প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পাস

একটু অবসরে খাতা-কলম নিয়ে সবুজ ঘাসে বসে পড়লেন ছাত্রছাত্রীরা। ছবি: সামিয়া পারভীন
‘বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি’তে ভর্তি হওয়ার প্রধান কারণ সবুজ ক্যাম্পাস। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় দেখে শেষে এই সবুজের মায়ায় জড়িয়ে যাই। বর্ষাকালে ক্যাম্পাসের সামনে নৌকা নিয়ে ঘুরতে বের হই।’ কথাগুলো বলেছেন নুরজাহান সিলভিয়া। তিনি পড়েন এখানে ইংরেজি বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ছাত্র নাবিল হোসেন বললেন, ‘ক্লাস শেষে গাছের ছায়ায় দাঁড়ালেই শান্তি লাগে। পড়াশোনার চাপের মধ্যে বকুলতলায় এসে আড্ডা দিই। গান করি। এতে একটানা পড়াশোনার অস্বস্তি থাকে না।’ তিনি ২৩২তম ব্যাচের ছাত্র। বিবিএর হোমাইরা দিবা বললেন, ‘পরীক্ষার চাপে অস্থির হয়ে এসে গাছতলায় ১০ মিনিট বসি। মনে হয়, নতুন করে শুরু করতে পারব। এটি শুধু সৌন্দর্য নয়, মানসিক শক্তি বাড়ানোরও জায়গা।’ তাদের এই ক্যাম্পাস সবুজে ঘেরা, গাছের ছায়ায় মোড়ানো। নগরজীবনের কোলাহল পেরিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে পা রাখতেই বদলে যায় বাতাস। এখানে নেই যানজটের হর্ন, ধুলোর ঝড়। আছে তুরাগ নদ থেকে ভেসে আসা অক্সিজেন, সবুজ গাছের নরম ছায়া। পাতার ফাঁক গলে আসে রোদ, কান পাতলে শোনা যায় পাখির ডাক। শহরের বুকে লুকিয়ে আছে এই এক টুকরো অরণ্য।
সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার এই কার্যক্রমের শুরু কীভাবে? উত্তরটি এভাবেই দিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব নবী খান, ‘প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে আমাদের স্বপ্ন ছিল সবুজ ক্যাম্পাস গড়ব। আজ ক্যাম্পাস জুড়ে ফলদ, বনজ, ঔষধি গাছের সমাহার। ছাত্রছাত্রীদের প্রকৃতির সঙ্গে বাঁধতে আমরা বাসগুলোর নামও দিয়েছি নদীর নামে— ইছামতী, সুরমা, যমুনা। কেননা নদীর মতো তারাও বয়ে নিয়ে যায় স্বপ্ন।’ তার নির্দেশে অতিথিদের এখন ক্রেস্টের বদলে দেওয়া হচ্ছে গাছ। এই চারাগাছগুলো মাটি ও কাচের পাত্রে উপহার দেওয়া হচ্ছে। প্লাস্টিকের ছোঁয়া নেই কোথাও। তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়া আমাদের লক্ষ্য। আর একটি গাছ শুধু সম্মাননা নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে দামি উপহার।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। সবুজ, টেকসই বাংলাদেশ গড়ার এই স্বপ্নের সঙ্গে একাত্ম হয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ১১ জুন ‘বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি’তে নেমেছিল বৃক্ষরোপণের ঢল। অ্যাকাডেমিক ভবন, মেয়েদের আবাসিক হল, খেলার মাঠ— চারপাশে লাগানো হয় ৫০০ গাছ। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা। যাতে প্রতিটি বাড়ির আঙিনাও হয়ে ওঠে সবুজ। আগামীতে সাত হাজার শিক্ষার্থীকে তিনটি করে গাছ উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন তারা। ফলে ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে পুরো বাংলাদেশকে সবুজের চাদরে মুড়ে দেওয়া হবে।
‘বিজিএমইএ
ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড
টেকনোলজি’র চেয়ারম্যান ও
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি আজকের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। গাছ
কমায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তাই
গাছ লাগানো এখন কাজ নয়,
আমাদের দায়িত্ব। গাছ কার্বন শোষণ
করে অক্সিজেন দেয়, পরিবেশ ঠান্ডা
রাখে, বৃষ্টির ভারসাম্য রক্ষা করে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়
শুধু ডিগ্রি সরবরাহ করে না; দায়িত্বশীল
সুনাগরিক গড়ে তোলাও
আমাদের লক্ষ্য।’
সবুজকে ভালোবাসার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু জ্ঞানের কারখানা নয়; এটি পরিবেশ বাঁচানোর, দায়িত্ব শেখানোর জায়গাও। ‘বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি’র এই পথচলা অন্য সবার জন্য দৃষ্টান্ত। কারণ, আজকের রোপণ করা একটি চারাই আগামী প্রজন্মের জন্য ছায়া— সবুজ, নিরাপদ পৃথিবী।




