বিনোদন জগতের সবচেয়ে গরিব অভিনেতা আমি

ছবি: আগামীর সময়
ছোট পর্দার অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব বর্তমানে কাজের সংখ্যা কমিয়ে চরিত্রের গভীরতা ও মানের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
আপনি তো জার্মানির সমর্থক, আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করার কারণ কী?
সব দলেরই খেলা দেখি। বিশেষ করে, বিশ্বকাপ কিংবা বিগ ম্যাচ হলে তো কথাই নেই। রাতে বা ভোরে খেলা হয় বলে দেখার সুযোগ বেশি পাচ্ছি। সেদিন আর্জেন্টিনার খেলা দেখেছি। জার্মানির পর আমার পছন্দের দল আর্জেন্টিনা।
আপনার নিজের জেলা ভোলায় গিয়েছিলেন...
ভোলায় ‘আমার রাজ্যে তুমি আমার’ নামের একটি নাটকের শুটিং করেছি। এতে আমার সহশিল্পী কেয়া পায়েল ও মালাইকা চৌধুরী। এখনো এ নাটকের শুটিং করে যাচ্ছি। আরও দুদিন লাগবে হয়তো। মালাইকা আর আমার এটিই প্রথম একসঙ্গে কাজ করা। বড় বোন মেহজাবীন চৌধুরীর মতোই সে খুব শান্ত; কিন্তু নাটকে তার চরিত্র একেবারে উল্টো— খুব চঞ্চল ও দুষ্টু। সে বেশ ভালো কাজ করেছে। মাশরিকুল আলম পরিচালিত নাটকটি ইউটিউবে ক্যাপিটাল ড্রামা চ্যানেলে আসবে।
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর খবর কী?
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ে বিরতি পড়েছে। কারণ পরিচালক কাজল আরেফিন অমি গলার অসুস্থতায় ভুগছিলেন। আমরা আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি পরে একটি ফুটবল ম্যাচ খেলেছি। একটি পর্বে দেখা যাবে এই আয়োজন। ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ আমার জন্য খুব উপভোগ্য একটা জার্নি। ধারাবাহিকটি শেষ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে খুব মিস করব।
ঈদুল আজহার নাটকগুলো নিয়ে কেমন সাড়া পেলেন?
‘ওয়ারিশ’ অনেক আলোচিত হয়েছে। অনেকে রাস্তায় দেখা হলে গল্প, চরিত্র ও অভিনয় নিয়ে কথা বলছেন। আমার বড় ভাইয়ের চরিত্রের সঙ্গে অনেকেই নিজেকে মিলিয়েছেন। ‘দরদিয়া’ নামে আরেকটি কাজ এসেছে। পুরনো বাংলা সিনেমা ধাঁচের। সেটি নিয়েও সাড়া পেয়েছি।
নাটকের ব্যস্ততা কি কোনো কারণে কমিয়েছেন?
এখন আর হুটহাট কাজ করি না। একটি চরিত্রের জন্য ১০-১২ দিনের মতো প্রস্তুতি নিই। আগে একসময় মাসে ১০টির বেশি নাটক করতাম, এখন সে সংখ্যা কমিয়ে দু-তিনটিতে নামিয়ে এনেছি। কারণ, এখন মানের দিকে বেশি ফোকাস দিচ্ছি। এ কারণে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। বলতে পারেন, বিনোদন জগতের সবচেয়ে গরিব অভিনেতা আমি। অবশ্য কাজ কম করলেও বেশ শান্তিতে আছি। নিজেকে মানসিকভাবে ধনী মনে করি। আমার কাছে শান্তি এখন বড় জিনিস।
নিজের কোন কাজ আপনার জীবনের উপলব্ধিতে পরিবর্তন এনেছে?
পর্দায় যেসব চরিত্র ফুটিয়ে তুলি, সেগুলোর প্রভাব ব্যক্তিজীবনেও পড়ে। বিশেষ করে কবরের আজাব বা আধ্যাত্মিক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার পর থেকেই আমার জীবনবোধ বদলে গেছে। কবরস্থানের দৃশ্যে কাজ করতে গিয়ে এটি গভীরভাবে অনুভব করেছি। এর আগেও কবরে শুটিং করেছি। হয়তো বয়স এমন একটা জায়গায় এসেছে, কবরের দৃশ্যে কাজ করতে গিয়ে জীবনকে অন্যভাবে দেখেছি।
সিনেমা নিয়ে পরিকল্পনা কী?
হিট বা ফ্লপ সিনেমার ঝুঁকি নিতে চাওয়া অনেক বড় সিদ্ধান্ত। এখন ভাবি, সিনেমাও করতে হবে। বলতে পারি, সেটা ভেবেই নাটকের কাজ এক রকম কমিয়ে দেওয়া। বছরে ৫০-৬০টি নাটকে অভিনয় করি। সেক্ষেত্রে বছরে একটি সিনেমা করে কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল থাকব, সেটাও ভাবনার বিষয়। তা ছাড়া কাজ না করারও কিন্তু একটা কষ্ট থাকবে। অফার আসে; কিন্তু হুট করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না।




