দুই ময়দানে প্রীতি

বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা
বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা বড় পর্দা এবং আদালত— দুই জায়গাতেই আলোচনায় উঠে এসেছেন। একদিকে তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’ সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফিরছেন, অন্যদিকে এআই প্রযুক্তি অপব্যবহারে সাজানো ডিপফেক কনটেন্টের বিরুদ্ধে গুগলসহ ১৬টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামার অনুমতি পেয়েছেন। অবৈধভাবে নিজের নাম, মুখ, কণ্ঠ ও পরিচয় বিকৃত করে অনলাইনে ব্যবহার হওয়ার কারণে সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ নিয়ে ভারতীয় হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন এই তারকা। গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে মামলা দায়েরের প্রাথমিক আইনি অনুমোদন দিয়েছেন বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি অভয় আহুজা।
এসব কনটেন্ট অনলাইনে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতের বাইরে অবস্থিত, তাই আদালতের অনুমতি প্রয়োজন ছিল।
এদিকে গতকাল প্রীতির বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’-এর ১ মিনিট ৫ সেকেন্ডের টিজার প্রকাশ হয়েছে। এতে তার উপস্থিতি দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
টিজারে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পটভূমিতে নির্মিত গল্পে সেই সময়ের সহিংসতা, বিভীষিকাময় পরিস্থিতি, শরণার্থী সংকট এবং নাগরিকদের মানসিক যন্ত্রণা। গল্পটি আবর্তিত হয়েছে একটি মুসলিম পরিবারের জীবনকে ঘিরে, যারা লখনৌ থেকে দেশভাগের সময় লাহোরে চলে আসে। তারা একটি পুরনো বাড়িতে আশ্রয় নেয়, যা আগে একটি হিন্দু পরিবারের ছিল; কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন জানা যায় সেই হিন্দু পরিবারটি বাড়িটি ছাড়েনি এবং তারা নিজের ঘর ছেড়ে যেতে রাজি নয়।
এই পরিস্থিতিতে দুই পরিবারের মধ্যে তৈরি হয় উত্তেজনা, অবিশ্বাস এবং মানসিক সংঘাত।
টিজারে দেখা গেছে, পরিবার নিয়ে প্রীতি এক লড়াইয়ে নেমেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান– শুধু সংঘর্ষের গল্প নয়, বরং এটি দেখায় মানুষের ভেতরের মানবিকতা, সহানুভূতি এবং সহাবস্থানের সম্ভাবনাও কতটা শক্তিশালী হতে পারে।
দেশভাগের বেদনাবিধুর অধ্যায়কে কেন্দ্র করে ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’ পরিচালনা করেছেন রাজকুমার সন্তোষী। নাট্যকার আসগর ওজাহতের বিখ্যাত নাটক ‘জিস লাহোর নাই দেখিয়া ও জামাইয়ানি’ অবলম্বনে চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে।
সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে আমির খান প্রোডাকশনস।
সিনেমাটিতে প্রীতির সহশিল্পী সানি দেওল। ভারতের স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন আগামী ১৪ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে এই চলচ্চিত্র।




