বাকৃবিতে খেলায় সেরা মাসুদ

মাসুদের প্রিয় খেলা ফুটবল
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃহল ব্যাডমিন্টনে ২০২৪-২০২৫ সালে পরপর দুবার চ্যাম্পিয়ন ও সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। ২০২৬ সালে রানার্সআপ। আব্দুল মুয়ীদ মাসুদকে নিয়ে লিখেছেন আবু হানিফ
মাসুদের খেলাধুলার গল্প শুরু হয়েছে নীলফামারী শহরের অলিগলি আর স্থানীয় মাঠে। ছোটবেলায় খুব দুরন্ত ছিলেন। স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর ক্রিকেট ও ফুটবল খেলা শুরু করেন। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় আন্তঃস্কুল ব্যাডমিন্টন সিঙ্গেলসে জেলা পর্যায়ে রানার্সআপ। এক বছর পর আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে উপজেলা পর্যায়ে সেরা খেলোয়াড়। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় ব্যাডমিন্টনে বিভাগীয় পর্যায়ে রানার্সআপ। একই বছর স্কুল দলের হয়ে আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টেও অংশ নেন তিনি। পড়ালেখায়ও পিছিয়ে ছিলেন না মাসুদ। স্কুলজীবনে সামনের সারির শিক্ষার্থী ছিলেন। ফলে ছোটবেলা থেকেই তাকে দুটি জগৎ একসঙ্গে সামলাতে হয়েছে। মাসুদ বললেন, ‘খেলাধুলা কমিয়ে পড়ালেখায় মন দিতে হবে— এমন কথা সবসময় শুনতে হয়েছে। তাই পড়ালেখা ও খেলাধুলার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছি।’
বাকৃবিতে এসে বদলালো গল্প
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি বিভাগে ভর্তি হওয়ার সময় মাসুদের অবস্থান ছিল ‘দ্বিতীয়’। এত ভালো ছাত্র হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তিনি শুধু একজন পড়ুয়া ছাত্র হয়ে থাকেননি। প্রথম বর্ষেই অংশ নিয়েছেন আন্তঃহল ব্যাডমিন্টনে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে প্রথম বড় প্রতিনিধিত্ব করেছেন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায়— ২০২২ সালে। ডাবলসে মাসুদ ও তার সিনিয়র পার্টনার বাকী তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এটিই ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় মঞ্চে তার প্রথম উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ধীরে ধীরে তিনি আরও ভালো খেলতে শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তার প্রথম বড় ব্যক্তিগত অর্জন আসে আন্তঃঅনুষদ অ্যাথলেটিকসে। ৩০০০ মিটারে দ্বিতীয় ও ১৫০০ মিটারে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। তবে যে প্রতিযোগিতা তাকে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি এনে দিয়েছে, সেটি আন্তঃহল ব্যাডমিন্টন। ২০২২ সালে এখানে তিনি সেমিফাইনালিস্ট হন। ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়ন; সঙ্গে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। পরের বছরও একই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছেন মাসুদ।
এত ভালো ছাত্র হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তিনি শুধু একজন পড়ুয়া ছাত্র হয়ে থাকেননি
আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তিনবার ব্যাডমিন্টন, একবার টেবিল টেনিস ও একবার ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালে ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন— দুই দলেই অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। খেলার মধ্যে ফুটবল তার সবচেয়ে প্রিয়।
২০২৬ সালের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ব্যাডমিন্টনে রানার্সআপ হওয়া তার সবচেয়ে বড় অর্জনের একটি। একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা, অন্যদিকে নিয়মিত অনুশীলন ও টুর্নামেন্ট; দুটি একসঙ্গে চালানো সহজ ছিল না। ফলে পড়ালেখায় তার কোনো নির্দিষ্ট রুটিন ছিল না। পরীক্ষার আগের কয়েক দিন ভালোভাবে পড়তেন এবং পরীক্ষার আগের দিনগুলোতে খেলাধুলার অনুশীলন বন্ধ রাখতেন। কখনো রাত জেগে পড়াশোনা করে সকালে ম্যাচ খেলেছেন। কখনো মাঠে খেলার পর ফিরে বসেছেন বই নিয়ে।
মাঠ থেকে বিসিএসের টেবিলে
মাসুদ ৪৭তম বিসিএসের প্রস্তুতির সময় প্রতিদিন প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পড়েছেন। বিসিএসে প্রথমবারেই কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। খেলার মাঠ থেকে পাওয়া ‘ফোকাসিং’ বা মনোযোগ ধরে রাখার অভ্যাস তার বিসিএস প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বেশি কাজে দিয়েছে বলে মনে করেন। মাসুদ চান, বাকৃবিতে প্রতি বছর নির্দিষ্ট ‘স্পোর্টস ক্যালেন্ডার’ থাকুক। সে অনুযায়ী ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, হ্যান্ডবল, ভলিবল ও অ্যাথলেটিকসের নিয়মিত আয়োজন করা হোক।



