আগামীর সময়

‘হেরা ফেরি ৩’ নিয়ে যত গুজব

‘হেরা ফেরি ৩’ নিয়ে যত গুজব

‘হেরা ফেরি ৩’ নিয়ে জটিলতা। ছবি: টুইটার

বলিউডের জনপ্রিয় কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অন্যতম হেরা ফেরি। অক্ষয় কুমার, পরেশ রাওয়াল এবং সুনীল শেট্টি অভিনীত এই সিরিজটি গত দুই দশক ধরে দর্শকদের মাত করছে। রাজু, শ্যাম ও বাবুরাও এই তিন চরিত্রকে আবার একসঙ্গে পর্দায় দেখার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছেন সিনেমাপ্রেমীরা। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাবর্তন বারবার আটকে যাচ্ছে আইনি ও আর্থিক জটিলতায়।

এই ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রযোজক ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালা নানা বিতর্ক ও জটিলতার কারণে ‘হেরা ফেরি ৩’ শুটিং এখনও শুরু করতে পারেনি। যদিও অক্ষয় কুমারসহ পুরো দল ছবিটি শুরু করতে আগ্রহী, তবুও সমস্যাগুলো যেন পিছু ছাড়ছে না।

সপ্তাহের শুরুতে একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, একটি বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্রায় ৮০ কোটি রুপির বিনিময়ে ‘হেরা ফেরি’ ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বত্ব কিনতে আগ্রহী। এই স্বত্বটি নাকি এমন একটি তৃতীয় পক্ষের কাছে রয়েছে, যারা প্রকৃত মেধাস্বত্বের মালিক। পরিকল্পনা ছিল, সেই প্রতিষ্ঠান স্বত্ব কিনে ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালার সঙ্গে যৌথভাবে ছবিটি প্রযোজনা করবে এবং পরবর্তীতে নতুন নায়ক নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে নতুনভাবে সাজাবে। তবে নতুনভাবে জানা গেছে, এই পুরো বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত এবং বাস্তব পরিস্থিতি অনেক জটিল।

এই প্রসঙ্গে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিংকভিলা যোগাযোগ করে বিজয় কুমারের সঙ্গে, যিনি ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালার বিরুদ্ধে ‘হেরা ফেরি’ ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বত্ব দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, ‘হেরা ফেরি’ ছবিটি মালয়ালম ‘রামজি রাও স্পিকিং’ ছবির রিমেক। তারা কেবল একবারের জন্য হিন্দি সংস্করণ নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিলেন। সেই অনুমতির ভিত্তিতেই প্রথম ‘হেরা ফেরি’ নির্মিত হয়। কিন্তু এরপর কোনো অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় কিস্তি তৈরি করা হয়। তখন তারা বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেননি এবং বিষয়টি ছেড়ে দেন। তবে যখন তৃতীয় কিস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়, তখন তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন এবং প্রযোজককে নোটিশ পাঠান।

তার দাবি, সেই নোটিশের কোনো ইতিবাচক জবাব পাওয়া যায়নি। বরং তৃতীয় কিস্তির স্বত্ব অন্য কারও কাছে বিক্রি বা হস্তান্তরের চেষ্টা চলছিল। তখনই তারা আদালতের শরণাপন্ন হন এবং মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, আদালত ইতোমধ্যে পরিষ্কারভাবে বলেছে যে, এই ফ্র্যাঞ্চাইজির অধিকার তাদের কাছেই রয়েছে এবং তারা আদালতের চূড়ান্ত আদেশ পাওয়ার ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী।

বিজয় কুমার আরও অভিযোগ করেন, ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালা আদালতে হাজিরা দিতেও বারবার সময়ক্ষেপণ করছেন। বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত কারণে শুনানি বিলম্বিত হচ্ছে। তার মতে, প্রতিপক্ষের এই এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা মামলাকে দীর্ঘায়িত করছে, যদিও এতে চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

স্বত্ব বিক্রির বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমানে তারা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে রাজি নন। প্রথমে ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালার সঙ্গে আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে। এরপরই তারা সিদ্ধান্ত নেবেন স্বত্ব বিক্রি করবেন, নতুনভাবে নির্মাণ করবেন, নাকি অন্য কোনো পরিকল্পনায় এগোবেন। তার ভাষায়, এটি একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড এবং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব আইনি বিষয় পরিষ্কার হওয়া জরুরি।

ছবির কাস্ট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিজয় কুমার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অক্ষয় কুমার, পরেশ রাওয়াল এবং সুনীল শেট্টি এই ত্রয়ীই ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল শক্তি। ব্যবসায়িক দিক থেকে দেখলেও তাদের নিয়ে কাজ করাই সবচেয়ে যৌক্তিক হবে।

তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, শুধু তৃতীয় কিস্তি নয়, পুরো ‘হেরা ফেরি’ ফ্র্যাঞ্চাইজির মেধাস্বত্বই তাদের হাতে রয়েছে। তার মতে, এই পুরো পরিস্থিতি অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং এতে কারও কোনো লাভ নেই। এখন একমাত্র উপায় হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির চূড়ান্ত সমাধান করা।

রায় কবে পাওয়া যেতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, মামলার শুনানি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ হাজিরা না দিলে আদালত কঠোর অবস্থান নিতে পারে। তারা দ্রুত নিষ্পত্তির আশায় থাকলেও আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

সব মিলিয়ে পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে, ‘হেরা ফেরি ৩’ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তৃতীয় পক্ষের কাছে স্বত্ব বিক্রির খবর কিংবা নতুন কাস্ট নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা সবই আপাতত গুজব। ফলে প্রিয় এই কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তি দেখতে দর্শকদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

    শেয়ার করুন: