দেখা যাক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একসময় হাতে লেখা চিঠির জায়গা নেয় ইমেইল। সিনেমার জায়গা নেয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম। দোকানে যাওয়ার বদলে সব কেনাকাটা চলে আসে ফোনের স্ক্রিনে। প্রতিটি নতুন উদ্ভাবনের পর মনে হয় এই বুঝি শেষ, এর থেকে ভিন্ন আর কিছু আবিষ্কার করা সম্ভব নয়। তবে প্রতিবার সেই আন্দাজ ভেঙে আবারও নতুন, উন্নত কোনো না কোনো উদ্ভাবন পৃথিবীতে স্থান করে নেয়। তবে ভবিষ্যতে নাকি এতদিনের এসব আবিষ্কার থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেবে মানুষ। আবার ফিরবে অ্যানালগে। আগের সেই ডিজিটাল প্রযুক্তিহীন সময়ে। বর্তমানে প্রযুক্তি নিয়ে উৎসুক এই মানবজাতিই ভবিষ্যতে খুঁজে ফিরবে আবেগ, সত্যতা ও জীবনের উৎস। আগামী বিশ্বের এমন এক ভিন্ন চিত্র দেখেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ভবিষ্যৎবিদ জন সানেই।
২০২৫ সালে নিজের ওয়েবসাইটে এই সম্ভাবনার নাম তিনি দিয়েছেন ‘দ্য অ্যানালগ রেনেসাঁ’।
সানেইর মতে, মানবজাতি যখনই প্রযুক্তির নতুন কোনো ঢেউয়ের মুখোমুখি হয়, তখন একই রকম পুরনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। প্রথমে আসে প্রতিরোধ, তারপর বিভ্রান্তি এবং শেষ পর্যন্ত অভিযোজন। তবে ভবিষ্যতে এই চক্রের কোলাহল পেছনে রেখে অসাধারণ কিছু উঠে আসবে বলে বিশ্বাস করেন সানেই। প্রযুক্তির নানা গর্জনে বিরক্ত হয়ে আসছে বিশ্বে মানুষ হওয়ার প্রকৃত এক গভীরতর অর্থ খুঁজতে নামবে সবাই। কেননা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ইন্টারনেট জগৎকে দিচ্ছে এক নতুন রূপ। সেখানে হাজারো শিল্প, ছবি, ভিডিও প্রকাশিত হলেও এগুলোর রয়েছে গভীরতার অভাব। এমন সব শিল্পকর্ম দেখতে সুন্দর হলেও তাতে কোনো আবেগ নেই। আবার অনেক সময় এআই ব্যবহারে তৈরি অনেক ভিডিও এবং ছবির নেই কোনো ভিত্তিও। এতে তৈরি হয়েছে এমন এক ডিজিটাল জগৎ, যা তথ্যে পরিপূর্ণ হলেও সেখানে রয়েছে প্রকৃত সত্য বা মৌলিকতার তীব্র অভাব। ভবিষ্যতে এই সংকট আরও অনেক বেশি গুরুতর এবং তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সানেই। তিনি বলেছেন, ‘এই কোলাহল যতই বাড়ছে, মানুষ ততই আবার সেসব কিছুর আকাঙ্ক্ষা করছে, যা খাঁটি ও সত্য বলে মনে হয়।’ সানেইর মতে, অ্যানালগ যুগের এই নবজাগরণ কোনো অনগ্রসর পদক্ষেপ নয়।






