হ য় তো

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ব্যস্ত শহরের আকাশছোঁয়া কংক্রিট ভবনের মধ্যে দাঁড়িয়ে অসংখ্য গাছ। প্রতিটি বৃক্ষ বিশাল আকারের। তবে কোনো গাছের ডালে পাখি বসে না। কেননা প্রতিটি ডালে ডালে ঝুলছে কৃষি ক্ষেত। পাতার জায়গায় রয়েছে চাষের মঞ্চ। আর মাটির বদলে প্রযুক্তির সাহায্যে সেখানে বেড়ে উঠছে শাকসবজি ও ফলমূল। কল্পবিজ্ঞানের গল্প মনে হলেও, এমন এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়েছে ‘স্কাইফার্ম’ নামক একটি অভিনব নকশা। দক্ষিণ কোরিয়ার আপ্রিল্লি ডিজাইন স্টুডিওর প্রস্তাবিত এ প্রকল্প আলো দেখতে পারে ২০৪০ সালে। এ বিষয়ে ২০১৪ সালে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ুবিষয়ক ওয়েবসাইট গ্রিটস।
ভিন্ন ধরনের এ নকশার মূল লক্ষ্য ঘনবসতিপূর্ণ শহরে কম জায়গা ব্যবহার করে খাদ্য উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কাইফার্মকে কল্পনা করা হয়েছে একটি বিশাল প্রযুক্তিনির্ভর গাছের মতো করে। এর গোড়ার অংশ স্থিতিশীল রাখবে পুরো কাঠামোটিকে। মাঝের কাণ্ড থেকে ছড়িয়ে পড়বে আটটি বড় শাখা। প্রতিটি শাখায় থাকতে পারে ৬০ থেকে ৭০টি কৃষির মঞ্চ। পুরো নকশায় পরিকল্পনা করা হয়েছে প্রায় ১৩ একর জলনির্ভর চাষের জায়গা তৈরির। এখানে মাটি ছাড়াই গাছ জন্মানোর জন্য ব্যবহার করা হতে পারে হাইড্রোপনিক পদ্ধতি, যেখানে পানিতে দ্রবীভূত পুষ্টি উপাদানের সাহায্যে বেড়ে ওঠে উদ্ভিদ। প্রতিবেদন বলছে, বাইরের দিকের মঞ্চগুলোয় চাষ করা যেতে পারে বেশি আলো ও বাতাস প্রয়োজন এমন ফলগাছ ও সবজি। ভেতরের অংশে জন্মাতে পারে বিভিন্ন ধরনের শাক ও ভেষজ উদ্ভিদ। কৃত্রিম আলো এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও থাকতে পারে এটিতে। তবে স্কাইফার্মের ভাবনা শুধু খাবার উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। নকশা অনুযায়ী, এমন স্থাপনা ভূমিকা রাখতে পারে শহরে সবুজ উন্মুক্ত স্থান তৈরি, পানি পরিশোধন, শক্তি উৎপাদন এবং বায়ু পরিষ্কারের ক্ষেত্রেও। স্কাইফার্ম এখন মূলত একটি সম্ভাবনাময় নকশার উদাহরণ। তবে এটি দেখায়, ভবিষ্যতের শহরে কৃষি হয়তো শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আকাশছোঁয়া ভবনের বুকেও গড়ে উঠতে পারে সবুজের নতুন ঠিকানা।



