দেখা যাক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
‘পুরুষের পৃথিবী’তে কত দাপট এই পুরুষ সমাজের। অথচ সামনের দিনগুলোতে নাকি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে আজকের দুনিয়ার এই বীর পুরুষরা! ঠাঁই হবে ‘বিলুপ্তপ্রায়’ প্রাণীদের তালিকার শিরোনামে। না, কোনো মহামারী নয়। পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা কোনো গ্রহাণুর অভিশাপেও নয়! বিপদের নাম ওয়াই (Y) ক্রোমোজম। আগামী কয়েক লাখ বছরের মধ্যেই কমতে শুরু করবে ওয়াই ক্রোমোজম। ফলে নেমে আসবে পুরুষদের সংখ্যাও। আজ থেকে চব্বিশ বছর আগে (২০০২) এমনই এক বিতর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন অস্ট্রেলিয়ার বাইওলজিস্ট জেনি গ্রেভস। চলতি বছরের মে মাসেও বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানবিষয়ক ওয়েবসাইট সায়েন্স এলার্ট।
স্কুলের জীববিজ্ঞান বইয়ের পাতায় একসময় শেখানো হয়েছিল, মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখে দুটি ক্রোমোজম— এক্স (X) ও ওয়াই (Y)। নারীদের ক্ষেত্রে দুটি এক্স ক্রোমোজম আর পুরুষের বেলায় একটি এক্স, একটি ওয়াই। অর্থাৎ পুরুষ লিঙ্গ নির্ধারণে বড় ভূমিকা ওয়াই ক্রোমোজমের। তবে গত ৩০ কোটি বছরে ওয়াই ক্রোমোজম প্রায় ৯৭ শতাংশ বৈশিষ্ট্য হারিয়েছে। এভাবে চললে আগামী আরও কিছু বছরে লিঙ্গ নির্ধারণের এ ক্রোমোজম একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে সতর্ক করেছেন গ্রেভস। আর সতি্যই তা হলে পুরুষদের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
একই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করা বাইওলজিস্ট জেন হিউগস জানিয়েছেন, কোটি কোটি বছর আগে ওয়াই ক্রোমোজমের সংখ্যা ছিল এক্স ক্রোমোজমের প্রায় সমান আকারের। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওয়াই ক্রমাগত জিন হারিয়েছে। যেখানে এক্স ক্রোমোজমে এখনো প্রায় ৯০০টির বেশি জিন রয়েছে, সেখানে ওয়াইতে টিকে আছে মাত্র কয়েক ডজন। তবে এমন ক্রোমোজম বিলুপ্তির খবর মানবদেহের জন্য একেবারে প্রথম নয়। কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে (ইঁদুর) দেখা গেছে, ওয়াই ক্রোমোজম হারিয়ে গেলেও তারা বিলুপ্ত হয়নি। অন্য জিন বা নতুন জৈবিক প্রক্রিয়া পুরুষ নির্ধারণের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে। অর্থাৎ ওয়াই ক্রোমোজম যদি অবসরও নেয়, তার জায়গায় হয়তো নতুন কোনো ‘ম্যানেজার’ এসে বসবে।
প্রসঙ্গত, প্রায় ৮৩০ কোটি মানুষের ঠিকানা এ পৃথিবীতে এখন ৪৯.৭৪ শতাংশ নারী এবং ৫০.২৬ শতাংশ পুরুষ।




