বৃষ্টি শেষ হওয়ার পর ছাতা ধরে লাভ কী

ছবি: আগামীর সময়
জীবনের নানা চড়াই-উতরাইয়ে কখনো দমে যাননি। নতুন সিনেমা, ওটিটি, মাতৃত্ব, ব্যক্তিজীবন, আইনি লড়াই ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন পরীমণি। শুনেছেন মীর রাকিব হাসান।
আপনার প্রিয় দল তো আর্জেন্টিনা?
হ্যাঁ। আমি আর্জেন্টিনার ডাই-হার্ড সমর্থক। আমার সন্তানদের নিয়ে মেসিদের খেলা উপভোগ করব। তারা ফুটবল খুব ভালোবাসে। আমার ছেলে তো বাসায় ফুটবল খেলতে গিয়ে সবকিছু ভেঙে ফেলে। মাঝেমধ্যে তাকে দেখলে মনে হয় মেসিকে দেখছি!
‘রঙিলা কিতাব’-এর পর ওটিটিতে কাজ করেননি কেন?
এখন আমার এক্সপেরিমেন্ট করার সময় না। একটা কাজ করলাম, দেখি কী হয়— এ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসেছি। এখন যে কাজ করব, সেটি নিয়ে নিশ্চিত হতে চাই। দর্শক সেটি পছন্দ করবে, এটাই চাই। শক্তিশালী চরিত্র না হলে কাজ করার কোনো ইচ্ছা নেই। আশার কথা হলো, ‘রঙিলা কিতাব সিজন ২’ আসছে।
বলতে পারেন, এ কাজটির জন্য পাগলের মতো অপেক্ষা করছি! এবারের কিস্তিতে সুপ্তি মারকুটে স্টাইল থাকবে।
কোনো বিশেষ ধরনের চরিত্রে কাজ করার ইচ্ছা আছে?
অবশ্যই আছে। রবীন্দ্রনাথের কোনো চরিত্র আধুনিকভাবে পর্দায় আনতে চাই। কখনো সুযোগ পেলে সঞ্জয়লীলা বানসালির সিনেমার মতো কোনো সিনেমায় কাজ করতে চাই।
পরিবার ও সন্তানদের কারণে কি কাজ কম করছেন?
একদম। আমার জীবনে এখন দুই সন্তানকে নিয়েই সবচেয়ে বড় ব্যস্ততা। তাদের বাইরে আর কিছু দেখি না। কোনোভাবে একটু সময় বের করতে পারলে সন্তানদের সঙ্গেই কাটাতে চাই। আমার কোনো বিশেষ সাপোর্ট সিস্টেম নেই। ফলে সন্তানদের দায়িত্ব আমার নিজেকেই নিতে হয়। তবে পৃথিবীতে এর চেয়ে সুন্দর কিছু আছে বলে আমার মনে হয় না।
সিঙ্গেল মাদার হিসেবে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?
আমরা সাধারণত সিঙ্গেল মাদার বলতে বুঝি, যেখানে বাবার কোনো উপস্থিতি নেই। সে হিসেবে আমি বলব, বাংলাদেশে ৯৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ মা-ই মূলত সিঙ্গেল মাদার। বাবা থাকলেও সন্তান পালনের প্রায় সব দায়িত্ব মায়ের ওপর পড়ে। ডায়াপার বদলানো, খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানো, পড়াশোনা, স্কুলসহ সবকিছু। বাবারা অনেক সময় শুধু নামেই থাকেন। একজন মা যখন সন্তানকে দুধ খাওয়াচ্ছেন, তখন বাবারও অনেক কিছু করার থাকে। পাশে বসা, একটা বালিশ এগিয়ে দেওয়া, মাকে একটু মানসিক সাপোর্ট দেওয়া— এগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের সমাজে এ সংস্কৃতি খুবই কম।
আপনার সন্তানের বাবা যদি কোনোদিন ফিরে আসতে চায়?
