৬৭ বছরে ফের নাচাবেন ম্যাডোনা

ম্যাডোনা। ছবি: সংগৃহীত
পপসংগীতের রানী আবার ফিরছেন নাচের মঞ্চে। দীর্ঘ সাত বছর পর নতুন অ্যালবাম নিয়ে হাজির হচ্ছেন ম্যাডোনা। অ্যালবামটি নিয়ে ইতোমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে তুমুল আগ্রহ তৈরি করেছে। অ্যালবামটির নাম ‘কনফেশনস অন অ্যা ড্যান্স ফ্লোর: পার্ট ২’।
২০০৫ সালে প্রকাশিত তার প্রশংসিত ডান্স অ্যালবামের সিক্যুয়েল হিসেবে এটি আগামী ৩ জুলাই মুক্তি পাবে।
ওয়ার্নার রেকর্ডসের এই অ্যালবামের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর আবারও একসঙ্গে কাজ করছেন ম্যাডোনা ও প্রখ্যাত প্রযোজক স্টুয়ার্ট প্রাইস। আগের অ্যালবামের সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন স্টুয়ার্ট। সেই অ্যালবামের জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে ছিল ‘হাং আপ’, ‘সরি’ এবং ‘জাম্প’।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যালবামের ঘোষণা দেন ম্যাডোনা। সঙ্গে প্রকাশ করেন কভার আর্ট—যেখানে তাকে দেখা যায় বেগুনি রঙের স্পিকারের ওপর বসে থাকতে, পরনে লিঞ্জারি, আর মুখ ঢেকে রাখা গোলাপি কাপড়ে। একই সঙ্গে তিনি অ্যালবামের প্রথম গানের একটি ছোট অংশও শেয়ার করেন, যা ভক্তদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ম্যাডোনা ও স্টুয়ার্ট প্রাইস অ্যালবাম তৈরির পেছনের ভাবনা বা ‘ম্যানিফেস্টো’ তুলে ধরেন। সেখানে তারা বলেন, ‘আমাদের নাচতে হবে, উদযাপন করতে হবে, আর শরীর দিয়ে প্রার্থনা করতে হবে। হাজার বছর ধরে মানুষ এভাবেই নিজেদের প্রকাশ করেছে। এগুলো আসলে এক ধরনের আধ্যাত্মিক চর্চা। ডান্স ফ্লোর এক ধরনের আচার-অনুষ্ঠানের জায়গা, যেখানে মানুষ নিজের ভেতরের ক্ষত, দুর্বলতা ও অনুভূতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে।’
তাদের মতে, রেভ বা নাচের উন্মাদনা নিজেই এক ধরনের শিল্প। এটি মানুষের সীমা ভেঙে দেয়, একই চিন্তার মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। শব্দ, আলো ও কম্পন মানুষের অনুভূতি বদলে দেয়, এক ধরনের সম্মোহিত অবস্থায় নিয়ে যায়। বেসের পুনরাবৃত্তি শুধু শোনা যায় না—অনুভব করা যায়, যা মানুষের চেতনাকে বদলে দেয় এবং সময় ও অহংবোধকে ধীরে ধীরে বিলীন করে।
ম্যাডোনার সংগীতজগতে পথচলার শুরুটা হয়েছিল আশির দশকে। ১৯৮২ সালে ওয়ার্নার রেকর্ডস থেকে স্বনামে অ্যালবাম প্রকাশ করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক হিট গান দিয়ে পপসংগীতের জীবন্ত এক কিংবদন্তিতে পরিণত হন। বিশেষ করে ‘লাইক আ ভার্জিন’ (১৯৮৪) এবং ‘লাইক আ প্রেয়ার’ (১৯৮৯) গান দুটি তাকে বিশ্বজুড়ে সুপারস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
ক্যারিয়ারের মাঝামাঝি সময়ে, ১৯৯২ সালে ম্যাডোনা নিজেই নতুন এক উদ্যোগ নেন। তিনি টাইম ওয়ার্নারের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেন মাল্টিমিডিয়া বিনোদন প্রতিষ্ঠান ও রেকর্ড লেবেল ম্যাভরিক। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংগীত, চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের সৃজনশীল কাজ বিস্তৃত করেন তিনি।
দীর্ঘ ২৫ বছরের সম্পর্কের পর শেষ পর্যন্ত ওয়ার্নার রেকর্ডসের সঙ্গে তার চুক্তির ইতি ঘটে ২০০৮ সালে প্রকাশিত অ্যালবাম ‘হার্ড ক্যান্ডি’ দিয়ে। এর ১৮ বছর পর ম্যাডোনা ওয়ার্নার রেকর্ডসের প্রযোজনায় ফের গান প্রকাশ করছেন।
সাতষট্টি বছর বয়সী ম্যাডোনা বলেন, ‘নিউইয়র্ক শহরে দীর্ঘদিন সংগ্রাম করে মাত্র তিনটি গান প্রকাশের চুক্তি দিয়ে শিল্পী হিসেবে পথচলা শুরু। প্রথম থেকেই ওয়ার্নার রেকর্ডস আমার সত্যিকারের সহযাত্রী ছিল। আবার একসঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি আনন্দিত। ভবিষ্যতে নতুন সংগীত তৈরি করতে চাই, অপ্রত্যাশিত কিছু করতে চাই, আর হয়তো কিছু প্রয়োজনীয় আলোচনাও উসকে দিতে চাই।’
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট




