বিটিএস তারকা কিম নামজুন
হানপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজারের বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক অর্থ প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠান 'হানপাস'- এর সার্ভারে রক্ষিত গ্রাহকদের অতি সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে বড় ধরনের প্রশ্ন। প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার নাজিয়া ইসলাম ওর্দির বিরুদ্ধে বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস-এর দলনেতা কিম নামজুন (আরএম)-এর ব্যক্তিগত তথ্য অবৈধভাবে পর্যবেক্ষণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উন্মুক্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম 'স্পোর্টসকিডা'- এর তথ্যমতে, এ ঘটনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির পেশাদারিত্ব ও ডেটা সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট হানপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার নাজিয়া ইসলাম তার ফেসবুক প্রোফাইলে একটি স্পর্শকাতর পোস্ট দেন। তিনি হানপাসে বিটিএস সদস্য নামজুন-এর ব্যক্তিগত একাউন্টের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, হানপাসের সিস্টেমে তারকা নামজুন-এর নাম ও জন্মতারিখযুক্ত অ্যাকাউন্ট খুঁজে পেয়েছেন। কমেন্ট সেকশনে তিনি গ্রাহকের অন্যান্য গোপন তথ্য দেখার ইঙ্গিত দিয়ে মন্তব্য করেন। কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থেকে গ্রাহকের ডেটাবেজ এভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করায় হানপাসের তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার রেমিট্যান্স ও ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস সেক্টরে কর্মরত অভিজ্ঞ পেশাজীবী হোসেন বরকত উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, একজন কর্মী যদি প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনাল সিস্টেম ব্যবহার করে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করেন, তবে তা পেশাদারিত্বের চরম লঙ্ঘন। তিনি বলেন, একজন সেলিব্রিটির তথ্য যদি সুরক্ষিত না থাকে, তবে কোরিয়ায় বসবাসকারী হাজার হাজার সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাসপোর্ট, আইডি কার্ড ও ব্যাংক তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন ওঠে। হানপাসের উচিত অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মীকে বরখাস্ত করা এবং কাস্টমার ডেটা সুরক্ষায় কঠোর নিয়ম জারি করা।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা বিটিএস ভক্তরা (আর্মি) ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ক্ষুব্ধ গ্রাহক ও ভক্তরা হানপাসের অফিশিয়াল ইমেইল ও বিটিএস-এর এজেন্সি 'হাইব' -এর কাছে ইমেইল পাঠিয়ে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
হানপাস কর্তৃপক্ষের শিথিল প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। ইমেইল বার্তায় হানপাস জানায়, বিষয়টিকে কর্মী তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে পোস্ট করেছেন, যা একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে তিনি এমন কাজ করতে পারেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।






