সচিবালয় ও সেনাবাহিনী নিয়ে সাখাওয়াত হোসেনের নামে ছড়ানো বক্তব্যটির সত্যতা কী

ছবি: আগামীর সময়
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেনকে উদ্ধৃত করে একটি মন্তব্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল সেই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, তিনি নাকি বলেছেন-বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে সচিবালয়কে “ভারতমুক্ত” করতে হবে এবং একই সঙ্গে ডিজিএফআইসহ পুরো সেনাবাহিনী থেকেও ভারতের প্রভাব দূর করতে হবে। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই বক্তব্য দ্রুতই ব্যবহারকারীদের মধ্যে আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি করে।
তবে বিষয়টি যাচাই করে দেখা যায়, এই দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এম. সাখাওয়াত হোসেনের সাম্প্রতিক বিভিন্ন সাক্ষাৎকার খতিয়ে দেখা হয়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি চ্যানেল ওয়ান, ২১ মার্চ স্টার নিউজ এবং ২৪ মার্চ দ্য পোস্টের ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত তার সাক্ষাৎকারগুলো বিশ্লেষণ করে কোথাও এমন বক্তব্যের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
শুধু তাই নয়, যে পোস্টগুলোতে এই দাবি ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোতেও কোনো বিশ্বাসযোগ্য সূত্র বা প্রাসঙ্গিক তথ্য সূত্র দেওয়া হয়নি। সাধারণত এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত মন্তব্য কোনো ব্যক্তি করলে তা দ্রুতই মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে এমন তথ্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরাসরি এম. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তিনি কখনোই এমন কোনো মন্তব্য করেননি। তার ভাষায়, “আমি কখনোই এমন কোনো কথা বলিনি। ভিউ পাওয়ার জন্য আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে।”
সব দিক বিবেচনায় স্পষ্ট হয়, সচিবালয়, সেনাবাহিনী ও ভারতকে ঘিরে তার নামে প্রচারিত বক্তব্যটি বাস্তব নয়। এটি সম্পূর্ণরূপে ভুয়া ও বানোয়াট তথ্য, যা কোনো যাচাইযোগ্য ভিত্তি ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।





