ভালো-মন্দ ইমেজে মাধুরী

মাধুরী দীক্ষিত। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
আবেদনময়ী ও কমেডির মিশেলে দর্শকদের মন ভরালেন অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত। নেটফ্লিক্সে সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘মা বেহেন’ সিনেমায় রেখা চরিত্রে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। ভারতে তো বটেই, বাংলাদেশে শীর্ষ ১০ সিনেমার তালিকায় এক নম্বরে আছে এটি। ‘মা বেহেন’-এ নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রী তৃপ্তি ডিমরিকে ছাপিয়ে দর্শকদের নজর কেড়েছে মাধুরীর সাবলীল অভিনয় ও গ্ল্যামার। ক্যারিয়ারে অসংখ্য সফল কমেডি চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও মাধুরী মনে করেন, ভালো কমেডির মূল শক্তি চিত্রনাট্য। তিনি ‘মা বেহেন’-এর চিত্রনাট্যকার পূজা তোলানির প্রশংসা করে বলেন, ‘চরিত্রগুলোর ভাষা, আচরণ, দুর্বলতা ও মানসিকতা খুব ভালোভাবে বুঝেছেন পূজা। ফলে গল্পের হাস্যরস স্বাভাবিকভাবে ফুটে উঠেছে।’
প্রচলিত মায়েদের মতো আত্মত্যাগের প্রতীক নন তিনি; বরং নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পরিস্থিতিকে নিজের বশীকরণে রাখতে চান এই নারী। মা চরিত্রটি এখানে নিখুঁত নয়, বরং ধূসর। এ বিষয়ে মাধুরীর বক্তব্য স্পষ্ট, ‘মায়েরাও মানুষ, তাই তাদেরও ভালো-মন্দ দুই দিকই থাকতে পারে।’
একসময় মাধুরী ছিলেন বলিউডের আদর্শ নায়িকার প্রতীক। পর্দায় সৌন্দর্য, নাচ ও অভিনয় দক্ষতার সম্মিলনে স্বপ্নের নায়িকা হয়ে ওঠেন তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে তার চরিত্র নির্বাচনের ধরন। এখন তিনি আগ্রহী এমন নারীদের গল্পে, যারা নিখুঁত নন; বরং বাস্তব, জটিল ও সীমাবদ্ধতায় ঘেরা।
এক সাক্ষাৎকারে মাধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা নিজের ইমেজকে মাঝেমধ্যে নাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তার মতে, একজন অভিনেত্রীর কাজই হলো বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে আবিষ্কার করা। মাধুরী বলেন, ‘ওটিটি প্ল্যাটফর্ম শিল্পীদের এমন সব বিষয় ও চরিত্র বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছে, যা আগে বাণিজ্যিক হিসাব-নিকাশের কারণে সবসময় সম্ভব হতো না। ফলে এখন গল্প ও চরিত্রের গভীরতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া যাচ্ছে।’
মাধুরীর ভাষায়, ‘সবসময় এমন চরিত্রে অভিনয় করতে চেয়েছি, যেগুলো আলাদা এবং অভিনয়শিল্পী হিসেবে নতুন কিছু করার সুযোগ দেয়।’




