মাদ্রাসায় জামায়াত-শিবিরের জঙ্গি প্রশিক্ষণের দাবিটি মিথ্যা

ছবি: আগামীর সময়
বাংলাদেশের কোনো এক মাদ্রাসায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা শিশুদের জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন—দাবি করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা এক ব্যক্তি পাঞ্জাবি ও টুপি পরা কিছু শিশুকে অস্ত্র চালানো শেখাচ্ছেন।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো মাদ্রাসার বা এ দেশের কোনো রাজনৈতিক দলের নয়; বরং এটি আফগানিস্তানের। প্রকৃতপক্ষে, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন 'আইএসআইএস' (ISIS) কর্তৃক আফগান শিশুদের অস্ত্র প্রশিক্ষণের এক দশক পুরোনো একটি দৃশ্যকে বাংলাদেশের দাবি করে অপপ্রচার করা হচ্ছে।
আল জাজিরার ডকুমেন্টারি ও ভিডিওর আসল উৎস
ভিডিওটির প্রকৃত উৎস ও সত্যতা যাচাইয়ে ‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’ এবং সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড অনুসন্ধানের মাধ্যমে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘আল জাজিরা’-র অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে ২০১৫ সালের ২ নভেম্বর প্রকাশিত একটি প্রামাণ্যচিত্র খুঁজে পাওয়া যায়। “ISIL and the Taliban | Featured Documentary” শিরোনামের ওই ডকুমেন্টারিটির ৪৬ মিনিট ২৮ সেকেন্ড সময়ে একটি শিশুকে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিতে দেখা যায়, যার সাথে বাংলাদেশে ছড়ানো ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে।
উভয় ভিডিওতেই দেখা যায়—একইভাবে একজন শিশুকে মুখে কালো কাপড় জড়ানো এক ব্যক্তি পিস্তল চালানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এছাড়া, দুটি ভিডিওর শিশুদের পোশাক, অঙ্গভঙ্গি, পেছনের দেয়াল ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ একদম একই। মূল ডকুমেন্টারির এই অংশটুকু ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে কেটে করে ভিন্ন দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। পুরো ডকুমেন্টারিটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এতে বাংলাদেশের মাদ্রাসা, জামায়াতে ইসলামী কিংবা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, বিএনপি সম্পর্কিত কোনো তথ্য বা নাম উল্লেখ নেই।
ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন ও আন্তর্জাতিক প্রমাণ
বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে, ২০১৮ সালের ১৩ জানুয়ারি জার্মান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ডয়চে ভেলে’ (Deutsche Welle)-তে প্রকাশিত “The heavy legacy of the Islamic State” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর দৃশ্যের নিখুঁত মিল রয়েছে। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনেও ছবিটিকে আফগানিস্তানে আইএসআইএস (ISIS/ISIL) কর্তৃক শিশুদের জঙ্গি প্রশিক্ষণের দৃশ্য বলেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রামাণ্য দলিল বিশ্লেষণ করে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজানো। আফগানিস্তানে প্রায় এক দশক আগে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসআইএস কর্তৃক শিশুদের অস্ত্র প্রশিক্ষণের একটি পুরোনো দৃশ্যকে দেশীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ফেলে বাংলাদেশের মাদ্রাসার নামে অসত্যভাবে ছড়ানো হচ্ছে।






