৭০০ মিলিয়নের ক্লাবে পপ সম্রাট মাইকেলের বায়োপিক

মাইকেলের জুতোয় পা গলিয়েছেন তার নিজের আপন ভাইপো জাফর জ্যাকসন
পপ দুনিয়ার মুকুটহীন সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের রুপালি পর্দার জাদু এখন মাতাচ্ছে পুরো বিশ্বকে। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির চার সপ্তাহ পার করার পরও তার জীবনের গল্প নিয়ে তৈরি বায়োপিক ‘মাইকেল’ উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে এখনো ধরে রেখেছে এক নম্বর আসন। এই সপ্তাহান্তে বিশ্ব জুড়ে সবচেয়ে বেশি টাকা কামানো সিনেমার তালিকায় এটি শীর্ষস্থান দখল করে হলিউডে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে।
গালভরা সব হিসাব বাদ দিয়ে বক্স অফিসের আসল খাতাটা খুললে দেখা যাবে, এই সিনেমাটি কেবল উত্তর আমেরিকা থেকেই পকেটে পুরেছে প্রায় ২৬ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার। আর দেশের বাইরের বাজারে তো এর জাদু চলেছে আরও জোর কদমে, যেখানে সিনেমাটি এক ধাক্কায় ৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যবসা করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
নতুন আসা বেশ কিছু সিনেমা এই সপ্তাহে মাইকেলের সঙ্গে লড়াইয়ে নেমেও তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি। বহুল প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েল সিনেমা ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’ যুক্তরাষ্ট্রের ও কানাডার প্রেক্ষাগৃহে ভালো চললেও ১৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।
অন্যদিকে মাত্র ১৬ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের কম বাজেটে তৈরি ফোকাস ফিচার্সের নতুন হরর ছবি ‘অবসেশন’ দর্শকদের কিছুটা ভয় দেখিয়ে তালিকায় তিন নম্বর আসনটি লুফে নিয়েছে। মনের মানুষকে পাওয়ার জন্য শয়তানের সঙ্গে চুক্তি করে এক যুবকের অলৌকিক বিপদে পড়ার এই গল্পটি তরুণদের বেশ বিনোদন দিচ্ছে।
এ ছাড়া মারপিটে ভরপুর ‘মর্টাল কমব্যাট ২’ এক ধাপ পিছিয়ে চার নম্বরে আর গোয়েন্দা গল্প ‘দ্য শিপ ডিটেকটিভস’ ৯ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার আয় করে কোনোমতে পাঁচ নম্বর স্থানটি টিকিয়ে রেখেছে।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব জুড়ে এখন পর্যন্ত ‘মাইকেল’ সিনেমাটি ব্যবসা করেছে প্রায় ৭০৩ মিলিয়ন ডলারের। মাত্র চার সপ্তাহে উত্তর আমেরিকার বাজার থেকে ২৮২ মিলিয়ন আর বিদেশের মাটি থেকে ৪২০ মিলিয়ন ডলার তুলে নিয়ে এটি চলতি বছরের সবচেয়ে বেশি লাভজনক ছবির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানটি পাকা করে ফেলেছে।
লায়ন্সগেটের ব্যানারে তৈরি এই ছবিতে মাইকেলের জুতোয় পা গলিয়েছেন তার নিজের আপন ভাইপো জাফর জ্যাকসন। জীবনের প্রথম অভিনয় হলেও নিজের চাচার হাঁটা-চলা আর নাচের নিখুঁত নকল করে এই তরুণ এখন দর্শকদের মন জয় করে নিচ্ছেন। গায়কের জীবনের কিছু বিতর্কিত ঘটনা সিনেমায় এড়িয়ে যাওয়ার কারণে অনেক সমালোচনা হলেও নস্টালজিয়া আর গানের টানে মানুষ দলে দলে প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করছেন।
চলচ্চিত্র সমালোচকরা মনে করছেন, খুব শিগগির এই ছবিটি ‘ওপেনহাইমার’ আর ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’-র মতো কালজয়ী সিনেমাগুলোর রেকর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে। বর্তমানে এটি পৃথিবীর তৃতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী বায়োপিক হলেও সামনে বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এটি খুব দ্রুত ৯০০ মিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পার করে ফেলবে। এমনকি অনেকে তো বাজি ধরছেন যে, থিয়েটার থেকে বিদায় নেওয়ার আগে এটিই হবে পৃথিবীর প্রথম বায়োপিক যা ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার আয়ের এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস নিজের নামে লিখে নেবে।







