চেতনা
বর্ষণমুখরতায় মহান মুক্তিযুদ্ধ

মেঘমল্লার। চলচ্চিত্রকার: জাহিদুর রহিম অঞ্জন
প্রেক্ষাপট ১৯৭১। মফস্বলের কলেজশিক্ষক নুরুল হুদা এক প্রবল বর্ষণের দিনে বন্দি হন পাকিস্তানি সেনাদের হাতে। স্ত্রী আসমা আর পাঁচ বছরের মেয়ে সুধা ঘরে তার ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটায়।
মহাকাব্যিক বৃষ্টির সেই দিনগুলোতেও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য নুরুল হুদার কাছে অসহনীয় হয়ে ওঠে শত্রুপক্ষের নির্যাতন ও অত্যাচারের কারণে। ছাপোষা মানুষ হিসেবে এতদিন যুদ্ধের সঙ্গে নিজেকে সরাসরি না জড়ালেও এবার তিনি মনেপ্রাণে হয়ে ওঠেন মুক্তিযোদ্ধা। মৃত্যুর আগে তার কণ্ঠে উচ্চারিত হয় একাত্তরের অবিসংবাদিত স্লোগান— ‘জয় বাংলা’।
প্রসিদ্ধ কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ছোটগল্প ‘রেইনকোট’-এর সারসংক্ষেপ এটি। এই গল্প অবলম্বনে ২০১৪ সালে মুক্তি পায় জাহিদুর রহিম অঞ্জনের ফিচার ফিল্ম ‘মেঘমল্লার’।
বাংলাদেশি এই চলচ্চিত্র জুড়ে বৃষ্টির রয়েছে প্রবল উপস্থিতি। আর তা দেশপ্রেমের চেতনাকে জাগ্রত করেছে একাধিক পন্থায়। শুরু থেকে সমাপ্তি পর্যন্ত ‘মেঘমল্লার’-এ একটানা বৃষ্টির দেখা মেলে, যা মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার নিজস্ব বিষণ্নতা ও স্তব্ধতার পাশাপাশি গণমানুষের অসহায়ত্বকেও ফুটিয়ে তুলেছে গভীরভাবে।
প্রতীকী অর্থেও বৃষ্টি এখানে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নুরুল হুদার বাসায় তার শ্যালক মিন্টু রেইনকোট ফেলে রেখে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। চলতি পথে বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা পাওয়ার জন্য ব্যবহৃত এই রেইনকোট একই সঙ্গে যুদ্ধের আতঙ্ক, জীবনের নিরাপত্তা আর গভীর আবেগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে বৃষ্টির স্বাভাবিক ও ছলাৎ ছলাৎ শব্দকে অঞ্জন যুদ্ধের গোলাগুলির আওয়াজের সঙ্গে দারুণ মুনশিয়ানায় মিশিয়ে দিয়ে দর্শকের জন্য এক অন্যরকম অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হওয়ার আবহ তৈরি করেছেন। প্রকৃত ইতিহাসের প্রতি নতুন প্রজন্মের আবেগ জাগিয়ে তোলার এবং চেতনা শাণিত করার দায়িত্ব বৃষ্টির মাধ্যমে বেশ ভালোভাবেই পালন করেছে চলচ্চিত্রটি।




