শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থকরা সত্যিই কি হত্যা করেছে বাংলাদেশি ইয়াছিনকে?

ছবি: আগামীর সময়
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গত ২৮ জুন থেকে আবারও বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ভারত। এই নতুন সিদ্ধান্তের পর যখন দুই দেশের পর্যটকদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচার করা হচ্ছে—ভারতের কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থকেরা এক বাংলাদেশি মুসলিম পর্যটককে পিটিয়ে হত্যা করেছে এবং এই ঘটনার পর বাংলাদেশিদের কলকাতা ভ্রমণে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এই দাবিগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি ভুয়া খবর।
গণমাধ্যমে কোনো অস্তিত্ব নেই
প্রচারিত ভুয়া তথ্যগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, নিহত ব্যক্তি বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের যুবলীগের এক ওয়ার্ড সভাপতির ছেলে ইয়াছিন মোল্লা। কিন্তু ভারত কিংবা বাংলাদেশের মূলধারার কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে এ ধরনের কোনো নৃশংস ঘটনা বা হত্যার খবর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সাধারণত দুই দেশের কূটনৈতিক ও সীমান্ত সম্পর্কের এই সংবেদনশীল সময়ে এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটলে তা দুই দেশের মূলধারার সব গণমাধ্যমেই ব্রেকিং নিউজ হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল।
সতর্কতা জারির দাবিটি ভিত্তিহীন
একই সাথে, বাংলাদেশ দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কোনো উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশিদের জন্য কলকাতা ভ্রমণে কোনো ধরনের সতর্কতা জারি করেছে—এমন দাবিরও কোনো সত্যতা মেলেনি। ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন কিংবা কলকাতার ডেপুটি হাইকমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও তাদের ভেরিফাইড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজগুলো পর্যালোচনা করে এ সংক্রান্ত কোনো সতর্কবার্তা বা প্রেস রিলিজের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ এবং দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক রেকর্ড বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটক ইয়াছিন মোল্লাকে পিটিয়ে হত্যার দাবি এবং এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সতর্কতা জারির বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও গুজব। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে নতুন করে বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর এই সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরি করতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।





