এই সময়ে জ্বর-সর্দি থেকে বাঁচতে ঘরোয়া টোটকা

ছবি- এআই দিয়ে তৈরি
চলছে শরৎকাল। ভাদ্র মাস শুরু কেবল। চারিদিকে একাধারে যেমন বৃষ্টি চলছে তেমনি চলছে ভ্যাপসা গরম। তাপমাত্রার ওঠানামায় চারদিকে হঠাৎ করেই বাড়ছে ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ। আবহাওয়া বদলের এই দিনগুলোতে ঘরে ঘরে অনেকেই সর্দি, কাশি, জ্বর ও শরীর ব্যথায় আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।
তবে আপনার একটু অবহেলায় এই সর্দিকাশি কিন্তু ফুসফুসেও মারাত্মক সংক্রমণে রূপ নিতে পারে। তাই ফ্লু থেকে সুরক্ষিত থাকতে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় উপায়।
দৈনন্দিন কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করলেই এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের হতে পারেন আপনি বিজয়ী।
গরম পানির গার্গল
ফ্লুর শুরুতেই যখন দেখবেন গলা বসে যাচ্ছে, নাক বন্ধ, মুখের ভেতরে অস্বস্তি লাগছে তখন কালক্ষেপণ না করেই লবণ পানির গার্গল করবেন। এজন্য এক গ্লাস গরম পানিতে এক চিমটি লবণ যোগ করে গার্গল করবেন।
আদার ব্যবহার
আদায় রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য এবং এটি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালও। এটি গলা ব্যথায় যেমন প্রশান্তি দেয়, তেমনি বমি বমি ভাব কমায়। ফ্লু-এর উপশম হিসেবে আদা চায়ের বিকল্প কিছু নেই।
মধু
মধু হচ্ছে কাশি এবং সর্দির পাশাপাশি অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের জন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল। আপনার ইমিউন সিস্টেমে বাড়তি সুবিধার জন্য এক চামচ মধু খাওয়ার সুবিধা অতুলনীয়।
ভিটামিন সি
আপনার যখন সর্দি বা ফ্লু হয়, তখন আপনার ইমিউন সিস্টেম ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে ক্লান্ত হয়ে যায়। তখন ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে এবং ঠান্ডার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এ ক্ষেত্রে কমলা, লেবু এবং ট্যানজারিন থেকে ভিটামিন সি পেতে পারেন।
রসুন
রসুনে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিভাইরাল ফ্লুর উপশম করে। এজন্য আপনি মধু দিয়ে কয়েক কোয়া রসুন, রসুন ভর্তা খেতে পারেন।
ভিটামিন ডি
ভিটামিন ডি সর্দি এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এক গ্লাস দুধ বা চর্বি যুক্ত মাছ, সকালের রোদের সংস্পর্শ ভিটামিন ডি-এর গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
গরম পানিতে গোসল
যখন ঠান্ডা সংক্রমণে আপনি কাবু, তখন গরম পানির গোসল ঠান্ডার উপসর্গগুলোকে উপশম করতে সাহায্য করতে পারে।
ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা
ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধির ক্ষেত্রে আপনার প্রথম যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির যত্ন নেওয়া উচিত তা হলো নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, যাদের ইতোমধ্যেই ফ্লুর লক্ষণ রয়েছে তাদের থেকে দূরে থাকবেন। কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময়, টিস্যু বা হাত দিয়ে মুখ এবং নাক ঢেকে রাখবেন। যাতে ফ্লু সংক্রমণ করতে না পারে।
যে কোনো অসুস্থতা বাড়তে না দিয়ে শুরুতেই যদি ঘরোয়া টোটকা বা প্রতিরোধের উপায় দিয়ে রক্ষা পাওয়া যায় তবে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক কষ্ট আর বিপুল অর্থ খরচ থেকে বাঁচা যায়। তবে মনে রাখতে হবে, ঘরোয়া এই উপায়গুলো প্রাথমিক আরাম এবং মৃদু ফ্লু উপশমে দারুণ কার্যকর হলেও এগুলো কোনো জটিল চিকিৎসার বিকল্প নয়।






