আগামীর সময়

পোল্ট্রি খামারিদের নিয়ে ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’

পোল্ট্রি খামারিদের নিয়ে ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’

শুটিংয়ে শাইখ সিরাজ। ছবি: চ্যানেল আই

গাজীপুরের কাপাসিয়ার বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠে তৈরি হয়েছিল এক ভিন্ন আবহ। উন্নয়ন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ-এর পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’ ধারণ করা হয়েছে সেখানে। গ্রামীণ প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্যের মাঝখানে হাজারো মানুষের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে রূপ দেয় এক উৎসবমুখর জনসমুদ্রে। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রায় ১০ হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এই আয়োজনে।

কৃষক, খামারিসহ বিভিন্ন শ্রেণির নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী—সবার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও ব্যতিক্রমধর্মী।

এবার কাপাসিয়াকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে বিশেষ প্রেক্ষাপট। শাইখ সিরাজ জানান, বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে পোল্ট্রি শিল্প এখন একটি শক্তিশালী ভিত্তি। দেশের ক্রমবর্ধমান আমিষ চাহিদা পূরণে এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পোল্ট্রি ও মৎস্য খামার বিশাল অবদান রেখেছে। কাপাসিয়া ও আশপাশের অঞ্চলে গড়ে ওঠা সফল খামারগুলো বহু তরুণকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। হাকিম আলীর মৎস্য খামার এবং মিসেস জামানের মুরগির খামারের মতো উদ্যোগ একসময় তরুণদের গ্রামে ফেরার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। যারা একসময় শহরমুখী হয়েছিল চাকরির আশায়, তারাই এখন গ্রামে থেকেই উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছে। তাদের হাত ধরেই ছোট পরিসরের কুটির উদ্যোগ আজ পরিণত হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বিশাল পোল্ট্রি শিল্পখাতে। এই সাফল্যের গল্পই এবারের আয়োজনের মূল অনুপ্রেরণা।

এই আয়েজনে ছিল গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী ও মজার সব খেলাধুলা, যা কৃষকদের স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মাঠজুড়ে প্রতিযোগিতার উত্তেজনা, দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর অংশগ্রহণকারীদের প্রাণখোলা হাসি পুরো পরিবেশকে করে তোলে আনন্দমুখর। শুধু বিনোদন নয়, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে কৃষকের সংগ্রাম, সাফল্য ও সম্ভাবনার কথা। খেলাধুলার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে থাকছে কৃষি, পোল্ট্রি, মৎস্য ও গ্রামীণ উন্নয়ন নিয়ে নির্মিত আকর্ষণীয় প্রামাণ্যচিত্র। সফল খামারি ও উদ্যোক্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নতুন সম্ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে এতে।

    শেয়ার করুন: