আগামীর সময়

প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার দাবিতে ভুয়া প্রজ্ঞাপন, সক্রিয় অনলাইন স্ক্যাম চক্র

প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার দাবিতে ভুয়া প্রজ্ঞাপন, সক্রিয় অনলাইন স্ক্যাম চক্র

ছবিঃ আগামীর সময়

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন প্রতারণা চক্র। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নামে ২৫০০ টাকা করে ঈদ উপহার দেওয়ার একটি তথাকথিত প্রজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই দাবির কোনো সত্যতা নেই-বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘Dr Zubaida Rahman’ নামের একটি পেজ থেকে গত ১২ থেকে ১৭ মার্চের মধ্যে অন্তত ১৮ বার একটি প্রজ্ঞাপনের ছবি পোস্ট করা হয়। এসব পোস্টে দাবি করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেশের নিম্নআয়ের পরিবারকে ২৫০০ টাকা করে ঈদ উপহার দেওয়া হবে।

পোস্টগুলোর কমেন্টে একটি আবেদন লিংক দেওয়া হয়। লিংকে প্রবেশ করলে ব্যবহারকারীদের ‘ঈদ উপহার ও ভাতা পোর্টাল ২০২৬’ নামে একটি ওয়েবসাইটে নেওয়া হয়।

তবে কিওয়ার্ড সার্চ ও ম্যানুয়াল যাচাইয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে এ ধরনের প্রজ্ঞাপনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, সংশ্লিষ্ট লিংকগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘এখানে আবেদন করুন’ বাটন থাকলেও তা কার্যকর নয় এবং একটি ইনভ্যালিড ইউআরএলে রিডাইরেক্ট করে। ফলে সেখানে কোনো বাস্তব আবেদন প্রক্রিয়া বা তথ্য পাওয়া যায় না।

ডোমেইন বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটগুলোর একটি ২০২৫ সালের অক্টোবর এবং অন্যটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে- যা সরকারি কোনো পুরনো বা নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

প্রতারণার ধরনও বহুমাত্রিক। কোথাও ভুয়া প্রজ্ঞাপনের ছবি, কোথাও ভুয়া এসএমএসের স্ক্রিনশট, আবার কোথাও এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ভিডিও ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য হিসেবে এই অফার প্রচার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি পেজে এ ধরনের অন্তত ৬টি ভিডিও পাওয়া গেছে, যেগুলো ইতোমধ্যে দুই লক্ষাধিকবার দেখা হয়েছে।

এছাড়া, ‘জা ই মা ০.১’, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিএনপির’, ‘ট্রেন্ডিং বাঙালি, মারিয়া মিম’সহ আরও বেশ কিছু ফেসবুক পেজ থেকেও একই ধরনের প্রতারণামূলক কনটেন্ট নিয়মিত ছড়ানো হচ্ছে। শুধু ফেসবুকেই নয়, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডসসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও এই স্ক্যাম ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এদিকে, একই ধরনের প্রতারণামূলক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার কন্যা জাইমা রহমানের নাম ব্যবহার করে বিকাশ/নগদ নম্বর চাওয়া হচ্ছে। কোথাও বলা হচ্ছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঈদ উপহারের টাকা পাঠানো হবে, আবার কোথাও দ্রুত নম্বর দিলে সীমিতসংখ্যক পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে এসব পোস্টে জুয়ার সাইটের লিংকও যুক্ত করা হয়েছে।



সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনেক ব্যবহারকারী এসব পোস্টে বিশ্বাস করে নিজেদের মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর কমেন্টে শেয়ার করছেন, যা তাদের আর্থিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ফিশিং লিংকের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ফেসবুক আইডি হ্যাক, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি এবং পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইলের মতো অপরাধ সংঘটিত হতে পারে। পরিচিত ব্যক্তির নাম ও ছবি ব্যবহার করায় অনেকেই সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, একাধিক ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে এই প্রতারণামূলক ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে- ফলে এ বিষয়ে সবার সতর্ক থাকা জরুরি।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার কন্যা জাইমা রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থাকলেও ‘ডা. জুবাইদা রহমান’ নামে কোনো অফিসিয়াল পেজের তথ্য পাওয়া যায়নি।

    শেয়ার করুন: