আগামীর সময়

ভুয়া ও পুরনো ফুটেজে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের হামলার ভিডিও প্রচার

ভুয়া ও পুরনো ফুটেজে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের হামলার ভিডিও প্রচার

ছবিঃ আগামীর সময়

চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। ভিডিওটিতে দাবি করা হয়েছে, এটি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সাম্প্রতিক হামলার সিসিটিভি ফুটেজ। তবে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় ফ্যাক্টচেকিং রিপোর্ট এবং বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দেখা গেছে, ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর এবং প্রায় পুরোপুরি ভুয়া।

ভিডিওতে মোট চারটি কথিত সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে। যাচাই করে দেখা যায়, এর মধ্যে তিনটি ফুটেজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি, এবং একটি ফুটেজ বাস্তব হলেও তা গত বছরের হামলার দৃশ্য। ফুটেজগুলোর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের সময় কর্মকর্তারা স্বাভাবিকভাবে কম্পিউটারের সামনে বসে আছেন, ডেস্কের উপর থাকা কফি মেশিন ও ল্যাপটপ স্থির রয়েছে, এবং সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ডিজিটাল দেয়াল ঘড়ি এবং অন্যান্য সরঞ্জামের অস্বাভাবিক আচরণও ফুটেজগুলোর বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ভিডিওতে লক্ষ্য করা যায় ‘kaabusia’ নামের একটি জলছাপ। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মূল ভিডিওটি ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হয়েছিল। পোস্টে বলা হয়েছে, কয়েক মাস পরে কিছু ফুটেজ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আয়াতুল্লাহ শাসনামলের সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। তবে ফুটেজের সুনির্দিষ্ট স্থান বা উৎস উল্লেখ করা হয়নি, এবং ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম নয়।

তৃতীয় ফুটেজটি বাস্তব এবং এটি ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম SNN টিভি দ্বারা ২৮ নভেম্বর ২০২৫ সালে প্রচারিত হয়েছিল। ওই ফুটেজে তাবরিজের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ‘নাজম’ (Najm) রাডার সিস্টেম লক্ষ্য করে হামলার কিছু দৃশ্য দেখানো হয়।

সৌদি আরবের আল-আরাবিয়া ও ইসরায়েলের Ynet-এর মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও একই ফুটেজ প্রচার করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় এই হামলা হয়েছিল এবং ইরানি সামরিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক BBC Verify-এর বিশেষজ্ঞ সাংবাদিক শায়ান সরদারিজাদেহ নিশ্চিত করেছেন, তৃতীয় ক্লিপটি বাদে বাকি তিনটি ফুটেজ এআই-জেনারেটেড। তিনি উল্লেখ করেন, ফুটেজগুলোতে ভুল সামরিক র‍্যাঙ্ক প্যাচ, অদ্ভুত বস্তু ও অপ্রাকৃতিক আচরণ দেখা যায়। বিস্ফোরণের পরও কর্মীরা স্বাভাবিকভাবে কাজ চালাচ্ছেন এবং সিসিটিভি ক্যামেরা কোনো ক্ষতি হয়নি, যা বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

উপরোক্ত বিশ্লেষণ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, সম্প্রতি প্রচারিত ভিডিওতে দেখানো চারটি সিসিটিভি ফুটেজের মধ্যে: একটি পুরনো বাস্তব ফুটেজ এবং তিনটি এআই-জেনারেটেড। ফলে ভিডিওটি মূলত পুরনো ফুটেজ ও এআই-জেনারেটেড ফুটেজের সমন্বয় করে বিভ্রান্তিকরভাবে সম্প্রচার করা হয়েছে।

    শেয়ার করুন: