বিমানপ্রেম থেকে জন ট্রাভোল্টার বই, এবার পরিচালক হিসেবে অভিষেক

সংগৃহীত ছবি
কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় আবারও ফিরছেন হলিউড তারকা জন ট্রাভোল্টা। তবে এবার অভিনেতা নন, পরিচালক হিসেবে হাজির হবেন তিনি। তার পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘প্রপেলার ওয়ান-ওয়ে নাইট কোচ’ জায়গা করে নিয়েছে এবারের আসরের ‘কান প্রিমিয়ার’ বিভাগে। আগামী ১২ মে ফ্রান্সের দক্ষিণে সাগরপাড়ে পালে দে ফেস্টিভ্যাল ভবনের দ্যুবুসি থিয়েটারে হবে এর পয়লা প্রদর্শনী। প্রিমিয়ার শোতে উপস্থিত থাকবেন ৭২ বছর বয়সী এই আমেরিকান তারকা।
অভিনয়ের গণ্ডির বাইরে জন ট্রাভোল্টার আরেকটি পরিচয় হলো তিনি একজন দক্ষ পাইলট। শৈশবে নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের ওঠানামা দেখতে ভালো লাগতো তার। ১৫ বছর বয়সে উড়োজাহাজ চালানো শুরু করেন তিনি। ২২ বছর বয়সে অর্জন করেন প্রথম পাইলট লাইসেন্স। বোয়িং ৭০৭, ৭৩৭, ৭৪৭, বোম্বারডিয়ার গ্লোবাল এক্সপ্রেসসহ একাধিক উড়োজাহাজ চালানোর সনদ রয়েছে তার। প্রথম ব্যক্তিগত পাইলট হিসেবে এয়ারবাস এ৩৮০ ওড়ানোর কৃতিত্ব গড়েছেন তিনি। ৯ হাজার ঘণ্টার বেশি সময় ফ্লাইট পরিচালনায় অভিজ্ঞতা আছে এ অভিনেতার। ‘লুক হু ইজ টকিং’ (১৯৮৯) ও ‘ব্রোকেন অ্যারো’ (১৯৯৬) ছবি দুটিতে বিমান চালিয়েছেন নিজেই। কয়েকটি ব্যক্তিগত বিমানও রয়েছে তার।
বিমানপ্রেম থেকে নিজের ছেলেকে ভেবে ‘প্রপেলার ওয়ান-ওয়ে নাইট কোচ’ নামের একটি ছোটগল্প লিখেছেন জন ট্রাভোল্টা। নিজের শৈশবের স্মৃতি, প্রথম বিমানযাত্রা এবং জীবনে শোনা অসংখ্য মানুষের গল্পই ছিল তার বই লেখার অনুপ্রেরণা। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থ অবলম্বনে তৈরি হয়েছে অ্যাপল অরিজিনাল ফিল্মস প্রযোজিত নতুন চলচ্চিত্র। এর গল্পে দেখা যাবে, বিমানপ্রেমী কিশোর জেফ ও তার মা বিমানে হলিউডযাত্রায় যায়। ফ্লাইটের খাবার, আকর্ষণীয় কেবিন ক্রু, অপ্রত্যাশিত যাত্রাবিরতি, বিচিত্র সহযাত্রী এবং ফার্স্ট ক্লাসের রোমাঞ্চ মিলিয়ে তাদের ভ্রমণ ধীরে ধীরে রূপ নেয় এক জাদুময় অভিজ্ঞতায়।
ছবিটিতে জেফ চরিত্রে অভিনয় করেছেন নবাগত ক্লার্ক শটওয়েল। এছাড়া আছেন কেলি এভিস্টন-কুইনেট, এলা ব্লু ট্রাভোল্টা, ওলগা হফম্যান। প্রযোজনায় জন ট্রাভোল্টার জেটিপি ফিল্মস ও কিডস অ্যাট প্লে। প্রযোজক হিসেবে আছেন জন ট্রাভোল্টা, জেসন বার্গার ও অ্যামি ল্যাসলেট। কান উৎসবে প্রদর্শনের পর আগামী ২৯ মে বিশ্বব্যাপী অ্যাপল টিভিতে মুক্তি পাবে ছবিটি।
কান উৎসবের সঙ্গে জন ট্রাভোল্টার সম্পর্ক নতুন নয়। এর আগে তার ‘পাল্প ফিকশন’ (১৯৯৪) ও ‘শি ইজ সো লাভলি’ (১৯৯৭) স্থান পেয়েছে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে। এছাড়া ‘প্রাইমারি কালারস’ (১৯৯৮) ছিল উদ্বোধনী ছবি। এরমধ্যে কোয়েন্টিন টারান্টিনো পরিচালিত ‘পাল্প ফিকশন’ জিতেছে মর্যাদাপূর্ণ স্বর্ণ পাম।
বিশ্ব চলচ্চিত্রে অন্যতম জনপ্রিয় তারকা জন ট্রাভোল্টা অর্ধশতকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন ৭০টির বেশি ছবিতে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘স্যাটারডে নাইট ফিভার’ (১৯৭৭), ‘গ্রিজ’ (১৯৭৮), ‘ব্লো আউট’ (১৯৮১), ‘ফেস/অফ’ ৯১৯৯৭), ‘হেয়ারস্প্রে’ (২০০৭) প্রভৃতি। অস্কারে সেরা অভিনেতা বিভাগে দু’বার মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। গোল্ডেন গ্লোবসে তিনবার ও এমি অ্যাওয়ার্ডসে একবার পুরস্কৃত হয়েছেন এই তারকা।

