দর্শক সম্পর্কে উচ্চ ধারণা ফিরে আসা দরকার

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে এসেছে নতুন কনটেন্ট ‘রঙিন সুরমা’। এতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফজাল হোসেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পান্থ আফজাল
‘রঙিন সুরমা’য় কাজ করে কেমন লাগল?
আজকাল মানুষের মন মাতানোর জন্য গরমাগরম গল্পের চাহিদা অনেক। এমন সময়ে কেউ যদি ঠান্ডা মেজাজের, শির শির করা অনুভূতির কোনো গল্প পর্দায় হাজির করতে চায়, সে ভাবনাকে বিশেষ ভাবতেই হয়। সেটা ভেবেই আগ্রহ নিয়ে ‘রঙিন সুরমা’য় অভিনয় করেছি।
‘রঙিন সুরমা’র গল্পটা কী?
প্রবীণ মুন্তাসির ও শাহিদার অসুস্থতা, একাকিত্ব ও বয়সের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পরস্পরকে আঁকড়ে বেঁচে থাকার অর্থ খুঁজে নেয়, ‘রঙিন সুরমা’য় সেই গল্পই বলা হয়েছে। শাহিদা চরিত্রে আছেন আফসানা মিমি। গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় রিয়াজুল হক।
মনে হচ্ছে, ওটিটি বেশ উপভোগ করছেন।
‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান’ সিরিজে ভিন্ন ধরনের চরিত্র পেয়ে খুবই আনন্দিত হয়েছিলাম। এর পর ‘পেট কাটা ষ’, ‘কারাগার’সহ বিভিন্ন কাজ করার সুযোগ হলো। এগুলো উপভোগ করি। কারণ আমাদের বয়স বাড়ছে, আর নতুন প্রজন্ম নতুনভাবে ভাবছে, নতুন ধরনের কাজ করছে। তাদের সঙ্গে কাজ করলে নতুন কিছু শেখা যায়।
এখনকার টেলিভিশনের অনুষ্ঠানগুলো কেমন হচ্ছে?
টেলিভিশনে আগে সাহিত্য, কৃষি, শিল্প, চিকিৎসা, আইনসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান হতো। বিদেশি জনপ্রিয় সিরিজও দেখানো হতো। তখন মানুষ ইংরেজি বুঝবে না— এমন অগ্রিম ধারণা ছিল না। ভাবা হতো— মানুষ দেখবে, বুঝবে, শিখবে। মানুষ দেখেছেও। এখন টেলিভিশন যারা চালান, তারা অনেক সময় আগে থেকেই ধরে নেন— মানুষ এটা বুঝবে না, ওটা বুঝবে না। সবকিছু সহজ করে দিতে হবে। আমার মনে হয়, আগে দর্শক সম্পর্কে উচ্চ ধারণা ফিরে আসা দরকার।
আপনি একটি সিনেমা পরিচালনা করেছেন, এর মুক্তি আটকে আছে কেন?
‘মানিকের লাল কাঁকড়া’ সিনেমাটি বাংলাদেশ শিশু একাডেমির আগ্রহে তৈরি করেছিলাম। এর মালিকানা শিশু একাডেমিরই। একসময় যিনি এই সংস্থার মহাপরিচালক ছিলেন, তার উৎসাহে সিনেমাটি তৈরি হয়। আমাদের দেশে একটি দুঃখজনক বিষয় হলো, সবকিছুই রাজনীতির চোখে দেখা হয়। একটি সিনেমা কোন আমলে তৈরি হয়েছে, সেটি দিয়ে সিনেমাকে বিচার করা উচিত নয়। সিনেমা হিসেবে সিনেমাকে দেখা উচিত। শিশু একাডেমি যদি উদ্যোগ নেয়, তাহলে ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’ মুক্তি পেতে পারে।
শিল্পীদের রাজনীতিতে জড়ানোকে কীভাবে দেখেন?
রাজনীতি করার মধ্যে দোষের কিছু নেই। আমরা বিভিন্ন সময়ে মানুষকে ভাগ করেছি। একজন মানুষের ৪০-৫০ বছরের কর্মজীবন আছে, আপনি সেটা বিবেচনায় না নিয়ে শুধু সে কোন রাজনীতি করেছে, তার ভিত্তিতে মানুষকে ভাগ করবেন— এটা ন্যায়সংগত নয়। আপনি একটি দলের রাজনীতি পছন্দ করেন, আমি করি না— এটা স্বাভাবিক। মত পার্থক্য থাকবে; কিন্তু পার্থক্যটা এমন হওয়া উচিত নয়, ‘তোমাকে এই দেশে থাকতে দেব না।’ কোনো শিল্পীর রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তার শিল্পকে অপমান করা অন্যায়।
বর্তমান সময় আপনার প্রজন্মের কতটা অনুকূলে?
আমরা যখন কাজ শুরু করি, নাটকের মাধ্যমে সমাজ বদলের স্বপ্ন ছিল। একই দৃষ্টিভঙ্গি ছিল লেখক, নির্দেশক ও দলে। একইভাবে সিনেমাতেও একটা স্বপ্নের কথা বোঝা যেত। গান ছিল দেশাত্মবোধক। স্বাধীনতার সময় থেকে আন্দোলনের সময় পর্যন্ত অসংখ্য গান আছে, যেগুলো এখনো মুখে মুখে ফেরে। এগুলো সম্ভব হয়েছে, কারণ মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ছিল। এখন আমরা দেশপ্রেমের কথা অনেক বলি, অনেক উচ্চারণ করি; কিন্তু কর্মের মধ্য দিয়ে সেটা প্রমাণ করতে পারি না। আমাদের বয়সীদের জন্য আরেকটা হতাশার জায়গা হলো, আমাদের সময়ে তরুণদের মধ্যে পরিবর্তনের ভাষা ছিল। এখন সেই পরিবর্তনের ভাষা খুব একটা দেখি না। তবে আশার জায়গাও আছে। যারা এখন চলচ্চিত্র বানাচ্ছেন, তারা নতুন কিছু চেষ্টা করছেন। তাদের ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দর্শক। একটু আলাদা সিনেমা হলে মানুষ দেখতে যাচ্ছে। অর্থাৎ সৃজনের চেষ্টা, আগ্রহ, মায়া, ভালোবাসা কিছু মানুষের মধ্যে আছে। মানুষের মধ্যেও সেই সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে। কিন্তু সেটা সংখ্যায় খুব বড় নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদপত্র, টেলিভিশন— সব জায়গাতেই আমরা এমন ঘটনাই বেশি দেখি, যা মানুষকে আহত, ব্যথিত ও হতাশ করে।