বৃষ্টি শেষ হওয়ার পর ছাতা ধরে লাভ কী? এখন আমার সন্তানরা আমাকে পেয়েই বেড়ে উঠছে। আমার ছেলে এখন অনেক কিছু বোঝে। আমি খারাপ থাকলে সেটি বুঝতে পারে। আর কয়েক বছর পর হয়তো তাদের আর কাউকেই দরকার হবে না। তারা নিজেরাই নিজেদের দেখভাল করতে পারবে।
ভালোবাসার সংজ্ঞা আপনার কাছে কী?
আমার জীবনে ভালোবাসা অনেক সময় ‘ওয়েস্ট অব লাইফ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু দিয়েই গেছি। কিন্তু যার জন্য দিয়েছি, সে বুঝতেই পারেনি। আমি কোনো প্রতিদান পাইনি। তবে এসব নিয়ে আফসোস করি না। জীবনের অংশ হিসেবেই দেখি।
জীবন বিষয়ে নিজেকে খুব ভালো শিক্ষার্থী বলতে পারব না। জীবনের সবকিছু উপভোগ করেছি। ব্যর্থতা, কষ্ট, অপমান, ঘৃণা সবকিছু
জীবন থেকে সবচেয়ে বড় কোন শিক্ষা পেলেন?
জীবন বিষয়ে নিজেকে খুব ভালো শিক্ষার্থী বলতে পারব না। জীবনের সবকিছু উপভোগ করেছি। ব্যর্থতা, কষ্ট, অপমান, ঘৃণা সবকিছু। তাই কোনো কিছু নিয়ে আমার আফসোস নেই। যদি আবার নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ পাই, তবুও কিছু বদলাব না। কারণ, তাহলে আমার জীবনটা আর আমার থাকত না।
নতুন কোনো কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন?
এখন মূলত ‘শাস্তি’র জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। চরিত্র নিয়ে ভাবছি, মহড়া করছি। আসলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোনো গল্পকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরা খুব সহজ বিষয় নয়। আমরা যখন স্ক্রিপ্ট পড়ি, তখন বুঝতে পারি বিষয়টি কতটা জটিল। আশা করছি, খুব দ্রুত ‘গোলাপ’ সিনেমাটিরও শুটিং শুরু হবে।
‘প্রীতিলতা’র কাজ অনেক দিন ধরে থমকে আছে কেন?
এর পেছনে অনেক কারণ আছে। আমার জেলে যাওয়া, এরপর নতুন জীবন, বিয়ে, সন্তান, সংসার, ডিভোর্সসহ অনেক কিছু পার করতে হয়েছে। শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেকে আবারও প্রস্তুত করতে সময় লেগেছে। আগের লুকে ও পুরনো ছন্দে ফেরার জন্য সময় দরকার ছিল। এখন মনে হচ্ছে, সে সময় কাটিয়ে উঠেছি। অবশেষে ‘প্রীতিলতা’র মধ্যে ঢুকতে পারছি। এটি আমার জন্য সত্যিই অনেক বড় খবর। কারণ, এটি আমার স্বপ্নের কাজগুলোর একটি।
আপনার চলমান মামলাগুলোর কী অবস্থা?
মামলাগুলো চলছে। তিন-চার দিন আগেও একটি মামলায় হাজিরা ছিল। কিন্তু আমার সন্তান অসুস্থ ছিল, তাই যেতে পারিনি। সবসময় চেয়েছি আইনি প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে চলুক। কিন্তু বাস্তবে আমরা কতটা স্বচ্ছতা দেখি, সেটি সবাই জানে। অনেক বড় মামলা দ্রুত খারিজ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমার মামলার খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। তারপরও আইনি পথে এগোতে চাই।
‘ডোডোর গল্প’ মুক্তি পাবে কবে?
এই সিনেমার নায়ক সাইমন সাদিক আওয়ামী ঘারানার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক কারণে নির্মাতারা তাকে নিয়ে কীভাবে সিনেমাটি মুক্তি দেবেন, সেটাই সিনেমার সমস্যা।
কখনো রাজনীতিতে আসার কথা ভেবেছেন?
আমি রাজনীতিতে গেলে বিপর্যয় ঘটবে। কারণ, আমি নিজের মতো চলতে চাই। এ দেশে নিজের মতামতের জায়গা কম। অনেকের মতামত নিয়ে চলতে হয়; কিন্তু আমি সেটি পারব না।


