কালি ও কলমের টান
সাহিত্যের সঙ্গে চিত্রকলার সংযোগ

ছবি: আগামীর সময়
সাহিত্য ও চিত্রকলার গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী মন্তব্য করেছেন, গল্প-উপন্যাসের দৃশ্যকল্প অনুধাবন করেই ইলাস্ট্রেশনের কাজ করেছেন তিনি। তার মতে, সাহিত্য ও চিত্রকলার এই সংযোগ সমৃদ্ধ করে শিল্পচর্চাকে।
শনিবার ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে আয়োজিত ‘সাহিত্যে কালি ও কলমের টান : সাহিত্যের সঙ্গে চিত্রকলার সংযোগ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব বলেছেন রফিকুন নবী।
তিনি জানিয়েছেন, শিল্পী হিসেবে তার একটি যাত্রা ছিল, আরেকটি ছিল শিল্পকলাকে সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়াস। দীর্ঘদিন ইলাস্ট্রেশনের কাজ করেছেন তিনি।
তার ভাষ্য, সাহিত্যে বিশেষ করে গল্প ও উপন্যাসে দৃশ্যকল্প থাকে, সেই দৃশ্যকে অনুধাবন করে আঁকার মধ্য দিয়েই তৈরি হয়েছে তার শিল্পচর্চার একটি ধারা।
শিল্প ও সাহিত্যের পারস্পরিক নির্ভরতার নানা দিক তুলে ধরে রফিকুন নবী আরও জানিয়েছেন, ‘চিত্রালী ও বাংলাদেশ অবজারভারে কাজ করতে গিয়ে লেখক, শিল্পী ও সাহিত্যিকদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ পেয়েছি। সেখানে সবার আড্ডা হতো। সেই আড্ডাগুলো থেকেই অনেক কিছু শিখেছি আমরা। সাহিত্য নিয়ে কথা হতো, কবিতা নিয়ে কথা হতো, আন্তর্জাতিক রাজনীতি থেকে শুরু করে দেশের রাজনীতি নিয়েও আলোচনা হতো। আমার মনে হয়, ওই আড্ডাগুলি যদি না থাকত, ওই মেলামেশা যদি না থাকত, তবে আজকে এই অবস্থানে আসতে পারতাম না আমরা।’
ইলাস্ট্রেশন প্রসঙ্গে রফিকুন নবী বলেছেন, ‘আমার কাছে সবসময় মনে হয়েছে যে গল্প যেভাবে আছে, গল্পে যেসব চিত্রণ করা আছে, সেইভাবেই আঁকা উচিত। চরিত্রের বর্ণনা অনুযায়ী যদি আমি কাজ করি, তবেই তা সার্থক হয়। রিয়ালিস্টিক গল্পে অ্যাবস্ট্রাক্ট করলে জমে না। মূল চরিত্রগুলোকে ঠিকভাবে উপস্থাপন করাই ছিল আমার বিশ্বাস। সাহিত্য ও চিত্রকলার এই সংযোগ সমৃদ্ধ করেছে আমাদের শিল্পচর্চাকে।’
সিটি ব্যাংক নিবেদিত কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার ২০২৫-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন কবি সাজ্জাদ শরিফ, সাদিয়া মাহজাবীন ইমাম এবং সব্যসাচী হাজরা।
সাহিত্য ও চিত্রকলার সম্পর্ককে সাজ্জাদ শরিফ ব্যাখ্যা করেছেন আরও দার্শনিক ও নন্দনতাত্ত্বিক পরিসরে। ‘কবিতা এবং চিত্রকলা অনেক সময় পরস্পরের মধ্যে লীন হয়ে যায়, কিন্তু তাদের স্বাতন্ত্র্যও থাকে।’
রবীন্দ্রনাথের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথ কবিতা কাটাকাটির মধ্য দিয়ে যে আকার তৈরি করতেন, সেখান থেকেই তার চিত্রকলার যাত্রা শুরু। সাহিত্যে যেসব অনুভূতি তিনি প্রকাশ করতে পারেননি, অনেক সময় চিত্রকলায় তা প্রকাশ ঘটেছে।’
সাদিয়া মাহজাবীন ইমাম জানিয়েছেন, ‘সাহিত্যের সঙ্গে চিত্রকলার সংযোগ লেখ্যরূপের আগে হতে। এর প্রমাণ গুহা চিত্র। রাজনীতি ও শিল্পচর্চার ভাষার পরিবর্তনের মতো পরিবর্তন হয়েছে চিত্রকলারও। আমাদের দেশে এ দুই মাধ্যমের সহাবস্থানে এখন অনেক দূরত্ব। তবে শিল্পকৃতি তৈরির প্রক্রিয়া মানুষকে তাঁর প্রকৃত স্বত্বার সঙ্গে সংযুক্ত করে। তাই এ দুই মাধ্যমের মধ্যে সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ।’




