দর্শকের রুচিকে সমৃদ্ধ করার দায়িত্ব নির্মাতাদের

অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম
‘ফিরে আসার গল্প’ ধারাবাহিক নাটকে সুলতান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম। এর প্রথম পর্ব কোটি ভিউ পেরিয়েছে। দ্বিতীয় পর্ব পেয়েছে ৭০ লাখ ভিউ। এ প্রসঙ্গে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
‘ফিরে আসার গল্প’ ধারাবাহিকের প্রথম দুই পর্ব প্রচারের পর কেমন প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন?
সম্প্রতি একটি ওটিটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে সাধারণ দর্শকের অনেকে বলেছেন, তারা ‘ফিরে আসার গল্প’ দেখেছেন। প্রথম দুই পর্বই তাদের খুব ভালো লেগেছে। পুরো ধারাবাহিকটি নিয়মিত দেখবেন বলেও জানিয়েছেন। দর্শকের কাছ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া পাওয়া ভালো লাগার বিষয়।
‘ফিরে আসার গল্প’র কোন দিকটি আপনাকে প্রথম আকৃষ্ট করেছিল?
মূল আকর্ষণ ছিল নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের নির্মাণশৈলী এবং তার টিমের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ। দেশে পারিবারিক গল্পনির্ভর নাটকের যে ধারা নতুন করে জনপ্রিয় হয়েছে, রাজ সেই ধারার অন্যতম উদ্যোক্তা। ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ থেকে শুরু করে পরিবারকে কেন্দ্র করে অনেক নাটক তৈরি হয়েছে। তার কাজের মধ্য দিয়ে দর্শকের কাছে শুধু রোমান্টিক নায়ক-নায়িকানির্ভর নাটক নয়, পারিবারিক গল্পও যে পৌঁছানো সম্ভব, সেই ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণে তার প্রতি শিল্পী ও নির্মাতাদের আলাদা শ্রদ্ধা আছে। অনেক দক্ষ ও অভিজ্ঞ অভিনেতা-অভিনেত্রী এখন বিভিন্ন নাটকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। এই ইতিবাচক ধারার সঙ্গে যুক্ত হতে চেয়েছি। তা ছাড়া এই ধারাবাহিকের কয়েকজন শিল্পীর সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করা হয়নি। তাদের সঙ্গে আবার কাজ করার সুযোগও আমার কাছে আকর্ষণীয় ছিল।
প্রায় ১৩ বছর পর জাহিদ হাসানের সঙ্গে একসঙ্গে ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন...
জাহিদের পরিবারের সঙ্গে আমার পরিবারের অত্যন্ত সুসম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি এমন নয় যে, প্রতিদিন আমাদের দেখা কিংবা নিয়মিত যোগাযোগ হয়। হয়তো বছরে এক-দুবার দেখা হয়, কখনো ছয় মাসে একবার ফোনে কথা হয়। কিন্তু মানসিকভাবে আমাদের মধ্যে একটা টান ও আন্তরিকতা রয়েছে। তাদের প্রতি আমার যেমন একটা জায়গা আছে, আমার প্রতিও তাদের তেমনই আছে বলে মনে করি। এই সম্পর্কের একটা আলাদা মাত্রা রয়েছে।
‘ফিরে আসার গল্প’র শুটিংয়ের পরিবেশ কি অন্য সেটগুলোর মতোই?
প্রতিটি শুটিংয়ের পরিবেশই আলাদা। একজন নির্মাতার কাজের বড় একটি দিক হলো শিল্পীদের অভিনয়ের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা এবং তাদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা। শিল্পী যেন নিজের অভিনয়টা স্বতঃস্ফূর্তভাবে করতে পারেন, সেই সুযোগ তৈরি করে দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। ‘ফিরে আসার গল্প’র ক্ষেত্রেও সেই বিষয়টি রয়েছে। একজন নির্মাতা কীভাবে তার শিল্পীদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করছেন, সেটাই কাজের অভিজ্ঞতায় পার্থক্য গড়ে দেয়।
নাটকে দর্শকের রুচি, দেখার অভ্যাস ও কনটেন্ট গ্রহণের মাধ্যম বদলেছে। একজন অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পী হিসেবে এই পরিবর্তনের মধ্যে কী ধরনের সম্ভাবনা দেখছেন?
দর্শকের রুচি নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে আমার মনে হয়, প্রত্যেকের পছন্দকে সম্মান করা উচিত। নির্মাতারা যদি ধরে নেন, যত হালকা বিষয় নিয়ে কাজ করা হবে, সেটিই ট্রেন্ডি হবে বা জনপ্রিয়তা পাবে, তাহলে সেটি ভুল ধারণা। দর্শককে এত বোকা ভাবার কোনো কারণ নেই। দর্শকের রুচিকে সমৃদ্ধ করার দায়িত্ব রয়েছে নির্মাতাদের। নিজের দায়িত্ববোধ ও সৃজনশীলতা দিয়ে তাদের ভালো কাজ উপহার দিতে হবে।




