নানা পাটেকরের চরিত্রগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্মরণ করবে : মোদি

মোদি ও নানা পাটেকর
ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিনেতার অভিনয় প্রতিভা, স্বাতন্ত্র্য ও হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে তার দীর্ঘ অবদানের কথা স্মরণ করেন।
মোদি লিখেছেন, ‘শ্রী নানা পাটেকরজির মতো গভীর আবেগ, স্বাতন্ত্র্য ও অনন্য উপস্থিতির অধিকারী অভিনেতা খুব কমই ছিলেন। প্রতিটি চরিত্রে তিনি অসাধারণ বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতার ছাপ রেখেছেন এবং এমন সব চরিত্র উপহার দিয়েছেন, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্মরণ করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিজের স্পষ্ট ও অকপট মতামতের জন্যও নানা পাটেকর প্রশংসিত ছিলেন। তিনি যা বিশ্বাস করতেন, তা প্রকাশ করতে কখনো দ্বিধা করতেন না।’
নানা পাটেকরের অবদান প্রসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে শ্রী নানা পাটেকরের অবদান অপরিসীম। তার প্রয়াণে এক গভীর শূন্যতা তৈরি হলো। তার পরিবার, বন্ধু এবং অগণিত ভক্তের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। ওম শান্তি।’
নানা পাটেকর বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর ২০২৬, ৭৫ বছর বয়সে গোয়ার নিজ বাসভবনে মারা যান। প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
১৯৫১ সালে মহারাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া নানা পাটেকরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার প্রায় পাঁচ দশকের। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। পরে ‘অঙ্কুশ’, ‘পারিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘অব তাক ছাপ্পান’, ‘অপহরণ’ ও ‘ওয়েলকাম’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পান। ‘ক্রান্তিবীর’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান পান নানা পাটেকর। ‘পারিন্দা’ ও ‘অগ্নিসাক্ষী’র জন্যও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ সিনেমা পরিচালনাও করেন।
গভীর ও শক্তিশালী চরিত্রের পাশাপাশি কমেডিতেও নিজের আলাদা দক্ষতার পরিচয় দেন নানা পাটেকর। ‘ওয়েলকাম’ সিনেমার উদয় শেঠি চরিত্রটি তার বহুমুখী অভিনয় প্রতিভার আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। মারাঠি সিনেমা ‘নটসম্রাট’-এ তার অভিনয়ও ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে নানা পাটেকর শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবেই নয়, ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম স্বতন্ত্র অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তার মৃত্যুতে হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।





