মৌনীর ছায়ায় নিজেকে গুরুত্বহীন ভাবতেন স্বামী

মৌনী রায় ও সুরজ নাম্বিয়ার
বলিউডের জনপ্রিয় নাগিন অভিনেত্রী মৌনী রায় আর দুবাইয়ের বড় ব্যবসায়ী সুরজ নাম্বিয়ারের সোনার সংসারে এখন বিচ্ছেদের বিষণ্ণ সুর বাজছে খুব করুণভাবে। ২০২২ সালে গোয়ার সমুদ্রসৈকতে জাঁকজমক করে বিয়ে করলেও মাত্র চার বছরের মাথায় তাদের এই সম্পর্কের সুতো ঢিলে হয়ে গেছে বলে এখন পুরো সিনেমাপাড়ায় খবর রটেছে হু হু করে।
যদিও তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানাননি, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরকে আনফলো করা আর সুরজের নিজের আইডি বন্ধ করে দেওয়া থেকে ভক্তরা ডিভোর্সের আশঙ্কাই করছেন খুব জোরালোভাবে।
শোনা যাচ্ছে যে সুরজ নাম্বিয়ার মুম্বাইতে এলে মৌনীর জনপ্রিয়তার আড়ালে নিজেকে খুব ছোট আর গুরুত্বহীন মনে করতেন, কারণ সবাই শুধু তার স্ত্রীকেই চিনতেন সারাক্ষণ।
সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানি এক প্রতিবেদনে দাবি করেছেন যে সুরজের মনের অবস্থা এখন ১৯৭৩ সালের সেই বিখ্যাত ‘অভিমান’ সিনেমার অমিতাভ বচ্চনের মতো হয়ে গেছে যিনি স্ত্রীর খ্যাতি দেখে হীনমন্যতায় ভুগতেন সব সময়।
সুরজের অঢেল টাকা থাকলেও মুম্বাইয়ের মাটিতে মৌনীকে সবাই এক নামেই চেনে কিন্তু তাকে কেউ পাত্তা দেয় না বলে তিনি মনে মনে বেশ বিরক্ত ছিলেন দীর্ঘ দিন ধরে।
সাম্প্রতিক কিছু রিপোর্টে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে যে সুরজ আর মৌনী নাকি গত ছয় মাস ধরেই আলাদা থাকছেন এবং তাদের মধ্যে এখন আর আগের মতো সেই টান নেই একদমই।
এমনকি সুরজ নাকি মৌনীর টাকা আর পরিচয় ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ হাসিল করেছেন এবং সম্পর্কের মাঝে অন্য কারো সাথে জড়িয়ে মৌনীকে ধোঁকা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।
এই দম্পতির বিয়ের ছবিগুলো এখন আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না দেখে নেটিজেনরা ধারণা করছেন যে তাদের এই দূরত্ব হয়তো অচিরেই আইনি বিচ্ছেদে রূপ নেবে খুব নিশ্চিতভাবে।
নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আজেবাজে আলোচনা বন্ধ করার জন্য মৌনী রায় গত বুধবার ইনস্টাগ্রামে এক বিশেষ বার্তা দিয়ে সবার কাছে কিছুটা আড়াল আর শান্তি চেয়েছেন খুব বিনীতভাবে। তিনি গণমাধ্যমগুলোকে অনুরোধ করেছেন যেন তাকে নিয়ে কোনো মিথ্যা গল্প বা গুজব না ছড়ানো হয় এবং এই কঠিন সময়ে তাকে যেন নিজের মতো থাকতে দেওয়া হয় সবসময়।
বিদেশের মাটিতে শুরু হওয়া এই প্রেম কেন শেষ পর্যন্ত মুম্বাইয়ের আলোয় টিকে থাকতে পারলো না, তা নিয়ে এখন ভক্তদের মনে অনেক প্রশ্ন আর কৌতূহল জমা হয়ে আছে প্রতি মুহূর্তে।






