এবং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
উইলিয়াম শেকসপিয়ারের ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ নাটকের সেই বিখ্যাত ডায়ালগ— ‘হোয়াট’স ইন আ নেম?’ মানে, ‘নামে কী আসে যায়?’ যায় নিশ্চয়ই এবং সেটি যায় বলেই এত বিতর্ক! এই যেমন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের কথাই ধরা যাক— মন্ত্রীর দুই ছেলে সীমান্ত, দিগন্ত ও নিজের বংশের নামে তিনটি ইউনিয়নের নামকরণে দেশ জুড়ে সমালোচনা। এ বিতর্ক শেষ হতে না হতেই শুরু হয়েছে আরেক ঘটনা। এবার বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ের নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাব অনুযায়ী, শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন নাম রাখা হতে পারে ‘শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’।
খুব বেশিদিন
আগে নয়, চলতি মাসেরই শুরুর কথা। ঢাকার ‘কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের’ নামকরণের
প্রস্তাব করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের
সেই প্রস্তাব এককথায় নাকচ করে দেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমান। সেই সঙ্গে অনুশাসন দেন, ‘নতুন নামকরণ করতে হলে গড়তে হবে নতুন প্রতিষ্ঠান।’ কেরানীগঞ্জ
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৬ সালে। তাই প্রস্তাব নাকচ। দেশের ক্ষমতাকেন্দ্রিক
রাজনীতিতে নাম পরিবর্তনের প্রচলিত ধারার বিপরীতে এ এক দৃষ্টান্তমূলক অবস্থান; কিন্তু
সেই দৃষ্টান্ত
কতখানি প্রভাব পড়ছে সরকারের মন্ত্রিপরিষদে?
এখন কথা হলো, শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি নতুন কোনো স্থাপনা? না, ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি গড়ে ওঠে স্থানীয়দের জমির ওপর। তাহলে কী দাঁড়াল? নামকরণ করা যায় এবং সেটি নতুন স্থাপনা না হলেও নিজের নামে করা যায়। সেটি প্রধানমন্ত্রীর দেখানো দৃষ্টান্ত হোক বা না হোক, তাতে কী?




