Agamir Somoy E-Paper
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
মানুষ কিংবা প্রাণী সবার পাশেই মামুন
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় তিনি বললেন

আমার সব লেখাই গুরুত্বপূর্ণ

আখলাকুজ্জামান অনিক
আখলাকুজ্জামান অনিক
agamir somoy
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০০:৩৬
আমার সব লেখাই গুরুত্বপূর্ণ

বিখ্যাত প্রাবন্ধিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. আবুল কাসেম ফজলুল হক। তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতি। তার সঙ্গে আলাপ করেছেন আখলাকুজ্জামান অনিক। ছবি তুলেছেন সাজ্জাদ হোসেন

২০২৪ সালে বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। কেমন লাগছে?

এটা তো একটা সম্মানজনক পদ। কোনো বেতন নেই। কয়েকটা সভায় সভাপতিত্ব করতে হয়, এইটুকুই আমার কাজ। তা ছাড়া বাংলা একাডেমি কী করছে, সেটি একটু দেখি। বাংলা একাডেমির পরিচালনা কমিটির ত্রৈমাসিক একটা মিটিং হয়। মিটিংয়ের প্রসিডিং বের করে সেটি আমাকে দেখে দিতে হয়। কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে আমি সেটি পয়েন্ট আউট করি এবং তারা সংশোধন করে নেয়। এইটুকুই।

আসলে বাংলা একাডেমির সব কর্মকাণ্ড দেখভাল করেন মহাপরিচালক। একটা গাড়ি তারা আমাকে দেয় সর্বক্ষণ ব্যবহার করার জন্য। এ ছাড়া অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা নেই। মিটিংয়ে সভাপতিত্ব করলে কিছু টাকা দেয়। আমি কোনো কোনো ব্যাপারে মহাপরিচালককে পরামর্শ দিই অথবা মহাপরিচালক আমার মত জানতে চান, সেভাবে কাজ করেন। আমার ঠিক প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব বলে কিছু নেই। সেদিক দিয়ে দেখলে একরকম ভালোই যে আমি কোনো প্যাঁচের মধ্যে নেই, কোনো জটিলতার মধ্যে নেই।

এখন আপনার অবসর কীভাবে কাটছে?

দুই বছর ধরে একেবারেই লিখছি না। কিন্তু লেখা উচিত, এটি খুব ভালোভাবেই অনুভব করছি। হয়তো লিখব শিগগিরই। আর কয়দিন বা বাঁচব? আমার বয়স ৮৬ বছর পূর্ণ হবে আর দুই-তিন মাস পরে। এখন প্রধানত বইপত্র পড়ি। পড়েই সময় কাটাই।

আমাকে না মেরে আমার ছেলেকে মেরেছে। আমাকে মারতে পারত। কিন্তু আমাকে মারলে বেশি গণ্ডগোল হবে, সামলানো কঠিন হবে। আমার ছেলেকে মারলে সেটি হবে না। কারণ, ছেলের তো পরিচিতি কম

পড়ালেখায় আপনার মা-বাবা কেমন উৎসাহ দিয়েছেন?             

আমার জন্ম বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে। বাবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। আমাকে লেখাপড়া শেখানোর জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। যাতে পরীক্ষার ফল ভালো করি; সেই সঙ্গে দেশ, সমাজ, মানুষ ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা করি— তার এরকম একটি মনোভাব ছিল। মা ছিলেন গৃহিণী, কিন্তু সমাজ-সচেতন। প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন, কিন্তু বইপত্র পড়ায় সীমাহীন আগ্রহ ছিল। আমার বাবা কিছু কিছু লিখতেন নানা বিষয়ে এবং কোনো কোনো পত্রিকা সেগুলো ছেপেছেও। এ কারণে আমি লেখা ও পড়ার ব্যাপারে খুব আগ্রহী হই ছোটবেলায়।

ছোটবেলায় কোথায় পড়েছেন?

ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত গ্রামের বাড়িতে থেকেই পড়েছি। সপ্তম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে, সেখান থেকে ম্যাট্রিক। শিক্ষকরা আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছিলাম প্রাইমারি বৃত্তি পরীক্ষা দিয়ে। ঢাকা বিভাগে ফার্স্ট হয়েছিলাম। ষষ্ঠ শ্রেণিতে হতো মিডল ইংলিশ স্কলারশিপ। সেই পরীক্ষায়ও ঢাকা বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে পাস করি। তাতে ভালো ছাত্র হিসেবে আমার একটা খ্যাতি আমাদের গ্রামাঞ্চলে হয়েছিল।

হাই স্কুল কোথায় পড়েছেন?

মা-বাবা চাইলেন যে একটা ভালো স্কুলে পড়ি। সেই সূত্রে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে ভর্তি হয়েছি। প্রথম কিছুকাল আত্মীয়স্বজনের বাসায় থেকে পড়েছি। শেষ দিকটায় স্কুল হোস্টেলে ছিলাম। স্বাধীনভাবে লেখাপড়া করেছি। তখন নানা গণ্ডগোল ছিল। আমি কীভাবে যেন সেসবের সঙ্গে জড়িয়ে যেতাম। খারাপটার বিরুদ্ধে ভালোটার পক্ষে দাঁড়াতে চাইতাম। এসব কারণে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় যেরকম ভালো ফল করার কথা ছিল, সেরকম হয়নি।

কলেজজীবন...

তার পরে ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু পরীক্ষার সময় একটি পরীক্ষা দেওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়লাম। বাকি পরীক্ষাগুলো আর দিতে পারিনি। ঢাকা কলেজ দ্বিতীয়বার আর ভর্তি করে না। অগত্যা ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজে ভর্তি হয়ে পরীক্ষা দিয়ে পাস করলাম। মাঝখানে এক বছর নষ্ট হয়েছে।

কলেজের কোনো প্রিয় শিক্ষকের কথা মনে পড়ে?

শওকত ওসমান ছিলেন বাংলার শিক্ষক এবং বড় লেখক। স্যারের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো ছিল। তার জীবদ্দশার শেষ দিন পর্যন্ত স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। মৃত্যুর বছরখানেক আগে থেকে তিনি আমাকে নিয়মিত টেলিফোন করতেন। প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলে তারপর ছাড়তেন। আমি কম কথা বলতাম, একটু-আধটু রেসপন্স করতাম। আমার সঙ্গে কথা বলে বোধ হয় তিনি একরকম আনন্দ পেতেন।

কলেজ লাইফ থেকেই কি সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী হন?

সাহিত্যের প্রতি এক ধরনের আগ্রহ ছিল। বহু বই পড়তাম এবং কিছু কবিতা লিখতাম। কবিতা ছাড়াও প্রবন্ধধর্মী কিছু কিছু বিষয়ে লিখেছি; ময়মনসিংহ স্কুলের ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। ময়মনসিংহে কিছু কিছু পত্রিকা ছিল সাপ্তাহিক ও মাসিক; সেসব পত্রিকায় আমার লেখা ছাপা হয়েছে। লিখে আমি মনের আবেগ, চিন্তা প্রকাশ করতে পারি এবং অন্যের মন আমার লেখা দ্বারা প্রভাবিত হবে; আমি যে ধারায় চিন্তা করি, সেই ধারায় পাঠক আসবেন— এরকম একটা ধারণা নিয়ে লিখতাম। এটি অনুভব করতাম যে লেখার মাধ্যমেই বর্তমান অবস্থা থেকে মানুষ একটা উন্নততর অবস্থায় যাবে। মানুষের সেই সামর্থ্য আছে।

শওকত ওসমান ছিলেন বাংলার শিক্ষক এবং বড় লেখক। আমাকে নিয়মিত টেলিফোন করতেন। তার জীবদ্দশার শেষ দিন পর্যন্ত স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় ভর্তি হলেন কেন?

বিজ্ঞানে পড়তাম। কিন্তু পরে নানা কারণে ধারণা হয়েছে, বিজ্ঞান পড়ার জন্য যেরকম মনোযোগী হওয়া দরকার, পরিশ্রমী হওয়া দরকার সেটি আমি হতে পারি না। তা ছাড়া বাংলায় বিশেষ আগ্রহ জেগেছিল। ভাবলাম, বাংলায় পড়লে আনন্দের সঙ্গে পড়তে পারব। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হলাম ১৯৬২ সালে।

বাংলা বিভাগের শিক্ষকদের কথা মনে পড়ে?

