অপরাধ বিজ্ঞান
মাইন্ড হান্টার

একজন অপরাধীর মনের গহিনে ঠিক কী চলে? কীভাবে একজন সাধারণ মানুষ রূপ নেয় কোনো নির্মম সিরিয়াল কিলারে? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে সাইকোলজিক্যাল প্রোফাইলিংয়ের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল এফবিআইয়ের ক্রাইম সিন অ্যানালাইসিস ইউনিট। আর সেই রোমাঞ্চকর বাস্তব অভিজ্ঞতার দলিল নিয়ে রচিত অনবদ্য গ্রন্থ ‘মাইন্ডহান্টার: ইনসাইড দ্য এফবিআই’স এলিট সিরিয়াল ক্রাইম ইউনিট’। এফবিআইয়ের বিশেষ এজেন্ট জন ডগলাস এবং লেখক মার্ক ওলশেকারের যৌথ প্রয়াসে লেখা এ বইটি ট্রু-ক্রাইম ও থ্রিলারপ্রেমীদের জন্য এক অবশ্যপাঠ্য উপহার।
বইটির মূল আকর্ষণ এর বাস্তব পটভূমি। ১৯৭০-এর দশকে যখন ‘সিরিয়াল কিলার’ শব্দটাই অপরাধ বিজ্ঞানে পুরোপুরি নতুন, তখন এজেন্ট জন ডগলাস প্রথাগত তদন্ত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে অপরাধীদের মনস্তত্ত্ব বোঝার এক অভূতপূর্ব উদ্যোগ নেন। তিনি এবং তার দল আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ও কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারদের সামনাসামনি জেরা করা শুরু করেন।
লোমহর্ষক এ সাক্ষাৎকারগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল খুনিদের চিন্তা-চেতনা, শৈশবের আঘাত, বিকৃত মানসিকতা এবং অপরাধ করার ধরন বা ‘মোডাস অপ্যারান্ডি’ বিশ্লেষণ করা। ডগলাস বিশ্বাস করতেন, একজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে হলে আগে তার মতো করে ভাবতে জানতে হয়। এ মানসিক মানচিত্র থেকেই জন্ম নেয় ‘ক্রিমিনাল প্রোফাইলিং’, যা পরবর্তীকালে জটিল ও অমীমাংসিত অনেক অপরাধের রহস্য উদঘাটনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে।
বইটিতে কোনো কাল্পনিক গোয়েন্দা বা অতিমানবীয় গল্প নেই; বরং রয়েছে বাস্তব জীবনের কঠিন ও অন্ধকারের গল্প। খুনের ধরন দেখে অপরাধীর বয়স, শারীরিক গঠন, এমনকি তার সামাজিক অবস্থান কেমন হতে পারে— তা নিখুঁতভাবে অনুমান করার মনস্তাত্ত্বিক ছকগুলো পাঠককে রোমাঞ্চের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায়।
বিনা স্পয়লারে বলা যায়, ‘মাইন্ডহান্টার’ শুধু অপরাধীদের রহস্য উন্মোচন করে না, বরং এটি সেই সব গোয়েন্দার মানসিক সংগ্রামের গল্পও বলে, যারা প্রতিদিন মানবসভ্যতার সবচেয়ে কুৎসিত অন্ধকারের মুখোমুখি হতেন।






