অথচ

আমি রসিকতা করতে ভীষণ পছন্দ করি। সবকিছু নিয়েই রসিকতা করতে পারি। যেমন, আমার কাজ, আমার অসুস্থতা, আমার চলা। সেটা হেলপারের সঙ্গে যেমন, তেমনি সবজি বিক্রেতা, সহকর্মী কাউকেই বাদ দিই না। এমনকি অপারেশন থিয়েটারেও। আমাকে যখন অ্যানেস্থেসিয়া দিচ্ছিলেন, তখন তাকে বললাম, আমি আবার জাগব তো? হাসতে হাসতেই ইনজেকশন পুশ করলেন স্বাস্থ্যকর্মী। জ্ঞান ফেরার পর একা একাই বলেছিলাম, তাহলে বেঁচে আছি। তবে তার মানে এই নয় যে, আমি বেরসিকের সঙ্গেও রসিকতা করতে চাই। কারণ, বেরসিক মানুষের সামনে রসিকতা করা অনেকটা মরুভূমিতে ছাতা নিয়ে দাঁড়ানোর মতো— ছাতা আছে, কিন্তু বৃষ্টি নেই!
অনেকে মনে করেন, বয়স বাড়লে মানুষকে গম্ভীর হতে হবে। হাঁটবেন ধীরে, কথা বলবেন মেপে, হাসবেন সংযতভাবে। যেন বয়সের সঙ্গে সঙ্গে হাসিটাও পেনশন নিয়ে নেবে! এটা কেন? কেউ একটু বেশি হাসলে আশপাশের মানুষ এমনভাবে তাকায়, যেন লোকটির বয়স হয়েছে বলে তাই হাসতেও পারবেন না। কিন্তু বয়স বাড়লেই কি রসিকতা বন্ধ হয়ে যায়? মোটেই নয়। বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রসিকতার বিষয়বস্তু আরও বেড়ে যায়। যৌবনে প্রেম নিয়ে রসিকতা করা যায়, আর বয়স বাড়লে ডাক্তার, প্রেসক্রিপশন, চশমা, হাঁটুর ব্যথা, ঘাড়ে ব্যথা— এগুলো নিয়েও রসিকতা করা যায়।
বয়স যতই বাড়ুক, যদি পেটের ভেতর হাসির গ্যাস থাকে, তাহলে মানুষকে বুড়ো বলা কঠিন! আমার এক বয়স্ক বন্ধুকে একদিন বললাম, ‘আপনাকে তো বেশ তরুণ দেখাচ্ছে!’ তিনি বললেন, ‘চেহারায় তরুণ, হাঁটায় প্রবীণ আর প্রেসক্রিপশনে মহাপ্রবীণ!’ আমি জানতে চাইলাম, ‘তাহলে মনটা কেমন?’ তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘মনে লালন করি আমি এখনো যুবক। তবে শুধু শরীরটা তাকে আগের মতো সায় দেয় না!’
বয়সকে ভয় নয়, সম্মান করুন। আর বয়স হয়ে গেলে গম্ভীর হওয়ার দরকার কী? একটু রসিক হোন। তাতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে। তবে সাবধান! বেরসিকের সঙ্গে রসিকতা নয়। কারণ বেরসিক মানুষ হাসে না; সে বরং জিজ্ঞেস করে, ‘এত হাসির কী আছে?’ অথচ বয়স বাড়লে কত মানুষই না টিপ্পনী কাটে।