মুহম্মদ আবদুল হাই ছিলেন বিভাগীয় প্রধান। মুনীর চৌধুরীও সারা দেশে বিখ্যাত ও প্রভাবশালী শিক্ষক ছিলেন। ইংরেজি বিভাগ থেকে বাংলা বিভাগে চলে আসেন। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সময় তিনি জেল খেটেছিলেন। বাংলা ভাষাকে অবলম্বন করে আমাদের জাতি উন্নত হবে, বাংলা ভাষার উন্নতির সঙ্গে আমাদের জাতির উন্নতির সম্পর্ক— এরকম বাঙালি জাতীয়তাবাদী মানসিকতা ছিল তার। অধ্যাপক আহমদ শরীফ তো অনেক বিষয়ে কথা বলতেন; ধর্ম সম্পর্কেও তিনি অনেক কথা বলেছেন। সরাসরি ধর্মের বিরুদ্ধে বলতেন না। কিন্তু যে কথাগুলো ক্লাসে বলতেন, পড়ার বিষয়ের বাইরে সেই কথাগুলো মানুষের মনকে ধর্ম থেকে বের করে স্বাধীন মানবিক চিন্তাশীলতার দিকে নিয়ে যায়। এটি সচেতন চেষ্টাই ছিল। মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী শান্তিনিকেতনে লেখাপড়া করেছেন। একটি সহজ-সরল মন ছিল তার। কোনো জটিলতা বা বিবাদের মধ্যে ছিলেন না। রবীন্দ্র-সাহিত্য সম্পর্কে যেসব কথাবার্তা বলতেন, সেগুলো খুব অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল এবং রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে খুব বড় ধারণা আমাদের দিয়েছিলেন। অধ্যাপক নীলিমা ইব্রাহিমের শিক্ষকতায় অসাধারণ ব্যক্তিত্বের পরিচয় ছিল।

রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় মা-বাবাও বলেছেন এবং নিজেও ভেবেছি যে ছাত্র রাজনীতিতে যাব না। ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে যেসব খবর জানতাম এবং ভর্তি হওয়ার পরেও দেখেছি, তাতে মনে হয়েছে যে এই রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া মানে লেখাপড়ার দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হব। কিন্তু ভর্তি হওয়ার পরে যখন বিভিন্ন ইস্যু আসছে এবং ছাত্ররা রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছে, তখন ছাত্রদের দাবি-দাওয়াগুলো যুক্তিসংগত মনে হয়েছে। সেগুলো হওয়া উচিত। কেন সরকার করে না? এরকম ধারণা থেকে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হই। ছাত্র ইউনিয়নের সমর্থক ছিলাম এবং কাজও করেছি। সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলাম। কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক ছিলাম। আরও রাজনীতি করলে সাধারণ সম্পাদক, প্রেসিডেন্ট হতে পারতাম। কিন্তু আমি কোনো পদ নিয়ে বড় অবস্থানে যাওয়ার চেষ্টা করিনি। আমার মনে হয়েছে, আন্ডারগ্রাউন্ড কমিউনিস্ট পার্টির চিন্তাভাবনা মৌলিকভাবে ভুল। এই দল ভবিষ্যতে কিছুই করতে পারবে না। তাদের ভালো চিন্তা আছে, ভালো কথা আছে। কিন্তু কাজ করার পদ্ধতি সম্পর্কে তাদের ভালো ধারণা নেই। তারা ভুল স্বপ্ন নিয়ে কাজ করেন এবং এই স্বপ্ন তাদের নেতৃত্বে সফল হবে না। ভিন্ন নেতৃত্ব দরকার। এরকম একটা উপলব্ধি থেকে আমি রাজনীতি থেকে সরে যাই।

আপনি কি শিক্ষকই হতে চেয়েছিলেন?

