অতএব

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বাংলাদেশে শিশু নির্যাতনের ঘটনা যেন থামছেই না। একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের বিবেককে নাড়া দিলেও বাস্তবতার খুব বেশি পরিবর্তন দেখা যায় না। সম্প্রতি রামিসার ঘটনাও জাতিকে একই প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে— আমাদের শিশুরা কতটা নিরাপদ? অতএব, শিশু সুরক্ষার প্রশ্নে আর দেরি নয়; এখনই কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
শিশু নির্যাতন শুধু একটি অপরাধ নয়; এটি মানবতা, নৈতিকতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে এক নির্মম আঘাত। প্রতিটি নির্যাতনের ঘটনা একটি শিশুর স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক ঘটনাই ভয়, লজ্জা কিংবা সামাজিক চাপে প্রকাশ পায় না। ফলে অপরাধীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।
রামিসার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শুধু ঘটনার পর প্রতিবাদ জানালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং রাষ্ট্র— সবার সম্মিলিত উদ্যোগেই শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা, দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির কাজও জোরদার করতে হবে।
একটি জাতি তার শিশুদের যেভাবে মূল্যায়ন করে, ভবিষ্যৎও তাকে সেভাবেই মূল্যায়ন করে। তাই শিশু নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। কারণ কোনো শিশুই ভয় নিয়ে বড় হওয়ার জন্য জন্মায় না; তারা জন্মায় স্বপ্ন দেখার জন্য, নিরাপদে বেড়ে ওঠার জন্য। অতএব, শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা এখন সময়ের দাবি নয়, এটি জাতির ভবিষ্যৎ রক্ষার অপরিহার্য অঙ্গীকার।




