ও অনুবাদক নাদিরা ভাবনা
১১৮. কবি সালেহীন শিপ্রা
১১৯. সাংবাদিক জহির রায়হান জুয়েল
১২০. লেখক নওরীন সুলতানা
১২২. লেখক ও সাংবাদিক হুমায়ুন শফিক
১২৩. লেখক অনুবাদক আসিফ কিশোর
১২৪। চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সংগঠক তারেক আহমেদ
১২৫। সাংবাদিক ও শিক্ষক সুদীপ্ত সালাম
১২৬। কবি ও সম্পাদক শওকত হোসেন
১২৭। চলচ্চিত্র নির্মাতা মুন্তাকিম আল মাহিয়ান
১২৮। সঙ্গীতশিল্পী ও শিক্ষক তানজিলুর রহমান সৌমিক
১২৯। কবি লালন নূর
১৩০। লেখক ও সাংবাদিক অলকানন্দা রায়
১৩১। কথাসাহিত্যিক কাজী রাফি
১৩২। লেখক ডাঃ মনিরুল ইসলাম
১৩৩। উন্নয়ন গবেষক ও মানবাধিকার কর্মী মনজুর রশীদ বিদ্যুৎ
১৩৪। কবি ও সাংবাদিক সাদাত সায়েম
১৩৫। কবি এহসান হাবিব
১৩৬। কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক নূরুননবী শান্ত
১৩৭। ডক্টর আহমেদ আবিদ
১৩৮। চলচ্চিত্রকার তানহা জাফরিন
১৩৯। লেখক এ টি এম গোলাম কিবরিয়া
১৪০। কবি ইমরান আল হাদী
১৪১। কবি ফখরুজ জামান
১৪২। অ্যাক্টিভিস্ট বাকী বিল্লাহ
১৪৩। রাজনৈতিক কর্মী সুমি রেকসোনা
১৪৪। সাংস্কৃতিক সংগঠক বীথি ঘোষ।
১৪৫। শিল্পী অমল আকাশ
১৪৬। গবেষক মাহতাব উদ্দীন আহমেদ
১৪৭। শিল্পী সুমন হালদার
১৪৮। কবি সাম্য শাহ
১৪৯। ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মসিউর রহমান খান রিচার্ড
১৫০। ছাত্র ফেডারেশনের দপ্তর সম্পাদক অনুপম রায় রূপক
১৫১। লেখক ও সাংবাদিক সাবিদিন ইব্রাহিম
১৫২। সাংবাদিক আরিফুজ্জামান তুহিন
১৫৩। রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য রিয়াজ খান
১৫৪। কবি আতিদ তূর্য
১৫৫। লেখক ও শিক্ষক ইসমাইল সাদী
১৫৬। সংস্কৃতিকর্মী হুমায়ূন আজম রেওয়াজ

