পটুয়াখালী
নির্যাতনের ভিডিওকে ‘যুবদল সভাপতির অপহরণ’ দাবিতে প্রচার

ছবি: আগামীর সময়
‘প্রবাসীর স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন যুবদল সভাপতি রফিক’—এমন একটি শিরোনামযুক্ত ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত এই রাজনৈতিক দাবির সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির কোনো বাস্তব সম্পর্ক নেই। মূলত পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক গৃহবধূর ওপর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অমানবিক নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও এটি। এই পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্ন রাজনৈতিক রং দিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে।
আসল ঘটনা ও গণমাধ্যমের প্রমাণ
ভিডিওটির প্রকৃত সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ‘প্রিয় চাঁদপুর’ (Priyo Chandpur) নামের একটি অনলাইন পেজে গত ১০ জুন প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। সেই ভিডিওর দৃশ্যগুলোর সাথে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। ওই পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নে ঘটেছিল। সেখানে পারিবারিক কলহের জেরে নির্যাতনের পর এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে টমটমে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গৃহবধূর স্বামী ও শ্বশুর নিজেই তাঁকে জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পরে স্থানীয়দের তীব্র বাধায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়। একই ঘটনার ভিডিও মূলধারার গণমাধ্যম ‘প্রথম আলো’র ইউটিউব চ্যানেলেও প্রকাশিত হয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপ
এছাড়া জাতীয় দৈনিক ‘ইত্তেফাক’-এর ১০ জুনের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার চরহোসনাবাদ গ্রামের লিপি আক্তার নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগে তাঁর স্বামী শাহজামাল ও শ্বশুর মোসলেম মৃধাকে পুলিশ ইতিমধ্যে আটক করেছে। দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলামের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, অভিযুক্তরা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ এবং পুলিশের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, প্রবাসীর স্ত্রীকে যুবদল সভাপতি কর্তৃক তুলে নেওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। মূলত পটুয়াখালীর একটি পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনার ভিডিওকে সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক রঙে সাজিয়ে প্রচার করা হয়েছে।





