জার্সি বেচে বাড়তি আয়

ক্যাম্পাসে এক সমর্থকের কাছে জার্সি বিক্রি করছেন সেলিম পারভেজ (ডােন)
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সেলিম পারভেজ বিশ্বকাপের তুমুল সময়ে জার্সি বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন। তার গল্প লিখেছেন ও ছবি তুলেছেন মিরাজুল ইসলাম
বিশ্বকাপ চলছে। প্রিয় দল বা খেলোয়াড়ের জার্সিতে নিজেকে সাজানোর শখও পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে। এই সময়ে অন্যসব ক্যাম্পাসের মতো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের মধ্যে বাড়ছে প্রিয় দলের জার্সি কেনার প্রবণতা। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দেশের জার্সি বিক্রি করছেন ইংরেজি ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের ছাত্র সেলিম পারভেজ।
মূলত অনলাইনে জার্সি বিক্রি করছেন সেলিম। আবার পরিচিত, সিনিয়র-জুনিয়র ও সহপাঠীদের কাছে সরাসরিও বিক্রি করছেন। অনলাইনে দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যার সময় অর্ডার বেশি আসছে। বেশিরভাগ সময় নিজেই ক্রেতাদের হাতে জার্সি পৌঁছে দিচ্ছেন নিজেই। এভাবে গড়ে প্রতিদিন ১৫টির বেশি জার্সি বিক্রি করছেন। বিশ্বকাপ চলছে বলে বিক্রির পরিমাণ আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে জানালেন।
এরই মধ্যে তার উদ্যোগে বেশ ভালো সাড়া মিলেছে সহপাঠীদের কাছ থেকে। জার্সি বিক্রি করা এই শিক্ষার্থী বললেন, বিশ্বকাপ সামনে রেখে ব্যবসা শুরু করার ভাবনাটা আসে হঠাৎ করেই। তবে তা বাস্তবে পরিণত করতে বেশি সময় নেননি তিনি। সেলিম বলেছেন, আমাদের দেশে ফুটবল বিশ্বকাপের বিশাল একটি ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে। সারা বছরই মানুষ কমবেশি জার্সি কেনেন। তবে বিশ্বকাপ এলেই এই চাহিদা শতগুণ বেড়ে যায়। বিশ্বকাপ আমাদের দেশে একধরনের উৎসবে পরিণত হয়ে আসছে। এ সময় বড় একটি জার্সির বাজার তৈরি হয়। আর সেই সুযোগেই আমার ক্ষুদ্র উদ্যোগ।
বিশ্বকাপ এলেই জার্সির চাহিদা শতগুণ বেড়ে যায়। বিশ্বকাপ আমাদের দেশে এক ধরনের উৎসবে পরিণত হয়ে আসছে। এ সময় বড় একটি জার্সির বাজার তৈরি হয়। আর সেই সুযোগেই আমার ক্ষুদ্র উদ্যোগ
তিনি আরও বলেছেন, বিভিন্ন দেশের রঙিন জার্সি নিয়ে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। বিক্রির পাশাপাশি সময়টাও বেশ উপভোগ করি। আমি খুব বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে পারিনি। প্রথম ধাপে ৪০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছি। এখনো ধাপে ধাপে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছি।
সেলিম দেশে তৈরি জার্সিগুলো ঢাকার গুলিস্তানের মার্কেট থেকে সংগ্রহ করেন। আর প্লেয়ার এডিশন জার্সি পরিচিত এক ভাইয়ের মাধ্যমে চীন ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করে নিয়ে আসেন। এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮ দলের মধ্যে সাত-আটটি দলের জার্সির চাহিদা তুলনামূলক বেশি বলে জানালেন সেলিম। বরাবরের মতো ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জার্সিই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। উভয় দলের জার্সি এখন পর্যন্ত তিনি ২০০ পিসের বেশি বিক্রি করেছেন। পাশাপাশি পর্তুগাল, স্পেন, জার্মানি, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের জার্সিরও ভালো চাহিদা রয়েছে জানালেন। দেশে তৈরি ফ্যান এডিশনের এই জার্সিগুলোর দাম ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা।
ব্যক্তিগতভাবে সেলিম পর্তুগাল দলের সমর্থক এবং পর্তুগিজ তারকা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ভক্ত। নিজের জন্য পর্তুগাল দলের দুটি জার্সি রেখেছেন তিনি। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো এই জার্সি পরেই উপভোগ করবেন।
সেলিমের মতে, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় প্লেয়ার এডিশন জার্সি। এসব জার্সির দাম ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া ফ্যান এডিশন ও বাংলাদেশি প্রিমিয়াম জার্সিও বিক্রির তালিকায় ভালো অবস্থানে রয়েছে, যেগুলোর দাম সাধারণত ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে। বিশ্বকাপের জন্য জার্সির চাহিদা বাড়ছে। এর ফলে দামও কিছুটা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন এই বিক্রেতা। জানালেন, শুধু ছাত্রছাত্রীই নন; অধ্যাপকরাও জার্সি কিনতে শুরু করেছেন তার কাছ থেকে।
জার্সি বিক্রির এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে তার পরিবার। বিষয়টি তার মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে। সেলিম জানান, এই ব্যবসা থেকে আয় করা টাকা দিয়ে তিনি নিজের পড়াশোনার খরচের একটি অংশ বহন করছেন।
সেলিমের ভাষায়, কাজটি খুব বেশি পরিশ্রমসাপেক্ষ নয়, সাড়াও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তাই ভবিষ্যতেও এটি চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।


