চিরবিদায় নিলেন ‘মাটির ময়না’ ও ‘কিত্তনখোলা’র শিল্প নির্দেশক তরুণ ঘোষ

চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষ
ঢাকা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিল্প নির্দেশক ও বরেণ্য চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষ আর নেই। গতকাল বুধবার রাত দেড়টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রয়াণকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। গুণী এই শিল্পীর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা এন রাশেদ চৌধুরী। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক পুত্রসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তরুণ ঘোষের জন্ম রাজবাড়ী জেলায়। তিনি ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক এবং পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে ভারতের বরোদার এম এস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে যোগ দেন এবং দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন শেষে ২০১২ সালে ‘কিপার’ পদ থেকে অবসর নেন।
চিত্রকলার পাশাপাশি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে শিল্প নির্দেশনায় তরুণ ঘোষের অবদান অনস্বীকার্য। আবু সাইয়ীদের ‘কিত্তনখোলা’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নরসুন্দর’ এবং এন রাশেদ চৌধুরীর ‘চন্দ্রাবতী কথা’ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রে তিনি কাজ করেছেন। তার সর্বশেষ কাজ এন রাশেদ চৌধুরীর মুক্তিপ্রতীক্ষিত সিনেমা ‘সখী রঙ্গমালা’।
শুদ্ধ শিল্পচর্চায় তরুণ ঘোষ ছিলেন এক নিভৃতচারী পথিকৃৎ। তার অঙ্কিত বিখ্যাত ‘বেহুলা’ সিরিজ চিত্রকলা জগতে বিশেষভাবে সমাদৃত এবং এই কাজের জন্য তিনি ‘এশিয়ান আর্ট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। তার প্রয়াণে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।




