মনে হয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একজন ব্যক্তির জীবনে বড় হয়ে ওঠার সময় ধাপে ধাপে পাল্টায় তার পরিচয়। ছোট থাকতে নামেই তার পরিচয়। একটু বড় হলে সে শিক্ষার্থী, তারপর ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল বা নামিদামি প্রতিষ্ঠানের কর্মী। এত শত পরিচয়ের মধ্যে অনেক সময় হয় পরিচয় সংকট। তবে ভবিষ্যতে মানবজাতিকে বাদ দিয়ে আশপাশের জিনিসপত্রের সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে এই পরিচয় সংকট! ২০৫০ সালে একটি চেয়ার সকালে থাকতে পারে চেয়ার হিসেবেই, কিন্তু বিকালে তার মনে হতে পারে, ‘আজ একটু টেবিল হওয়া যাক।’ ভবিষ্যতে জিনিসপত্র শুধু ব্যবহারযোগ্য হবে না, তাদের থাকবে একাধিক ‘ভার্সন’। ২০৫০ সালের এমন ভিন্নধর্মী পূর্বাভাস ২০১৯ সালে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েবসাইট মিলিট্যান্ট ফিউচারিস্ট। এটি মূলত ফিউচারিজম, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং সামরিক বিষয়াবলিবিষয়ক একটি ব্লগ। ব্লগটিতে উল্লেখ করা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে মানুষের সৃষ্টি অনেক বস্তুই দেখতে হবে অনেক ভিন্ন। সেগুলোর মধ্যে থাকবে বিশেষ ধরনের ক্ষুদ্র কম্পিউটার ও সেন্সর। প্রযুক্তির কল্যাণে ভবিষ্যতের নানান জিনিস ও আসবাবপত্র হয়ে উঠবে ‘স্মার্ট’। ভিন্ন রকমের এই টেক উদ্ভাবনে ব্যাপকভাবে প্রচলিত হবে ‘প্রোগ্রামেবল ম্যাটার’ বা ‘প্রোগ্রামযোগ্য পদার্থ’-এর ব্যবহার। এ ধরনের পদার্থের মূল একক থাকবে ‘ক্যাটম’ নামক অতি ক্ষুদ্র রোবট। বালুকণার চেয়েও ছোট এই রোবটগুলো একে অন্যের সাপেক্ষে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে প্রায় যেকোনো আকৃতি ধারণ করতে সক্ষম হবে। একজন ব্যক্তির ঘরে এই প্রোগ্রামযোগ্য রোবট থাকলে চাইলে কোনো আসবাবপত্রকে অন্য কোনো বস্তুতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। এক মুহূর্তে যেই আসবাব এক অবস্থায় আছে, পরের মুহূর্তেই তা হয়ে উঠবে একেবারে ভিন্ন। তবে এই প্রযুক্তির একটি বড় বাধা হলো, ক্যাটমগুলো একে অন্যের সঙ্গে খুব একটা দৃঢ়ভাবে যুক্ত নয়। ফলে এগুলো দিয়ে তৈরি বস্তু হতে পারে বেশ ভঙ্গুর। তা ছাড়া, প্রতিটি ক্যাটম নিজেও হতে পারে ভঙ্গুর। অর্থাৎ এগুলো দিয়ে তৈরি কোনো বস্তুর উপাদানগুলো সময়ের সঙ্গে ক্ষয়ে বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।