হ্যাঁ, শিক্ষক হওয়ার আগ্রহ আমার ছিল। বাবা শিক্ষক ছিলেন। দাদাও শিক্ষক ছিলেন। তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।

কত সালে যোগদান করলেন বিভাগে?

শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে যেদিন বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হয়েছে সেদিনই, ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২। মুক্তিযুদ্ধের বছর দুই আগেই যোগদান করতাম। কিন্তু তখন ছিল ক্রমাগত আন্দোলনের সময়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছিল। দরখাস্ত দিয়েছিলাম। সাক্ষাৎকারের তারিখ কয়েকবার হয়েছে; কিন্তু সাক্ষাৎকার হয়নি। হরতাল ছিল। অধ্যাপক আহমদ কবির, অধ্যাপক মনসুর মুসা এবং আমি একদিনেই যোগদান করেছি। বিভাগে তখন একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন। শিক্ষকের অভাব। সে হিসেবে আমাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় প্রধান ছিলেন নীলিমা ইব্রাহিম। তার আগ্রহে ও বিভাগের প্রয়োজনে শিক্ষক দরকার। না হলে ক্লাস চালানো যাচ্ছে না। প্রথমে অস্থায়ী নিয়োগে ছিলাম ছয় মাস। কিন্তু ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই লেকচারার হিসেবে নিয়মিত চাকরিতে যোগদান করি।

বাংলা বিভাগের সভাপতি বা চেয়ারম্যান ছিলেন।

বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলাম। মানে অ্যাকাডেমিক কমিটি, শিক্ষাবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান। যখন চেয়ারম্যান ছিলাম, তখন বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে সেরকম বিরোধ ছিল না। মতপার্থক্যগুলো অ্যাকাডেমিক কমিটির মিটিংয়ে, সমন্বয় কমিটির মিটিংয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করেছি। কোনো অসুবিধা দেখিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধ নেই, মতপার্থক্য আছে, সেসবের একটি ছিল বাংলা বিভাগ।

কী ভাবনা থেকে লেখালেখি শুরু করলেন?

ছাত্রজীবন থেকেই কিছু কিছু লিখতাম। প্রথমদিকে কবিতা লিখতাম, ছোটগল্প লিখতাম। কিন্তু ছাত্রজীবন শেষ হওয়ার আগেই প্রবন্ধ লিখি এবং প্রবন্ধ মানে জীবন, সমাজ, ধর্ম, রাজনীতি— এসব বিষয়ে যেগুলো আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, সেসব বিষয়ে প্রবন্ধ লিখেছি। লিখে আমার মতপ্রকাশ করেছি। আমার মতপ্রকাশ বা প্রবন্ধ লেখার উদ্দেশ্য, আমার লেখা পড়লে পাঠকের মনের ওপরে এর প্রভাব পড়বে। পাঠকও এ সম্পর্কে চিন্তা করবেন এবং আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে আমরা একটি অবস্থা থেকে উন্নত আরেক অবস্থায় অগ্রসর হতে পারব— এরকম ধারণা থেকে লিখেছি।

এখনো কি লিখছেন?

তিন বছর ধরে আমি লিখি না। এর আগে প্রতি সপ্তাহেই আমি একটি লেখা লিখতাম। কখনো দুটি। কোনো না কোনো পত্রিকা আমার কাছ থেকে লেখা নিয়ে ছাপত। একসময় মনে হলো যে অনেক দিন লিখেছি। এখন বয়স হয়েছে। আর লিখতে পারব না। সে কারণে লিখি না। কিন্তু যতটুকু লিখেছি, সেখানে আমার পরিপূর্ণ আন্তরিকতা এবং পরিশ্রম ছিল। হয়তো কোনো কোনো লেখার গুরুত্ব বেশি, তার বিষয়বস্তু বেশি চিন্তা দাবি করে, বেশি তথ্য দাবি করে। সেগুলো অনুসন্ধান করে তথ্য বিবরণ যুক্ত করে লিখতে হয়েছে, বেশি সময় নিয়েছে। আর অনেক বিষয় আছে, যেগুলোতে সহজেই মতপ্রকাশ করেছি। যে মত অন্যদের সঙ্গে মেলে না; ভিন্ন ও স্বতন্ত্র। কিন্তু মত গুরুত্বপূর্ণ। সেদিক থেকে সব লেখাই আমার বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি তো সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন?

