কেরানীগঞ্জে র্যাবের হাতে আটক শাহ পরান কি জামায়াত নেতা?

ছবি: আগামীর সময়
ঢাকার কেরানীগঞ্জে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের সময় এক জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এমন একটি চাঞ্চল্যকর দাবি সম্প্রতি একটি ভিডিওসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওকে কেন্দ্র করে এমন গুরুতর অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে তীব্র বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত এই দাবিটি আংশিক বিকৃত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছড়ানো। মূলত, একটি বাস্তব অপরাধের ঘটনার ভিডিওর সাথে আটক ব্যক্তির কাল্পনিক রাজনৈতিক পরিচয় জুড়ে দিয়ে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
ভাইরাল দাবি ও প্রেক্ষাপট
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে দেখা যায়, প্রায় ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে র্যাবের সদস্যরা এক ব্যক্তিকে ধরে গাড়িতে তুলছেন। ভিডিওটির সঙ্গে যুক্ত ক্যাপশনে আটক ওই ব্যক্তিকে ‘জামায়াত নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। স্পর্শকাতর এই অভিযোগের কারণে অনেকেই বিষয়টি সত্য ধরে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।
অনুসন্ধান ও আসল ঘটনা
ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে কি-ফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে অনুসন্ধান চালানো হয়। অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেসব প্রতিবেদন থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ঘটনাটি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বেগুনবাড়ি এলাকায় ঘটেছে।
সংবাদসূত্র অনুযায়ী, র্যাবের হাতে আটক হওয়া ওই ব্যক্তির নাম শাহ পরান। তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার শেখহাটি গ্রামে। তিনি কেরানীগঞ্জের ওই এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। চার বছর বয়সী এক শিশুর ওপর যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য
এই ঘটনার বিষয়ে র্যাব-১০ এর মিডিয়া অফিসার তাপস কর্মকার জানান, খবর পাওয়া মাত্রই র্যাবের একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
তবে র্যাবের দেওয়া তথ্য কিংবা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের পুরো ঘটনার কোথাও অভিযুক্ত শাহ পরানের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে, তাকে ‘জামায়াত নেতা’ হিসেবে দাবি করার মতো বিন্দুমাত্র প্রমাণ বা নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র মেলেনি।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ স্পষ্ট যে, কেরানীগঞ্জে শিশু নিপীড়নের অভিযোগে শাহ পরান নামে এক ব্যক্তিকে আটকের ঘটনাটি সত্য হলেও, তার রাজনৈতিক পরিচয়টি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। একটি বাস্তব অপরাধের ভিডিও ব্যবহার করে, কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই আটক ব্যক্তিকে ‘জামায়াত নেতা’ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।








