হয়তো

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশ থেকে বিদেশ সফর এক বিরাট ব্যাপার। যেমন মজার, তেমনি ভোগান্তিরও। বিমান ছাড়বে রাত ১০টায়। কিন্তু যাত্রীরা হাজির বিকাল ৩টায়। মূল কারণ হলো পাসপোর্ট, ভিসা, কাগজপত্র চেকের বিড়ম্বনা। এ ভয়ে পাইলটের আগে গিয়ে বিমান ধরেন এমন যাত্রীও আছেন অনেকে। তবে আজ থেকে ৪৪ বছর পর নাকি এসব থাকবে না। শুধু বিমান নয়, বাস-ট্রেন কোনোখানেই থাকবে না অপেক্ষা। কর্পূরের মতো হাওয়া হয়ে যাবে ভোগান্তি। পাসপোর্টের বদলে যাত্রীরা হৃৎস্পন্দন দিয়ে তথ্য যাচাই করেই উঠে পড়বেন বিমানে। ভবিষ্যতের বিমানযাত্রার ধরন নিয়ে ইউরোপের ‘ইজিজেট’ এয়ারলাইনসের নিয়োগ করা ভবিষ্যৎবিদদের গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। তাদের নানামুখী ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে ২০২৩ সালে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করে অস্ট্রেলিয়ার কিডসনিউজ।
বিমানযাত্রা ও বিমানবন্দরের পরিবেশ হবে বর্তমানের চেয়ে আলাদা। কাগজ, টিকিট বা পাসপোর্ট নিয়ে বিশাল লাইনে দাঁড়ানো লাগবে না বিমানবন্দরে। যাত্রীর সব তথ্য যাচাই হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। আঙুলের ছাপ বা চোখের রেটিনায় কিন্তু নয়, মানুষের ‘হার্টবিটে’। হৃৎস্পন্দন স্ক্যানিংয়ে বেরিয়ে আসবে যাত্রীর আগের যাত্রার নাড়ি-নক্ষত্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, একেকজন ব্যক্তির নাকি ভিন্ন হৃৎস্পন্দের তাল। তাই তাদের ভ্রমণবিষয়ক যা তথ্য, সবই ধারণ হবে যার যার নির্দেশক ‘ক্লাউড ফোল্ডারে’। ‘কার্ডিয়াক সিগনেচার’ দিয়েই নিজের পরিচয় দিয়ে বিমানে যাত্রা করতে পারবেন সবাই। সঙ্গের লাগেজ নিয়েও তেমন একটা যন্ত্রণা থাকবে না ৪৪ বছর পর। হারিয়ে গেছে বা মনের ভুলে ফেলে এসেছি— এসব হবে দুই দশক আগের পুরনো ব্যাপার। ২০৭০ সালে ব্যাগে লাগানো থাকবে ‘স্মার্ট ডেটা ট্যাগ’। এতে করে বাস, ট্রেন, বিমান, ট্যাক্সি— সব যানবাহন থেকে কোনো ব্যক্তি বা কর্মচারীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই নামানো যাবে মালপত্র।
সিটিং ব্যবস্থায়ও বড় পরিবর্তন আসবে ২০৭০ সালে। যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎবিদ ড. মেলিসা স্টেরির বিশ্বাস, এমন এক ‘সিটিং’ ব্যবস্থা সে সময় আসবে, যেখানে সবাই মনমতো নিজের শরীরের মাপ দিয়ে বসার চেয়ার নির্ধারণ করতে পারবেন।