‘লোকায়ত’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা এক বছর বের করেছিলাম। ১৯৮২ সালের শেষ দিকে প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যা বের হয়েছিল এবং পরে পত্রিকাটি অনেক বছর বের হয়েছে। কিন্তু প্রথম বছর বলা যায় নিয়মিত ছিল। ১২ মাসে ১১টা সংখ্যা বেরিয়েছিল। দ্বিতীয় বর্ষে বোধ হয় ছয়টা সংখ্যা বেরিয়েছে। তৃতীয় বর্ষেও এরকম ছয়টা। তার পরের বছরে এক সংখ্যা, দুই সংখ্যা— এভাবে বেরিয়েছে আরও অনেক বছর। এভাবে ত্রিশ বছর, একত্রিশ বছর বেরিয়েছে পত্রিকাটি।

আপনার দাম্পত্য জীবন?

বিয়ে করেছি ১৯৭০ সালে, মুক্তিযুদ্ধ আরম্ভ হওয়ার কিছুদিন আগে। তখন আমার বয়স ৩০ বছরের মতো। বিয়ে করার পরে আমার সংসার ভালোই চলছে। স্ত্রী ফরিদা প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিতে ছিলেন। রোকেয়া হলে হাউজ টিউটর ছিলেন। বাংলা বিভাগেও পড়াতেন কিছুকাল। মোটামুটি দুজনেই চাকরি করার ফলে আর্থিক অনটন ছিল না। একরকম চলতে পেরেছি। আমার এক মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়েটা বড়; তার এক ছেলে আছে। আর ছেলেটা তো মেয়ের দেড় বছর-দুই বছরের ছোট। ছেলেটাও ভালো ছিল সব দিক দিয়ে। চেহারাটাও খুব সুন্দর ছিল। কিন্তু তাকে তো মেরে ফেলল।

এ বিষয়ে আপনার কোনো বক্তব্য?

যারা মেরেছে তাদের পেছনে আওয়ামী লীগ ছিল, শেখ হাসিনা ছিল— এ কথা এখন অনেকেই বলছে, লিখছে। আমার কাছে সেটি বেঠিক মনে হয় না, ঠিকই মনে হয়। কারণ, কেবল জঙ্গিবাদীরা এত শক্তিশালী ছিল না যে এতগুলো মানুষকে মারবে। দীপনকে যখন মারে, তখন আরও অনেককে মেরেছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট প্রধানত এই তিন জেলায় অন্তত ১৫-১৬ তরুণকে হত্যা করেছে। আমি এসব বিষয়ে কিছু বিশ্বাসও করিনি, অবিশ্বাসও করিনি। জঙ্গিবাদীরা যে হত্যা করেছে, এটি ঠিক। দীপনের মৃত্যুর পরে আমি তো বিচার চাইনি। সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেছেন। একটাই উত্তর দিয়েছি, আমার পুত্রের হত্যাকাণ্ডের বিচার আমি চাই না। তবে সরকার যদি বিচার করে, আমি সহায়তা করব। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা, মানুষের জীবন রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। তারা সেটি করতে পারেনি। বিচারে গিয়ে কী পাব? না হয় কিছু লোকের ফাঁসি হবে। কিন্তু আমার ছেলেকে কি ফিরে পাব? তবে সরকার এই বিচার খুব দ্রুত করে ফেলেছে। অনেক বিচার আছে বছরের পর বছর পড়ে থাকে। ১০ বছর পার হয়ে গেছে, ১৫ বছর পার হয়ে গেছে; রায় হয় না। এরকম না এটি। মানে তিন-চার বছরের মধ্যেই বিচার হয়ে রায় হয়েছে এবং আটজনকে ফাঁসিও দিয়েছে।

ছেলেকে মারার কারণ কী বলে মনে করেন?

