না পাওয়ার গল্প

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকট
এমসি কলেজে ১৫টি বিষয়ে অনার্স কোর্স ও ১৬টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু আছে। অনার্সের বিষয়গুলো হলো— বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, মনোবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান ও গণিত। মাস্টার্সের বিষয়গুলো হলো— বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ইসলামিক শিক্ষা, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা ও পরিসংখ্যান। এ ছাড়া বিএ (পাস), বিএসসি (পাস) এবং বিএসএস (পাস) কোর্স রয়েছে। পাশাপাশি চালু রয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি (বিজ্ঞান শাখা)। কিন্তু এসব কোর্স পরিচালনার জন্য কলেজে যত শ্রেণিকক্ষ থাকা দরকার ছিল, তা দীর্ঘদিন ছিল না। এখন একটি নতুন ভবন হওয়ায় সংকট কিছুটা কমেছে। নতুন বিভাগ চালু হলে সংকট চরম আকার ধারণ করবে। একইভাবে প্রতি বছর শিক্ষার্থী বাড়লেও শিক্ষকের পদ বাড়ানো হয়নি। মঞ্জুরিকৃত পদও খালি রয়েছে।
১৮৯২ সালে মাত্র ১৮ শিক্ষার্থী আর ছয়জন শিক্ষক নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল কলেজটি। এখন কলেজে ১০ অধ্যাপকসহ মোট শিক্ষকের পদ আছে ১৩৭টি। কলেজের প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক আছেন ১০০ জন; পদ খালি আছে ৩৭টি। অধ্যাপকের ১০টি পদ থাকলেও ৪টিই শূন্য। সহযোগী অধ্যাপকের ৭টি, সহকারী অধ্যাপকের ১১টি ও প্রভাষকের ১৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এমসি কলেজের ইসলামের ইতিহাস, পরিসংখ্যান, মনোবিজ্ঞানসহ কয়েকটি বিভাগে শিক্ষক সংকট প্রকট। কলেজ সূত্রে জানা যায়, প্রাণিবিদ্যার ৮টি পদের মধ্যে ৫টি, বাংলার ৯টি পদের মধ্যে ৪টি, পদার্থবিদ্যার ১২টি পদের মধ্যে ৪টি, দর্শনের ৭টি পদের মধ্যে ৩টি, রসায়নবিদ্যার ১২টি পদের মধ্যে ২টি, উদ্ভিদবিদ্যার ১২টি পদের মধ্যে ৩টি, গণিতের ১২টি পদের মধ্যে ২টি ও মনোবিজ্ঞানের ৪টি পদের মধ্যে ২টি শিক্ষক পদ খালি রয়েছে। পরিসংখ্যান বিভাগ মাত্র একজন সহযোগী অধ্যাপক দিয়ে চলছে। ইতিহাস বিভাগে আছেন মাত্র একজন সহকারী অধ্যাপক। মনোবিজ্ঞান বিভাগ চলছে মাত্র দুজন প্রভাষক দিয়ে। আইসিটি বিভাগে একজন প্রভাষকের পদ থাকলেও পদটি শূন্য রয়েছে।
এক দশক ধরে বন্ধ ক্যান্টিন
ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেল, কলেজের পুকুরের উত্তর দিকে আধাপাকা ঘরটি ছিল কলেজটির ক্যান্টিন। তবে এখন আর অস্তিত্ব নেই। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে ক্যান্টিন চালানো বন্ধ করে দেন এক ব্যবসায়ী। তার পর থেকে ১১ বছর ধরে আর চালু হয়নি; পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ক্যান্টিনটি।
কলেজের ভেতরে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের খাবারের একমাত্র উৎস চালু না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সবাইকে। খাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের ভরসা বাইরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুডের দোকান।
কলেজের এক শিক্ষার্থী বললেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এ কলেজের ক্যাম্পাস বিশাল, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্টিন তালা দেওয়া। হালকা নাশতা করতে হলেও বাইরে যাওয়া লাগে। কর্তৃপক্ষ চাইলে ক্যান্টিন চালু করতে পারে।’
তিনটি বাসে চলছে পরিবহন
সময়ের সঙ্গে শতবর্ষী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি পরিবহন সুবিধা। অথচ প্রতি বছর পরিবহন ফি হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের শতাধিক শিক্ষকের জন্যও নেই কোনো পরিবহন সুবিধা। কলেজের প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর পরিবহনের জন্য রয়েছে দুটি বাস। ১৯৭৭ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও ১৯৯২-৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য একটি করে বাস উপহার দিয়েছিলেন। সম্প্রতি কলেজের নিজস্ব তহবিল থেকে একটি বাস কেনা হয়েছে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়ার জন্য নগরের দুই রুটে দিনে দুবার চলাচল করে বাসগুলো।
তীব্র আবাসন সংকট
সিলেট বিভাগে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য পছন্দের তালিকায় সবসময় শীর্ষে থাকে এমসি কলেজের নাম। তবে কলেজটিতে আবাসন ব্যবস্থা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬০০ জনও আবাসন সুবিধা পান না। ফলে সিলেট জেলার বাইরে থেকে আসা শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাদের ভাড়া বাসা বা মেসে থাকতে হয়, বিশেষ করে ছাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেশি। কারণ, নগরে ভালো মানের মেস বা হোস্টেল বেশি নেই। কলেজ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ছাত্রাবাসের ৭টি ব্লকে ৩৭৫ জন ছাত্র থাকতে পারেন। ছাত্রীদের জন্য দুটি হোস্টেলে ২১০ জনের আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে।
এ ছাড়া কলেজ ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, কলেজের ছাত্র মিলনায়তনে বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ছাত্রী মিলনায়তন নতুন চালু করা হয়েছে। কলেজের একমাত্র অডিটরিয়ামে সাউন্ড সিস্টেম চালু করা হয়েছে। যেকোনো অনুষ্ঠান করতে হলে এখনো বাইরে থেকে চেয়ার ভাড়া করে আনতে হয়।