আমি যে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রকাশ করি ও লিখি, এতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে আমাকে না মেরে আমার ছেলেকে মেরেছে। আমাকে মারতে পারত। কিন্তু আমাকে মারলে বেশি গণ্ডগোল হবে, সামলানো কঠিন হবে। আমার ছেলেকে মারলে সেটি হবে না। কারণ, ছেলের তো পরিচিতি কম। এ কারণে মেরেছে। এটি নানাভাবে অনেকে দেখিয়েছেন আমাকে। আগে বিশ্বাস করতাম না। কিন্তু গত দুই বছরের মধ্যে কিছু ঘটনা দেখে এটিও আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়।

আপনার বড় মেয়ে তো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে ছিলেন।

ড. শুচিতা শারমীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। কিছুদিন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিল।

(১৭ মে, ২০২৬, পল্লবী, ঢাকা)

 

আবুল কাশেম ফজলুল হক
    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    ০১ জুলাই ২০২৬
    রাত ৩:০০ টা
    ফ্রান্স
    ৩
    সুইডেন
    ০
    ০২ জুলাই ২০২৬
    রাত ২:০০ টা
    বেলজিয়াম
    ০
    সেনেগাল
    ০
    ০২ জুলাই ২০২৬
    সকাল ৬:০০ টা
    যুক্তরাষ্ট্র
    ০
    বসনিয়া-হার্জেগোভিনা
    ০
    ০৩ জুলাই ২০২৬
    রাত ১:০০ টা
    স্পেন
    ০
    অস্ট্রিয়া
    ০
    ০৩ জুলাই ২০২৬
    সকাল ৫:০০ টা
    পর্তুগাল
    ০
    ক্রোয়েশিয়া
    ০
    ০৩ জুলাই ২০২৬
    সকাল ৯:০০ টা
    সুইজারল্যান্ড
    ০
    আলজেরিয়া
    ০
    advertisement
    advertisement
    দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় হরমুজ প্রণালি ইস্যুই প্রধান

    দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় হরমুজ প্রণালি ইস্যুই প্রধান

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০০:৩৬

    কেইনের কাছে এটাই তো চাই!

    কেইনের কাছে এটাই তো চাই!

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০০:৪২

    ব্রাজিল-জাপান ম্যাচের দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতা নিহত

    ব্রাজিল-জাপান ম্যাচের দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতা নিহত

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০০:৪৬

    তুমি আমার এমনই একজন

    তুমি আমার এমনই একজন

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০০:৫৩

    ফ্রান্স ফুটবল যেন ফরাসি সুগন্ধি

    ফ্রান্স ফুটবল যেন ফরাসি সুগন্ধি

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০১:০৮

    ১৭ বছরে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে জাতিকে মেধাশূন্য করার চেষ্টা হয়েছে: নিপুন রায়

    ১৭ বছরে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে জাতিকে মেধাশূন্য করার চেষ্টা হয়েছে: নিপুন রায়

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০০:০১

    আবর্জনার রাজত্বে ক্ষমতার বর্জ্য

    আবর্জনার রাজত্বে ক্ষমতার বর্জ্য

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০০:১৪

    সত্যিই কি শাকিব মেগাস্টার

    সত্যিই কি শাকিব মেগাস্টার

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০১:৪০

    ভারসাম্য টলে গেলেই বিপদ

    ভারসাম্য টলে গেলেই বিপদ

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০০:১৭

    ইব্রাহিমি মসজিদে আরও নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে ইসরায়েল

    ইব্রাহিমি মসজিদে আরও নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে ইসরায়েল

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০১:২৭

    ভারসাম্য টলে গেলেই বিপদ

    ভারসাম্য টলে গেলেই বিপদ

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০০:২২

    নেতা জানেন, অনুসারীদেরও বুঝতে হবে

    নেতা জানেন, অনুসারীদেরও বুঝতে হবে

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০০:২৬

    আমার সব লেখাই গুরুত্বপূর্ণ

    আমার সব লেখাই গুরুত্বপূর্ণ

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০০:৩৬

    আগামী আকর্ষণ

    আগামী আকর্ষণ

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০১:১৮

    মহাবিশ্ব আমার ডাকে সাড়া দিয়েছে

    মহাবিশ্ব আমার ডাকে সাড়া দিয়েছে

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০১:৪০

    advertiseadvertise